ফেনী কলেজের শতবর্ষে পদার্পণ : ফেনীবাসী নিশ্চয়ই গর্ববোধ করতে পারে

ফেনী কলেজের শতবর্ষে পদার্পণ : ফেনীবাসী নিশ্চয়ই গর্ববোধ করতে পারে

অধ্যাপক আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার:
৮ আগস্ট ১৯২২ ফেনী কলেজের পথ চলা শুরু। শতবর্ষে পদার্পণ। শুভকামনা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চালুর পরের বছরই এর যাত্রা। ফেনীবাসী নিশ্চয়ই গর্ববোধ করতে পারে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে মিত্রবাহিনী বার্মা ফ্রন্টে জাপানকে মোকাবেলার জন্য ফেনীতে বিশাল বিমান বন্দর তৈরি করে (যেখানে বর্তমানে ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ ও জেনারেল হাসপাতাল অবস্হিত)।ফেনীকে যুদ্ধ এলাকা ঘোষণা করা হয়।জাপানীরা এখানে প্রচুর বোম্বিং করে।শহরবাসী ফেনী ছেড়ে দেয়।আমার নানা শহরের নাজির রোডের নিজের বাড়ি ছেড়ে জায়লস্করা আমার খালার বাড়িতে অস্হায়ী বাড়ি তুলে আশ্রয় নেয়।ফেনী কলেজ সাময়িকভাবে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ায় স্হানান্তরিত হয়।যুদ্ধ শেষে ফেনী কলেজ নিজস্থানে ফিরে এলে সে স্থানে বর্তমান ব্রাহ্মণবাড়ীয়া সরকারি কলেজ চালু হয়।
শতাব্দী প্রাচীন দুটো বিল্ডিং।মাঠের পূর্ব পার্শ্বে কলেজের মূল ভবন আর মাঠের উত্তর পাশে ফেনী পাইলট হাইস্কুল (১৮৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত)।ফেনী পাইলট স্থাপন করেন পলাশী মহাকাব্য রচয়িতা ফেনীর মহকুমা প্রশাসক কবি নবীন চন্দ্র সেন।বাবা ফেনী পাইলট আর ফেনী কলেজের ছাত্র ছিলেন।বাবা সবসময় বলতেন, ১৯৪৭ এর দেশভাগ আর ১৯৬৫ এর পাকভারত যুদ্ধে বাংলার শিক্ষার ক্ষতি হয়েছে সবচেয়ে বেশী।হিন্দুঅভিজাত পরিবারের সন্তানরা মর্যাদার জন্য তখন শিক্ষকতা করতেন।ঐসময় তারা প্রায় সবাই দেশত্যাগ করেছে।
নিজের বাড়ি শহরের পাশে গোবিন্দপুরে। নানাবাড়ি শহরের নাজির রোডে।শহরে নিত্য আসা যাওয়া।দলবেঁধে সিনেমা দেখা হতো নিয়মিত।চোখে ভাসতো একই রকমের দুটো লাল ইটের প্রাচীন বিল্ডিং। ইচ্ছে পাইলটে পড়ব।শহরের সেন্ট্রাল হাই স্কুলের অফার ছিলো।কামাল স্যার জাঁদরেল প্রধান শিক্ষক।ভালো ছাত্র নিয়ে সবসময় স্কুলের সুনাম বাড়াতে চাইতেন।তখনকার সময় প্রধান শিক্ষকগন ভালো ছাত্রদের খোঁজ রাখতেন, আমরাও ফেনী জুড়ে কোন স্কুলের কে ফার্স্টবয় খোঁজ রাখতাম। ছিলো অলিখিত প্রতিযোগিতাও।

(ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার এর ফেসবুক প্রোফাইল থেকে নেয়া)

Share This Post