বিদ্যুৎ ভোগান্তির চরম পর্যায়ে নাসিরনগরবাসী

বিদ্যুৎ ভোগান্তির চরম পর্যায়ে  নাসিরনগরবাসী

সাংস্কৃতিক রাজধানী খ্যাত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অন্তর্গত সর্বোত্তরের উপজেলা হচ্ছে নাসিরনগর।  ইতিহাস ঐতিহ্যে ভরপুর ও জ্ঞানী-গুণীদের বিশেষ অবদানের জন্য এ উপজেলা বাংলাদেশে সর্বাধিক পরিচিত। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের অগ্রযাত্রায় উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে এ উপজেলাতেও। ইতিমধ্যে নাসিরনগর উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়ন উপজেলা হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। তার পরেও এ উপজেলায় পল্লি বিদ্যুতের তালবাহানা ও বিদ্যুৎ বিভ্রাট এখন চরম পর্যায়ে।  প্রতিদিন কমপক্ষে ৮-১০ বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করে।
করোনার ক্লান্তি লগ্নে পল্লি বিদ্যুতের তালবাহানায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ছোট বড় কল-কারখানাগুলো এখন বন্ধের মুখে। প্রচণ্ড তাপদাহে শিশু, বয়োবৃদ্ধসহ মানুষের কষ্টের সীমা নেই। করোনার ভয়াবহ পরিস্হিতিতে এ যেন মরার উপর খাড়ার ঘাঁ। নীল আকাশে কালো মেঘের আভাস পেলেই নাসিরনগর পল্লি বিদ্যুৎ এক প্রকার ভয় পেয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেয়। পল্লি বিদ্যুতের তার ছিঁড়তে কোন ঝড়-ঝ্বাপটা বা বিশাল আকারের বাতাস কিংবা টর্নেডোর প্রয়োজন হয় না। অল্প বাতাসে তার ছিঁড়ে যাওয়া বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া এমন বাজে অজুহাত পল্লি বিদ্যুতের নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। তাদের এমন ভেলকিবাজিতে বিদ্যুৎ কেন্দ্রিক সকল ব্যবসায়ীদের লোকসান গুণতে হচ্ছে।
প্রচণ্ড ভ্যাপসা গরম, মানুষ ছট-ফট করছে অসহ্য গরমে। তার উপরে বিদ্যুতের অসহনীয় বিভ্রাটে এখন নাকাল অবস্হা।  কোন না কোন সমস্যা লেগেই থাকছে। অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে বিদ্যুতের সরবরাহ। এমন ভ্যাপসা গরমের মধ্যে বিদ্যুতের এমন বিভ্রাটে মানুষ অস্হির হয়ে ওঠেছে।
লোডশেডিংয়ের যন্ত্রনায় জন-জীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। নাসিরনগরের বিদ্যুৎ যায় ঘন্টায় ঘন্টায়। অতি তাপমাত্রা লোডশেডিং,  বৃষ্টিপাতে লোডশেডিং,  লাইন মেরামতে লোডশেডিং,  ত্রুটি-বিচ্যুতিতে লোডশেডিং,  এ যেন খোঁড়া যুক্তি দাঁড় করিয়েই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎহীন করে রাখার রেওয়াজে পরিণত হয়েছে।
নাসিরনগর উপজেলায় প্রতিনিয়ত ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার লুকোচুরি খেলা চলছেই, রাতে বিদ্যুৎ না থাকলে পুরো গ্রাম, মহল্লা জুড়ে ঘুটঘুটে অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে যায়। ফলে বেড়েই চলছে চুরি ও ডাকাতি। বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার এমন দুঃসহ খেলায় সর্বত্রই মানুষ ত্যক্ত-বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো চলছে বেহাল অবস্হায়। বিদ্যুৎ অভাবে অফিস আদালতেও ঠিকমতো কাজ হচ্ছে না। হাসপাতালগুলো চলছে আরও অমানবিকভাবে, লোডশেডিংয়ের কারণে নির্দিষ্ট সময়ে রোগীর অপারেশন,  এক্স-রে, ইসিজি ইত্যাদি করতে ব্যর্থ হচ্ছে।  সবচেয়ে বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। গ্রামের রীতি অনুযায়ী সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে যখনই স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা পড়ার টেবিলে হাজির, ঠিক তখনই বিদ্যুৎ নামক সোনার হরিণ মহাশূন্যে পালিয়ে বেড়ায়। প্রচণ্ড গরমে হারিকেন বা মোমবাতি জ্বালিয়েও পড়াশোনা করার কোন উপায় থাকে না, এর উপর আবার মশার উপদ্রব। সাম্প্রতিক কালে ডেঙ্গুও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, বার বার লোডশেডিংয়ের ফলে মশার কামড় থেকেও রক্ষা পাচ্ছে না শিক্ষার্থীসহ উপজেলাবাসী। 
সবমিলিয়ে নাসিরনগরের জনগণ এখন অসহায়ত্বের দিনাতিপাত করছে। এ সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য স্হানীয় প্রশাসন ও পল্লি বিদ্যুতের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সুদৃষ্টি কামনা করছি। অতিদ্রুত বিদ্যুতিক সমস্যার নিখুঁত সমাধান আসবে বলে প্রত্যাশা করছি।

(তোফায়েল আহমেদ রামীম : শিক্ষার্থী, ঢাকা কলেজ)

Share This Post