বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেলের চাহিদা আগামী বছরের শেষ দিকে আগের অবস্থায় ফিরে আসার পূর্বাভাস

বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেলের চাহিদা আগামী বছরের শেষ দিকে আগের অবস্থায় ফিরে আসার পূর্বাভাস

অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বাণিজ্য চাঙ্গা রাখতে উত্তোলন বাড়চ্ছে রাশিয়া। জ্বালানি তেল উত্তোলনে শীর্ষ দেশ যুক্তরাষ্ট্র। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে উত্তোলনের দিক থেকে সৌদি আরবকে ছাড়িয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ স্থানে উঠে এসেছে দেশটি । এক্ষেত্রে শীর্ষ তালিকায় তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে সৌদি আরব। জানুয়ারি-মে পর্যন্ত রাশিয়া গড়ে দৈনিক ১ কোটি ১ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন করেছে এবং বছরের দ্বিতীয়ার্ধেও দেশটির অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলনে ঊর্ধ্বমুখিতা অব্যাহত থাকবে। রাশিয়ার নির্বাহী প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক। তিনি বলেন, আগস্ট থেকে রাশিয়া দৈনিক এক লাখ ব্যারেল করে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন বাড়াবে। চলতি বছরের মধ্যেই তেল উত্তোলনে মহামারী-পূর্ব প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরে যেতে চায় দেশটি।
তবে উত্তোলন ক্রমাগত বাড়ানোর পরিকল্পনা থাকলেও নতুন প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েছে রাশিয়ার উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। করোনাসহ নানা কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া তেল কূপগুলো নতুন করে চালু করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাশিয়ার বড় তেলক্ষেত্রগুলোতেও তেল কূপসংক্রান্ত জটিলতা দেখা দিয়েছে। এসব তেল কূপ নতুন করে চালু করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। কূপ থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন পুরোপুরিভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

অয়েলপ্রাইসডটকমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশগুলোর জোট ও জোট নিয়ে গঠিত ওপেক প্লাস এপ্রিলে দৈনিক ৯৭ লাখ ব্যারেল করে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন কমানোর বিষয়ে একমত হয়। পেক প্লাস জ্বালানি তেল উত্তোলন হ্রাসের সিদ্ধান্ত না নিলে ৪০-৪৫ দিনের মধ্যেই পণ্যটির বৈশ্বিক মজুদ পরিপূর্ণ হয়ে যেত।
সৌদি আরব ও রাশিয়া ওপেকের সদস্যদের জন্য তেল সরবরাহের একটি পরিকল্পনা তৈরি করলেও তা সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) কারণে বাস্তবায়ন করতে পারছে না। সৌদি আরব ও রাশিয়া আগামী মাস (আগস্ট) থেকে দৈনিক তেল উত্তোলনের পরিমাণ চার লাখ ব্যারেল বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছিল। এতে বাগড়া দেয় ইউএই। এই দেশটিরও চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে দৈনিক জ্বালানি তেল সরবরাহের পরিমাণ ২০ লাখ ব্যারেল বাড়ানোর কথা থাকলেও সেখান থেকে তারা আপাতত সরে এসেছে। বিশ্বজুড়ে কোভিড-১৯–এর কারণে সরবরাহের ক্ষেত্রে যে প্রতিবন্ধকতা দেখা দিয়েছিল তা দূর হওয়ার পাশাপাশি দেশে দেশে দ্রুত অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া গতি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ছে।
চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ার পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ বাড়ানোর গুঞ্জন চলছে। কিন্তু রপ্তানিকারক দেশগুলোর বৈশ্বিক জোট ওপেক এবং এর বাইরের রপ্তানিকারক দেশগুলোর তেলমন্ত্রীরা এখনো আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় জ্বালানি তেলের দাম সামান্য কমেছে। ২০১৮ সালের পরে পণ্যটির দাম বেড়ে এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। অবশ্য ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাস থেকেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম মোটামুটি ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে, যা স্বল্প মেয়াদে আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেলের চাহিদা আগামী বছরের শেষ দিকে আবার করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব আকারে ছড়িয়ে পড়ার আগের অবস্থায় ফিরে যাবে বলে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি বা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) সম্প্রতি পূর্বাভাস দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড বা অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম এবার রেকর্ড পর্যায়ে চলে গেছে। ভারতের বাজারে ক্রুড বা অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি প্রকট আকার ধারণ করেছে। চলতি মাসে দেশটিতে পেট্রোল ও ডিজেল রেকর্ড দামে বিক্রি হচ্ছে। অপরিশোধিত তেলের উচ্চ দামের কারণে ভারতীয় তেল বিপণন সংস্থাগুলো এ বছরের শুরু থেকে ডিজেল পেট্রোলের দাম বাড়াতে থাকে। এ পর্যন্ত পেট্রোলের দাম প্রায় ১৯.৩ শতাংশ এবং ডিজেলের দাম প্রায় ২১ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। জ্বালানির দাম বাড়তে থাকায় বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ করেছে বাম ফ্রন্ট ও কংগ্রেস।

Share This Post