বৈশ্বিক সংকটেও আশার খবর

বৈশ্বিক সংকটেও আশার খবর

এহছান খান পাঠান:
ডলার সংকটের মধ্যে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স অর্থনীতিতে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। বিদায়ী অর্থবছর রেমিট্যান্স নিয়ে যে শঙ্কা দেখা দিয়েছিল নতুন অর্থবছরের প্রথম মাসেই তা অনেকটাই কেটে গেছে। সদ্য বিদায়ী জুলাই মাসে প্রবাসীরা দেশে প্রায় ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার বা ২০৯ কোটি ৬৯ লাখ ১০ হাজার ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৯ হাজার ৮৫৬ কোটি টাকা) রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। এটি একক মাস হিসাবে গত ১৪ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং গত অর্থবছরের জুলাইয়ের তুলনায় ১২ দশমিক ৫৬ শতাংশ বেশি।
কোভিড মহামারি শেষে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। বাংলাদেশেও পড়েছে এর প্রভাব। জ্বালানি ও বৈদেশিক আমদানির ব্যয় মেটাতে গিয়ে অনেক দেশেরই রিজার্ভে টান পড়েছে। এই শঙ্কা রয়েছে বাংলাদেশেও। এমন প্রেক্ষাপটে এটি আশার খবর। সবাই যার যার অবস্থান থেকে সাশ্রয়ী হলে রিজার্ভের ওপর চাপ ও ডলার সংকট কেটে যাবে বলে আমাদের বিশ্বাস। করোনাভাইরাস মহামারি যেভাবে সামাল দিয়েছে বাংলাদেশ, যথাযথ পরিকল্পনায় এই সংকটও সেভাবে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে আমরা মনে করি।
বাংলাদেশে যে রিজার্ভ আছে তাতে ছয়মাসেও কোন সমস্যা হবে না। পেট্রোল-অকটেনের মজুদও রয়েছে পর্যাপ্ত। তারপরও বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে সবাইকে সাশ্রয়ী হতে হবে, যাতে সঙ্কট সৃষ্টি না হয়। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সকলকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানী ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় নেওয়া নানা কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে আইএমএফ এর কাছে ইতোমধ্যেই কয়েক বিলিয়ন ডলার ঋণ চেয়েছে বাংলাদেশ। অর্থনীতিবিদরা একে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। এতে ডলার সংকট কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে তাদের বিশ্বাস। এখন যেকোন উপায়ে বৈশ্বিক সংকটময় পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে, এটাই একমাত্র ব্রত হওয়া দরকার।

(এহছান খান পাঠান, নির্বাহী সম্পাদক, দৈনিক অর্থনীতির কাগজ)

Share This Post