বাবা দিবসে স্বর্গীয় পিতার উদ্দেশ্যে পুত্রের চিঠি

বাবা দিবসে স্বর্গীয় পিতার উদ্দেশ্যে পুত্রের চিঠি

ভরসা ও ছায়ার নাম বাবা। বাবা মানে উত্তপ্ত সূর্যের তলে সন্তানের শীতল ছায়া। বাবা মানে ভরসা। আবার বাবা শাশ্বত, বাবা চির আপন। পরম নির্ভরতার প্রতীক।

পিতা সন্তানের মাথার ওপর বটবৃক্ষের ছায়ার মতো, যার স্নেহ অবারিত ধারায় শুধু ঝরতেই থাকে। শিশু সন্তানের কচি হাতটি যখন বাবার হাতটি আঁকড়ে ধরে হাঁটতে থাকে তখন তাদের এ অটুট সম্পর্ক জানান দেয়।

সন্তানের ভালোর জন্য জীবনের প্রায় সবকিছুই নির্দ্বিধায় ত্যাগ করতে হয় বাবাকে। আদর-শাসন আর বিশ্বস্ততার জায়গা হলো বাবা। বাবার মাধ্যমেই সন্তানের জীবনের শুরু। সন্তান বাবার ঋণ কখনো পরিমাপ করতেও পারে না। সেই বাবার প্রতি সম্মান জানাতে বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বাবা দিবস।

বাবা দিবসে স্বর্গীয় পিতার উদ্দেশ্যে একটি চিঠি লিখেছেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক নাদিমুল ইসলাম মিলন। পাঠকের উদ্দেশ্যে তার চিঠিটি হুবহু প্রকাশ করা হলো:

পত্রের শুরুতে আমার শুভেচ্ছা ও সালাম নিও। আশা করি অনেক অনেক ভাল আছ। বিশ্ব বাবা দিবসে সকল বাবার পূর্ণতার কথা শুনে নিজের অপূর্ণতার কথা মনে পড়ে গেল। ভেবেছিলাম কিছুই লিখব না। অনেকের লেখা দেখে লোভ সংবরণ করতে পারেনি তাই দুই এক কলম লিখলাম। বাবা সে তো বাবা ই। যার বিশেষণ তিনি নিজেই। তাই কাউকে হয়তো এতো ব্যাখ্যা করে বোঝানোর প্রয়োজন নেই। পরিবারের যে বৃক্ষটি দীর্ঘদিন ধরে অবলীলায় নিঃস্বার্থভাবে ছায়া দিয়ে থাকে সেই ছায়াটি কেমন করে যেন ছায়া বন্ধ করে দিল বিধাতার ডাকে। ফলে বাবা ডাকটা 1987 সালের শেষ হয়ে গিয়েছিল । আল্লাহ তুমি পরোপারে তাকে ভালো রাখো (রাব্বির হাম হুমা কামা রাব্বায়ানি সাগিরা )। জানতাম না বাবা কি ? তবে আমি জানতাম, বাবা মানে, মা ভাই বোনের স্নেহে বড় হওয়া। শুনেছি তিনি খুব ভালো মানুষ ছিলেন। অত্যন্ত মিশুক, সহজ ,সরল ,সদালাপী ও পরোউপকারী ছিলেন। উক্ত বিশেষণ গুলোর প্রভাব আমার জীবনে বেশিদিন শোভা পায়নি তখন আমার বয়স ছিল দুই থেকে তিন। তবে আমি সেই বাবা ডাকটির পুনরাবৃত্তি খুঁজে পেয়েছি সুদীর্ঘ 28 বছর পর 2015 সালের সেপ্টেম্বর মাসে। ওই দিন থেকেই অপূর্ণতার মাঝে পূর্ণতার সন্ধান খুঁজে পাই। সেই ডাকটির মাঝেই হয়তো তোমাকে এবং তোমার প্রতিচ্ছবি খুঁজে পাই। মহান আল্লাহকে অশেষ ধন্যবাদ।বাবা তোমার দোয়ায় আমি এখন একটা না দুই দুইটি বাবার ডাক শুনতে পায়। জানি সকলকেই পরপারে যেতে হবে, তবে তোমার মত অপরিণত বয়সে নয়। বাবা ডাকটি তোমার মত এতো ক্ষণস্থায়ী যাতে কোন সন্তানের না হয়। যেন পৃথিবীর বৃহত্তম গাছটির ছায়ায় সকল সন্তানের দেহ সুশীতল হয় ।পৃথিবীর বৃহত্তম ছায়াটি (বাবা) সকল সন্তানের সব দাবি-দাওয়া,অভাব ,অভিযোগ, অনুযোগ ও ইচ্ছাগুলো পূরণ করে কিন্তু আমাদের বেলায় ছিল ঠিক তার উল্টো। নিজেদের অভাব, অভিযোগ, অনুযোগ, ইচ্ছা আকাঙ্খা সমূহ নিজেদেরই পূরণ করতে হয়েছে তাতে কোনো অতৃপ্তি নেই, অনুযোগ নেই ,অনুতাপ নেই শুধু একটাই অভিযোগ তোমাকে মন ভরে ডাকার পূর্বেই চলে যাওয়ার অপূর্ণতার অভিযোগ। বিধাতার লীলা খেলা অনুযায়ী বৃহত্তম বৃক্ষটির ছায়া প্রদানের দায়িত্ব অর্পিত হয় আমার মা এবং ভাইদের উপর। তোমার সেই অর্পিত দায়িত্ব অক্ষর অক্ষরে পালন করার ফলে তোমার অপূর্ণতার স্বাদ মা এবং ভাইদের কাছ থেকে পেয়েছি। হয়তো সেখানেও ছিল তোমার ছায়ার সংস্পর্শ। তাই বিপথগামী হয়নি আমরা। তাই তোমার প্রতি নেই কোন অভিযোগ। তোমার সন্তানেরা সমাজে অনেক ভালো আছে। তুমি হয়তো দেখছো না তবে তোমার সন্তানেরা গণপ্রজাতন্ত্রের সেবক হিসেবে কাজ করছে। তুমি বেঁচে থাকলে সন্তানদের সাফল্যের স্বাদ আস্বাদন করতে পারতে কিন্তু দুর্ভাগ্য সেটা তো আর সবার ভাগ্যে শোভা পায়না। তাই তোমার বেলাতেও ঠিক তাই ঘটেছিল। হয়তো পরোপারে তুমি সেই স্বাদ আস্ফালন করছো। বাবা, তুমি পরোপারে অনেক অনেক অনেক ভালো থাকো এই দোয়া করি। আল্লাহ তোমাকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করুক। আমিন।। তাই আমি আমার সন্তানের মাঝে তোমার শূন্যতার পূর্ণতা খুঁজে পাই। ( তাই বাবা দিবসে এপারে থাকা এবং ওপারে থাকা সকল বাবাদের প্রতি রইল বিনম্র শ্রদ্ধা। ) ইতি তোমার হতভাগা।

Share This Post