মাঠে-শ্রেণিকক্ষে বন্যার পানি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে সংশয়

মাঠে-শ্রেণিকক্ষে বন্যার পানি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে সংশয়

ফরিদপুরে মাঠে-শ্রেণিকক্ষে বন্যার পানি ও ঝুঁকিপূর্ণ ৫৭ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে সংশয় দেয়া দিয়েছেফরিদপুরে ৫৭ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। বন্যার পানি ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ৫৫ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দুটি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় সরকার ঘোষিত সময়ে খুলতে পারছেন না কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ৪৫ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে ও পাঁচটির শ্রেণিকক্ষে বন্যার পানি এবং পাঁচটি বিদ্যালয় ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সরকার ঘোষিত নির্দিষ্ট তারিখে খোলা সম্ভব হচ্ছে না। একইভাবে জেলার পদ্মারচর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ফেরদৌসি মোহন মিয়া জুনিয়র উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠেও পানি জমে আছে। ফলে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

ফরিদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, ফরিদপুর সদর, ভাঙ্গা, সদরপুর, চরভদ্রাসন, বোয়ালমারী ও মধুখালী উপজেলার ৪৫ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে ও পাঁচটির শ্রেণিকক্ষে পানি রয়েছে। এছাড়া সদর, চরভদ্রাসন ও আলফাডাঙ্গা উপজেলার পাঁচটি বিদ্যালয় মারাত্মক ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে।

পদ্মা ও মধুমতীর ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে আলফাডাঙ্গা উপজেলার পাঁচুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাজরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পশ্চিম চর নারাণদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরভদ্রাসন উপজেলার সদর ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গী গ্রামের বালিয়াডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চরহরিরামপুর ইউনিয়নের সবুল্লাহ শিকদারের ডাঙ্গী গ্রামের সবুল্লাহ শিকদারের ডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
বুধবার (৮ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, ফরিদপুর সদর উপজেলার পদ্মা নদী সংলগ্ন গদাধরডাঙ্গি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে হাঁটু পানি জমে আছে। বড় রাস্তা থেকে স্কুলে যাওয়ার পথটিও পানিতে প্লাবিত। পাশের একটি ভবনে প্রধান শিক্ষক নাজমুন নাহার লাবনীসহ শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অ্যাসাইনমেন্ট জমা নিচ্ছেন। অনেক শিক্ষার্থীরা পানিতে বুক পর্যন্ত ভিজে অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে আসছে।

ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক নাজমুন নাহার লাবনী জানান, স্কুলটি পদ্মা নদী তীর সংলগ্ন। ফলে বন্যার শুরুতে স্কুলে পানি ঢুকে পড়ে। পানিতে ভিজে আমরা পাঁচজন শিক্ষক ও ১৬৩ জন শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাই। ১২ সেপ্টেম্বর স্কুল খোলা একেবারেই অসম্ভব। পানির মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে শিশুদের ক্লাসে আসতে বলতে পারি না।
চরভদ্রাসন উপজেলার গাজীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. ইয়াকুব আলী জানান, এ ইউনিয়নের রমেশ বালাডাঙ্গি গ্রামের মণ্ডলডাঙ্গি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি উঠেছে। পানি না কমলে ওই স্কুলে ক্লাস শুরু করা সম্ভব হবে না।

ফরিদপুর সদরের নর্থ চ্যানেল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোস্তাকুজ্জামান জানান, ইউনিয়নের পদ্মারচর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ফেরদৌসি মোহন মিয়া জুনিয়র উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠেও পানি জমে রয়েছে। এ অবস্থায় সেখানে ক্লাস নেওয়া সম্ভব হবে না।
এ বিষয়ে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, পানিবন্দি স্কুলগুলোর অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এখন প্রায় প্রতিদিন বন্যার পানিও কমতে শুরু করেছে। আশা করা হচ্ছে অল্প কিছু দিনের মধ্যে স্কুলগুলো থেকে পানি নেমে যাবে। পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্কুলগুলো ক্লাস উপযোগী করে তোলা হবে।

Share This Post