মুকসুদপুরে ড্রেনের চার লাখ টাকার ইট বিক্রি করলেন শাহ আলম

মুকসুদপুরে ড্রেনের চার লাখ টাকার ইট বিক্রি করলেন শাহ আলম

সরদার মজিবুর রহমান / মেহের মামুন (গোপালগঞ্জ) :
মুকসুদপুর উপজেলার গোহালার বামনডাঙ্গা গ্রামে বামনডাঙ্গা, বাঘাদিয়া ও খাস বাঘাদিয়া মৌজায় ইরি ব্লকে বিএডিসি ও এডিপি’র অর্থায়ণে নির্মাণ করা ২ কিলোমিটার দীর্ঘ পানি সেঁচের পাকা ড্রেন ভেঙ্গে ইট তুলে বিক্রি করেছে বামনডাঙ্গা গ্রামের বাবু শেখের ছেলে শাহ আলম মুন্সী। সে ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদ্য নির্বাচিত কোষাধ্যক্ষ হিসেবে নেতেৃত্ব দিচ্ছেন। আনুমানিক ৫০হাজার ইট যার বাজার মূল্য চার লাখ টাকা। তিনি এই ইট উত্তোলন করে বিক্রি করেছেন এবং তার বাড়িতে প্রায় চার হাজার ইট স্তুপ করে রির্জাভ রেখেছেন। এ বিষয়ে বামনডাঙ্গা গ্রামের আমজাদ হোসেন শেখের ছেলে রিমাচ শেখসহ এলাকার ৩০ জন কৃষক মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা কৃষি অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। এছাড়াও শাহ আলমের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, খুনের মামলা, জমি দখলসহ প্রায় ৩০টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এছাড়াও তিনি বামনডাঙ্গা গ্রামের সানি শেখের ছেলে জুলহাস শেখের থেকে বিশুদ্ধ পানির টিউবওয়েল দেয়ার কথা বলে ১৮ হাজার টাকা নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরজমিন দেখা যায়, ইরি ব্লকের ৭’শ বিঘা জমিতে মৌসুমে এই ড্রেন দিয়ে সেঁচ দেয়া হতো। ড্রেন না থাকার কারনে এই ব্লকে এখন ইরি ধানের চাষাবাদ বন্ধ হয়ে গেছে। প্রায় পাঁচ শতাধিক কৃষক জমিতে ব্লকে সেঁচ ব্যবস্থা না থাকায় কৃষক অন্য চাষাবাদ করছেন। প্রতি ইরি মৌশুমে প্রায় ২৮ হাজার মন ধান উৎপাদন হতো এই ব্লক থেকে। সেচ মৌসুমে চারটি ডাবল মেশিন দিয়ে সেঁচ কাজ চালানো হতো। ড্রেন ভেঙ্গে ফেলায় চাষাবাদ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। ইরি ধানের ব্লক একদমই বন্ধ হয়ে গেছে। সেঁচ দেয়ার কোন উপায় না থাকায় ব্লক বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে এলাকার কৃষকরা।
অভিযোগকারী আমজাদ হোসেন শেখের ছেলে রিমাচ শেখ জানান, শাহ আলম একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী, সে তালিকাভুক্ত রাজাকারের সন্তান। সে বামনডাঙ্গা ব্লকের সরকারী ৩ কিলোমিটার ড্রেনের ইট উত্তোলন করে বিক্রি করেছে, এখনো তার বাড়িতে ড্রেনের উত্তোলিত ইট রয়েছে। কিছুদিন পূর্বে আমার ৩টি পুকুরের প্রায় চার লাখ টাকার মাছ জোর পূর্বক ধরে নিয়ে যায়। এর কিছুদিন পরে আমার তিনটি পুকুরে মোট তিনবার বিষ দিয়ে মাছ মেরে ফেলেছে। এ বিষয়ে সিন্দিয়াঘাট ফাড়িতে মৌখিকভাবে জানানো আছে। সে একাধিক মামলার আসামী থাকা সত্বেও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়। আলমগীর হত্যা মামলা এখনো হাইকোটে চলমান। এছাড়াও ৩২৬ ধারার কয়েকটি মামলা তার বিরুদ্ধে চলমান রয়েছে।
এই ব্লকের প্রতিষ্ঠাতা ম্যানেজার আওলাদ আলী জানান, আমি প্রায় ৫ বছর ব্লকের ম্যানেজার ছিলাম। আমার ব্যক্তিগত কারনে ব্লক চালানো সম্ভব না হওয়ায় ব্লক ম্যানেজার হিসাবে নুরুজ্জামান শেখকে দায়িত্ব দেয়া হয়। সে প্রায় ৫ বছর ব্লক চালিয়ে ছিলো। পরবর্তীতে নুর মুহাম্মদ মাষ্টার ম্যানেজারের দায়িত্ব নেন। বছর পরেই জোর পূর্বক শাহালম ব্লক ছুটিয়ে নিয়ে সে ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করে। তিনি তার খেয়াল খুশি মতো ব্লক চালায়। পরবর্তীতে সে ব্লকের ড্রেনের ইট উত্তোলন করে বিক্রি করে এবং তার বাড়িতে কিছু ইট নিয়ে যায়। আমরা তাকে বাধা দিলে সে বলে বিএডিসি তাকে ইট তুলতে বলেছে, এখানে আরসিসি ঢালাই দিয়ে ড্রেন নির্মাণ হবে। গত ২ বছর ধরে ব্লক বন্ধ থাকায় এখানকার ৭শ বিঘা জমিতে ইরি আবাদ বন্ধ রয়েছে। এতে করে প্রায় ৫শ কৃষক পরিবার নাজেহাল অবস্থায় দিন পার করছে। এজন্য উপজেলা কৃষি অফিসার বরাবর অভিযোগ ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে কপি দিয়েছি। এই ব্লকের চাষাবাদকারীরা সকরকারের কাছে শাহালমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে।
এ বিষয়ে মুকসুদপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মনিরুজ্জামান জানান, এটা আমাদের এক্তিয়ারভুক্ত নয়, এটা বিএডিসির অধীনে। এ বিষয়ে বিএডিসি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
মুকসুদপুর উপজেলা বিএডিসি সাব এসিট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার ইকরামুল কবিরের সাথে মুঠোফোনে যোগযোগ করলে তিনি জানান, এই ব্যপারে আমরা অবগত নই। আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ আসেনি। আমরা শাহালমকে ইট উত্তোলন করতে বলিনি। আমাদের কাছে অভিযোগ আসলে আমরা আমলে নিবো।
এবিষয়ে অভিযুক্ত শাহালম জানান, আমি দীর্ঘদিন ড্রেনের ম্যানেজার ছিলাম, ড্রেন ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় ড্রেনের ইট উত্তোলন করে আমার বাড়িতে রেখেছি। আমি কোন ইট বিক্রি করিনি শত্রুতামূলক কিছু লোক আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে।

Share This Post