ভিকারুননিসার অধ্যক্ষের ফোনালাপ ফাঁস: ভিত্তিহীন ও সুপার এডিট করা দাবি কামরুন নাহারের

ভিকারুননিসার অধ্যক্ষের ফোনালাপ ফাঁস: ভিত্তিহীন ও সুপার এডিট করা দাবি কামরুন নাহারের

৪ মিনিট ৩৯ সেকেন্ড ধরে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কামরুন নাহার এবং অভিভাবক ফোরাম নেতা মীর সাহাবুদ্দিন টিপুর মধ্যে চলা ওই কথোপকথন এখন টক অব দ্যা টাউন।
ঐ কথোপকথন নিয়ে বিব্রত ভিকারুননিসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এর মাধ্যমে ভিকারুননিসার দীর্ঘদিনের সুনাম ও ঐতিহ্যের ওপর আঘাত এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন কেউ কেউ।ফাঁস হওয়া এই অডিও কথোপকথনকে ভিএনএসসির দীর্ঘদিনের সুনাম ও ঐতিহ্যের ওপর আঘাত বলে মন্তব্য করেছেন গভর্নিং বোর্ডের সদস্যরা। এই ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ফাঁস হওয়ায় এখন সমালোচনার ঝড় বইছে। ফোনালাপের সময় অধ্যক্ষ কামরুন নাহার কথা বলার এক পর্যায়ে একজন অভিভাবককে বলেন, ‘আমি বালিশের নিচে পিস্তল রাখি। কোনো … বাচ্চা যদি আমার পেছনে লাগে আমি কিন্তু ওর পেছনে লাগবো, আমি শুধু ভিকারুননিসা না, আমি দেশছাড়া করবো।’ তবে এটি ভিত্তিহীন ও সুপার এডিট করা বলে মন্তব্য করেছেন কলেজের প্রিন্সিপাল কামরুন নাহার। এবারের ভর্তির লটারির সময়ও তারা ১২০ সিট খালি রেখেছে। এছাড়া কিছু শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি। সবমিলিয়ে প্রায় ১৫০-৬০ সিট খালি আছে। মূলত সেগুলোতে অবৈধ ভর্তি করতে তারা আমাকে অনেক আগে থেকে চাপ দিচ্ছে। আমি তাদের কথা না শোনায় যত কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন কিনা-জানতে চাইলে তিনি বলেন, আইনজীবীদের সাথে পরামর্শ করছি। এ বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেবো। কামরুন নাহার বলেন, আমার ইতিহাসে অন্যায়ের কোনো দাগ নেই। আমার মুখ দিয়ে কখনো খারাপ শব্দ আসেনা। আমি প্রিন্সিপাল কোনো বিষয় না। এখানে যে প্রিন্সিপাল আসবেন, সেই ওদের দ্বারা অত্যাচারিত হবেন, লাঞ্চিত হবেন। এটা একটা সংঘবদ্ধ দল।

অধ্যক্ষ অভিভাবকদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন বলে অভিযোগ করেন এই অভিভাবক মীর সাহাবুদ্দিন টিপু। ৪ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডের অডিওতে অধ্যক্ষের সঙ্গে অভিভাবক ফোরামের নেতা মীর সাহাবুদ্দিন টিপুর মধ্যে চলা ঐ কথোপকথনে সেই অডিও ফোনালাপে এমনকিছু গালাগালি রয়েছে যা ছাপার অযোগ্য।
কামরুন নাহার বলেন, ‘লকডাউনের মধ্যে আমি অফিস করি কি না করি কার বাপের কী? আমি রাজনীতি করা মেয়ে, আমি কিন্তু ভদ্র না।’ কামরুন নাহার ফোনালাপে আরো বলেন, ‘আমি বলে দিলাম, আমি শিক্ষক। আমি প্রিন্সিপাল। ঐ … পোলা যদি আমার পেছনে লাগে আমি কিন্তু তার গোষ্ঠী উদ্ধার করে ছাড়বো।’
আর কোনো … বাচ্চা তদন্ত কমিটি করলে আমি কিন্তু দা দিয়ে কোপাবো তারে সোজা কথা। আমার বাহিনী আছে। আমার ছাত্রলীগ আছে, যুবলীগ আছে, আমার যুব মহিলা লীগ আছে।
কিচ্ছু লাগবে না।

এ বিষয়ে মীর সাহাবুদ্দিন টিপুর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘অধ্যক্ষ আমার পূর্ব পরিচিত। এজন্য মাঝে মাঝে তার সঙ্গে আমার ফোনে কথা হতো। গত শুক্রবার শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি মওকুফের বিষয়ে তাকে আমি ফোন করি। এ সময় তিনি অভিভাবক প্রতিনিধি ও সাধারণ অভিভাবকদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।’

ভিকারুননিসার একাধিক শিক্ষকের অভিযোগ, এই প্রতিষ্ঠানের বেশ কিছু অভিভাবক ভর্তি বাণিজ্যসহ শিফট ও ব্রাঞ্চ পরিবর্তন করে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে থাকেন। এসব কারণে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কমিটি এবং অভিভাবক ফোরামের সুবিধাভোগী ব্যক্তিরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তারা অধ্যক্ষকে যখন-তখন অপমান-অপদস্থ ও গালিগালাজ করাসহ নানা হুমকি দিয়ে আসছিলেন। বর্তমানে একটি ‘এডিটেড অডিও ক্লিপ’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে অধ্যক্ষকে বিপাকে ফেলার চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন এই শিক্ষকরা। অভিভাবক প্রতিনিধিরাও নানা অজুহাতে অর্থ হাতিয়ে থাকেন। তবে দায়িত্ব নেয়ার পর এই প্রতিষ্ঠানটিকে ঘিরে চলা এসব অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করে দেন অধ্যক্ষ কামরুন নাহার। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বেইলি রোডের মূল ব্রাঞ্চ, আজিমপুর, ধানমন্ডি ও বসুন্ধরা ব্রাঞ্চ মিলে প্রায় ৮০০ শিক্ষক রয়েছেন। তার মধ্যে স্কুল পর্যায়ের পূর্ণকালীন ৩৩৪ জন ও কলেজ পর্যায়ে ৭০ জন শিক্ষক রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫৩ জন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। বাকিরা খণ্ডকালীন শিক্ষক। শিক্ষক-কর্মচারীদের মাসিক বেতন বাবদ প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয় হয়।

কামরুন নাহার শিক্ষা ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা। গত বছরের ২৯ ডিসেম্বরে তাকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। কামরুন নাহারের পূর্বেও এই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা ক্যাডারের একজন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্যর্থতার কারণে ঐ অধ্যক্ষকেও প্রত্যাহার করা হয়েছিল।

Share This Post