বিশ্ববাজারে পোশাক রপ্তানিতে একেবারে কাছাকাছি রয়েছে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনাম

বিশ্ববাজারে পোশাক রপ্তানিতে একেবারে কাছাকাছি রয়েছে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনাম

বিশ্ববাজারে পোশাক রপ্তানিতে ২০২০ সাল শেষে বাংলাদেশের অবস্থান তিন নম্বরে। বেশ কয়েক বছর থেকে বিশ্ববাজারে পোশাক রপ্তানিতে একেবারে কাছাকাছি রয়েছে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনাম। করোনাভাইরাস মহামারীর টালমাটাল অবস্থার মধ্যে এক দশক পর পোশাক রপ্তানিতে প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনামের কাছে দ্বিতীয় অবস্থান হারাল বাংলাদেশ। বরাবরের মত শীর্ষে রয়েছে চীন। ২০২০ সালে মহামারী শুরুর পর এপ্রিল, মে ও জুন মাসে লকডাউনের কারণে বাংলাদেশে রপ্তানি কিছুটা বাধাগ্রস্ত হলেও ভিয়েতনামে তেমনটা হয়নি। ভিয়েতনামে মহামারীর ধাক্কার কারণে উৎপাদন ও রপ্তানি খুব বেশি একটা বাধাগ্রস্ত হয়নি। ২০১০ সালে তৈরি পোশাকের বিশ্ব রপ্তানি বাজারে ৪ দশমিক ২ শতাংশ অংশীদারিত্ব অর্জন করে তুরস্ককে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় অবস্থা এসেছিল বাংলাদেশ। এরপর থেকে এই অব্সথান ধরে রেখেছিলেন দেশের প্রধান এই রপ্তানি খাত।বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা- ডব্লিউটিও প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড ট্রেড স্ট্যাটিসটিক্যাল রিভিউ ২০২১’ এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিযোগীর চেয়ে পিছিয়ে পড়ার বিষয়ে অবশ্য দুশ্চিন্তার কিছু দেখছেন না তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠনের নেতা ফারুক হাসান।

অন্যদিকে মহামারী নিয়ন্ত্রণের লকডাউনের মধ্যে কারখানা খুলে দেওয়ায় কর্মস্থলে ফিরতে বড় বিড়ম্বনার মুখে পড়ে পোশাককর্মীরা। বাংলাদেশে রপ্তানি আয়ের অধিকাংশই আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। এই শিল্প মূলত ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর কেন্দ্রিক হলেও প্রায় অর্ধ কোটি শ্রমিক ছড়িয়ে আছে সারাদেশে। দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষ কর্মস্থলে যোগ দিতে ঢাকায় ফিরেছেন। আর সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধের মধ্যে রাজধানীতে ফেরা মানুষকে পোহাতে হচ্ছে নানা ভোগান্তি। সেই সঙ্গে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া।কারাখানা খোলার ঘোষণার পর সড়কে পর্যাপ্ত গাড়ি না থাকায় পায়ে হেঁটে কর্মস্থলে গেছেন পোশাক শ্রমিকরা। হঠাৎ করে কারখানা খোলার ঘোষণা দেওয়ায় কষ্ট করে হেঁটে কাজে যেতে হচ্ছে। বাড়ি থেকে আসার সময় দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। আজ কাজে যাওয়ার সময় আরেক দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।

সময়মতো গাড়ি না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন একজন শ্রমিক বলেন, সব কষ্ট শুধু শ্রমিকদের। গরীব বলেই আমাদের এমন কষ্টের মধ্যে পড়তে হয়। মন চাইলে কারখানা বন্ধ, আবার নিজেদের প্রয়োজনে একদিনের সিদ্ধান্তে কারখানা খোলা। সরকার, নীতি নির্ধারক, কারখানার মালিকরা কেউ আমাদের জন্য কথা বলার কেউ নেই।

গতকাল দেশের দক্ষিণ অঞ্চলের প্রবেশপথ ঢাকার বাবুবাজার ব্রিজ, গাবতলী, আমিনবাজার, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, রিকশা ও পিকআপ ভ্যানে করে মানুষ রাজধানীতে ঢুকছে। দলে দলে হেঁটেও ঢাকায় ঢুকছে মানুষ। সর্বত্রই গিজগিজ করছে মানুষ। রাজধানী শহর ঢাকার দিকে ছুটে চলা এসব মানুষের মাথায়, ঘাড়ে ও হাতে বড় বড় ব্যাগ আর চোখে-মুখে অবর্ণনীয় ভোগান্তির ছাপ। ছিলো পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের ভয়ও। ঢাকায় ঢোকার জন্য তারা পাঁচ/ছয় বার যানবাহন বদলেছে। ক্ষেত্র বিশেষে এই সংখ্যাটা দশের অধিকও। এদিকে গার্মেন্টস শ্রমিকদের যাতায়াতের সুবিদার্থে গতকাল রাত থেকেই সারাদেশে গণপরিবহন চালু হয়েছে।
শ্রমিকদের পরিবহনের জন্য যাত্রীবাহী লঞ্চ আজ রবিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলাচলের অনুমতি দিয়েছে সরকার।

কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্প কারখানাগুলো চালু হচ্ছে আজ রবিবার (১ আগস্ট) থেকে। এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে অনুসরণের জন্য ১৫টি শর্ত মানতে হবে কারখানা মালিকদের। গতকাল শনিবার (৩১ জুলাই) রাতে গার্মেন্টস মালিকদের এ ব্যাপারে একটি চিঠি দিয়েছে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ।
কারখানায় প্রবেশের সময় সব শ্রমিক-কর্মচারীর হাত ধৌতকরণ বা জীবাণুমুক্তকরণ নিশ্চিত করা। হাত ধৌতকরণ বা জীবাণুমুক্তকরণের প্রতিটি স্থান/পানির কলের মধ্যে ন্যূনতম এক মিটার দূরত্ব নিশ্চিত করা। হাত ধৌতকরণ এবং জীবাণুমুক্তকরণের সঠিক পদ্ধতিগত নির্দেশাবলী দৃষ্টিগোচর স্থানে প্রদর্শন করা (যেমন: উভয়হাত কমপক্ষে২০ সেকেন্ড ধরে ধৌত করা)। হাত ধোয়ার পর শুকানোর জন্য ড্রায়ার বা টিস্যু পেপারের ব্যবস্থা রাখা। সার্বক্ষণিক মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করা। কারখানা খোলা এবং ছুটির সময়ে গেট বা কারখানার অভ্যন্তরে শ্রমিকদের ভিড় এড়ানোর লক্ষ্যে কারখানায় প্রবেশ ও কারখানা ত্যাগ করার বিষয়ে Staggered Time নির্ধারণ করার ওপর জোর দেওয়া। সম্ভাব্য ক্ষেত্রে কর্মঘণ্টা বিভিন্ন শিফটে নির্ধারণ করা।কারখানায় প্রবেশের সময় শ্রমিকদের দেহের তাপমাত্রা পরিমাপ করা অথবা প্রয়োজনে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করা। কর্মস্থলে (কারখানা বা প্রতিষ্ঠান) সহজে দৃষ্টিগোচর হয় এমন স্থানে হাত পরিষ্কার সামগ্রী রাখা এবং নিয়মিত সেগুলো পুনর্ভর্তি করা। পর্যাপ্ত সংখ্যক সাবানের ব্যবস্থাসহ প্রধান ফটকে হাত ধৌতকরণ-স্থান নির্দিষ্ট করা।শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে গমনাগমন পথের ব্যবহার নিশ্চিত করা (রশি/শিকল দিয়ে পুরুষ ও নারী শ্রমিকদের জন্য আলাদা লাইন করে কারখানায় প্রবেশ এবং বাহির নিশ্চিত করতে হবে।. ফ্লোরে বা কাজের স্থানগুলোতে ভিড় এড়িয়ে চলতে শ্রমিকদের উৎসাহিত করা। দুপুরের খাবারের বিরতি বা অন্যান্য বিরতি যথাসম্ভব Staggered Time এ করা।. কারখানার বাইরে সভা সমাবেশ, গণপরিবহন এবং ভিড় এড়িয়ে চলতে শ্রমিকদের উৎসাহিত করা। করোনা সংক্রমণের উপসর্গ সম্পর্কে শ্রমিক-কর্মচারীদের অবহিত করা।

Share This Post