মহামারি করোনার সময়ে সবাই আতঙ্কে এর মধ্যেই ভয়াবহ রোগ ডেঙ্গু

মহামারি করোনার সময়ে সবাই আতঙ্কে এর মধ্যেই ভয়াবহ রোগ ডেঙ্গু

মহামারি করোনার সময়ে সবাই আতঙ্কে এর মধ্যেই বেড়েছে মশার উপদ্রব। আর মশার কামড়ে দেখা দিচ্ছে আরেক ভয়াবহ রোগ ডেঙ্গু। সাধারণত ডেঙ্গু হলে সাধারণ জ্বরের চেয়ে বেশি সাবধানতা প্রয়োজন।এ মুহূর্তে আমাদের প্রধান কাজ হচ্ছে ভাইরাস সংক্রমণ কমিয়ে আনা। যেন নতুন কারো ডেঙ্গু রোগ না হয়। অর্থ্যাৎ সবাই মিলে মশা মারতে হবে। মশা যাতে জন্মাতে না পারে সেজন্য প্রজনন স্থল ধ্বংস করতে হবে। মশা যাতে কামড়াতে না পারে সেদিকে সর্বোচ্চ নজর দিতে হবে।করোনাকালে ডেঙ্গুজ্বর সম্পর্কে আরো বেশি জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে। এক্ষেত্রে আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত, এডিস মশাকে কোনোভাবেই আবাস গাড়তে না দেওয়া।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আরো ২৬৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি হাসপাতাল ক্লিনিকে ২৪৮ জন এবং ঢাকার বাইরের হাসপাতালে ১৬ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হন।
রাজধানীসহ সারাদেশে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭২ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এদের মধ্যে ঢাকার ৪১টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ১ হাজার ২৫ জন ও ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ৪৭ জন ভর্তি রয়েছেন।

অন্যদিকে চিরুনি অভিযানে এডিস মশা (ডেঙ্গু) নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। বুধবার (৪ আগস্ট) খিলগাঁওয়ের পিডব্লিউডি কলোনিতে মশা নিধন কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে মত বিনিময়কালে তিনি পাশাপাশি তিনি ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সবাইকে সচেতন এবং দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।জনগণ সচেতন না হলে এক কোটি ২০ লক্ষ জনবসতির এই শহরে এডিস নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম অত্যন্ত কষ্টসাধ্য উল্লেখ তিনি বলেন, তারপরও আমরা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তিনি বলেন, আমরা যদি নিজেরা নিজেদের এলাকা পরিষ্কার-পরিছন্ন না রাখি, উৎসগুলো নিধন না করি, তবে এটা (ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ) অত্যন্ত কঠিন। তারপরও আমরা কাজ করে চলেছি। আমরা আশাবাদী, এই চিরুনি অভিযানের ফলে ডেঙ্গু রোগ বা এডিস মশার বিস্তার আমরা নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারব।
মেয়র আরও বলেন, আমরা এখন কঠোর হচ্ছি, জরিমানা করছি। তারপরও আমরা দায়িত্বহীনতা ও উদাসীনতা লক্ষ্য করছি। এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা যদি সবাই দায়িত্বশীল ভাবে কাজ করি তাহলে এটার বিস্তার এত দূর হতে পারে না। আমরা এখন ঘরে ঘরে যাচ্ছি। যত তথ্য পাচ্ছি, সবগুলোই আমরা নির্দিষ্টভাবে সেখানে গিয়ে কাজ করছি।

এর আগে মেয়র টিটি পাড়া পাম্প স্টেশন সংলগ্ন মাণ্ডা খালে বৃক্ষরোপণ করেন। পরে তিনি মতিঝিল টি অ্যান্ড টি কলোনিতে মশক নিয়ন্ত্রণ, সেগুনবাগিচা ও ইস্কাটন গার্ডেন রোডে নর্দমা পরিষ্কার কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।

এ সময় আরও মেয়র তাপসের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আহাম্মদ, প্রধান প্রকৌশলী মো. রেজাউর রহমান, সচিব আকরামুজ্জামান, সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তারা, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা রাসেল সাবরিন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাকের এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডসমূহের কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত আসনের নারী কাউন্সিলররা।

জেনে রাখা দরকার ডেঙ্গু জীবাণুবাহী মশা কামড়ানোর পাঁচ-সাত দিনের মধ্যে সাধারণত রোগের উপসর্গ দেখা যায়। কিছু কিছু ডেঙ্গু রোগী কোনো উপসর্গ ছাড়া সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠে।বেশিরভাগ ডেঙ্গু জ্বরই সাত দিনের মধ্যে সেরে যায় এবং অধিকাংশই ভয়াবহ নয়। প্রয়োজন যথেষ্ট পরিমাণ পানি পান, বিশ্রাম ও প্রচুর পরিমাণ তরল খাবার গ্রহণ করা। শরীরে হাড়ভাঙা বেদনা নিয়ে এ জ্বর হয়। এ কারণে এ জ্বরের নাম হয়েছে ডেঙ্গু জ্বর। বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, নালা, পানির ট্যাপের আশপাশের এলাকা, পানির পাম্প, ফ্রিজ বা এসির পানি জমার স্থান, পানির বদনা, বালতি, হাইকমোড, আইসক্রিম বক্স, প্লাস্টিক বক্স, ডাবের খোসা, টায়ার ইত্যাদি সেসব জায়গা চিহ্নিত করে একদিন পরপর পরিষ্কার করতে হবে। এছাড়া মশারি টানিয়ে ঘুমানো উচিত। ডেঙ্গু জ্বরে যে উপসর্গগুলো দেখা দিলে অবহেলা না করে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

Share This Post