“ফেইসবুকে ভাগ্য বদল”

“ফেইসবুকে ভাগ্য বদল”

শফিক মোহাম্মদ রুমন( সিরাজগঞ্জ) : 
মানবিক আবেদন জানিয়ে ফেইসবুকে পোস্টের মাধ্যমে সংগ্রহীত টাকায় বৃদ্ধ রিক্সা চালক গোলাম হোসেন এর ভাগ্য বদল হয়ে মনোহারী দোকানের মালিক হয়েছেন। গোলfম হোসেনের বর্তমান ঠিকানা সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার খোকশাবাড়ী ইউনয়নের ফকিরতলায় প্রধানমন্ত্রীর উপহার আশ্রয়ণ প্রকল্পে বরাদ্দ পাওয়া বাড়ীতে।পূর্বে তিনি সিরাজগঞ্জ পৌরসভার মিরপুরে রেলওয়ের জায়গায় অস্থায়ী ভাবে বসবাস করতেন। একমাত্র কন্যাকে বিয়ে দিয়ে মাদ্রসা পড়ুুয়া একমাত্র পুত্র ও স্ত্রীকে নিয়ে তার সংসার। সংসারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ৭৭ বছর বয়সী গোলাম হোসেন। রিক্সা চালিয়েই তিনি সংসার চালান। কিন্তু বর্তমানে ইঞ্জিন চালিত রিক্সার ভিড়ে তার নিজ পায়ে চালিত রিক্সায় যাত্রী খুব একটা উঠে না। ফলে সারাদিন যে আয় হয় তাতে তার সংসার চালানো কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। এছাড়াও বয়সের ভাড়ে শরীরের শক্তি কমে যাওয়ায় পায়ে ঠেলে রিক্সা চালিয়ে মাঝে মাঝেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থতার কারণে রিক্সা বন্ধ থাকলে না খেয়েও দিন পার করতে হয় তাকে। গোলাম হোসেনের পায়ে চালিত রিক্সার যাত্রী হয়ে উঠে এটিএন বাংলা ও এটিএন নিউজের সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি ফেরদৌস হাসান এর  নজরে বিষয়টি এলে তিনি তার ব্যক্তিগত ফেইসবুক আইডি ও ফেইসবুক গ্রুপ পজেটিভ সিরাজগঞ্জ এ “ফেইসবুকে ভাগ্য বদল” শিরোনামে একটি পোস্ট দেন। ফলে দানশীল ব্যক্তিগণ মুরুব্বী গোলাম হোসেনের পাশে দাঁড়াতে অর্থের হাত বাড়িয়ে দেন। পোস্ট দেখে সঙ্গীত শিল্পী মোঃ বিল্লাল ফারদিন ৫হাজার টাকা,ই্উটিউবার  র.ই মানিক ভাই ৪হাজার৯শ টাকা, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোঃ সাজ্জাদ হায়দার ২০হাজার টাকা এবং নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরও ৩জন দানশীল ব্যাক্তি ৫হাজার ৬শত টাকা সহ মোট ৩৫হাজার ৫শত টাকা বিকাশ এবং ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে পাঠান। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহি অফিসার মোঃ আনোয়ার পারভেজ বৃহষ্পতিবার দুপুরে খোকশাবাড়ী আশ্রয়ণ প্রকল্পে মনোহারী দোকানে মালামাল ক্রয় করার জন্য গোলাম হোসেনের হাতে টাকাগুলো তুলে দেন। এসময় সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ সাইদুল হক, এটিএন বাংলা ও এটিএন নিউজের সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি ফেরদৌস হাসান, রিক্সা চালক গোলাম হোসেনের স্ত্রী, ছেলে ও আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসকারীরা উপস্থিত ছিলেন।

Share This Post