প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক অবৈতনিক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিন আজ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক অবৈতনিক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিন আজ

মেধা ও তারুণ্যের প্রতীক জয় বাংলাদেশের খ্যাতনামা পরমাণুবিজ্ঞানী প্রয়াত ড. এমএ ওয়াজেদ মিয়া ও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার প্রথম সন্তান। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৌহিত্র ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের ৫১তম জন্মদিন মঙ্গলবার। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ২৭ জুলাই অবরুদ্ধ ঢাকায় তার জন্ম। স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয়ের পর বঙ্গবন্ধু তার নাম ‘জয়’ রাখেন ।
সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিভিন্ন দূরদর্শী এবং সময়োপযোগী উদ্যোগের কারণে বাংলাদেশ গত ১০ বছরে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ব্যাপক উন্নতি সাধন করতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে আইটি ফ্রিল্যান্সিংয়ে তথা আউটসোর্সিংয়ে তৃতীয় স্থান দখল করতে সমর্থ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে তার গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপে বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।

‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ এর রূপকার হিসেবে খ্যাত সজীব ওয়াজেদ জয়ের উদ্যোগেই ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ ধারণাটি যুক্ত হয়েছিল। ২০১৪ সালের ১৭ নভেম্বর অবৈতনিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা পদে নিয়োগ দেওয়া হয় তাকে। ২০১৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিজয়ের মাধ্যমে টানা তৃতীয়বার সরকার গঠনের পর তাকে একই পদে নিয়োগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ২০০৭ সালে ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরাম কর্তৃক ‘গ্লোবাল লিডার অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ নির্বাচিত হন জয়।
২০১০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিতৃভূমি রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্যপদ লাভের মধ্য দিয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে নাম লেখান জয়। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে দলের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় যোগ দিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ ও দেশের বিভিন্ন এলাকা সফর করেন তিনি।

ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় অসামান্য অবদান রেখে চলেছেন সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি তার মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক অবৈতনিক উপদেষ্টা।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার সময় মা শেখ হাসিনা এবং খালা শেখ রেহানার সঙ্গে দেশের বাইরে থাকায় সৌভাগ্যক্রমে মা-খালার সঙ্গে প্রাণে বেঁচে যান সজীব ওয়াজেদ জয়। বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর ইউরোপ ছেড়ে মা শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতে আশ্রয় নেন জয়। সজীব ওয়াজেদ জয়ের শৈশব-কৈশোর কেটেছে ভারতে। নৈনিতালের সেন্ট জোসেফ কলেজে লেখাপড়া করেন তিনি। পরে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট আর্লিংটন থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক পাস করেন জয়। পরবর্তীতে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লোক প্রশাসনে স্নাতকোত্তর করেন তিনি। ২০০২ সালের ২৬ অক্টোবর ক্রিস্টিন ওভারমায়ারকে বিয়ে করেন জয়। তাদের একটি কন্যা সন্তান রয়েছেন।

বৈশ্বিক মহামারি করোনা সংকটের কারণে জয়ের জন্মদিন উপলক্ষে সীমিত কর্মসূচি আয়োজিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী জয় নিজেও তেমন কোনো আনুষ্ঠানিকতায় যাচ্ছেন না। দেশে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে ঘরোয়া পরিবেশে জয়ের জন্মদিনের কেককাটার কথা রয়েছে। এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পরিবারের সদস্যরা থাকবেন। সকালে গণভবন থেকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত স্মারক ডাক টিকিট, উদ্বোধনী খাম ও বিশেষ সিল মোহর অবমুক্ত করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপকমিটি মঙ্গলবার সকাল ১১টায় ‘জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অগ্রসরমান ডিজিটাল প্রযুক্তি: পথিকৃৎ মুজিব হতে সজীব’ শীর্ষক ওয়েবিনারের আয়োজন করবে। যুবলীগের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল ছাড়াও সারাদেশের মসজিদ, মন্দির, গীর্জা ও প্যাগোডাসহ সকল ধর্মীয় উপাসনালয়ে দোয়া-প্রার্থনা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি আয়োজিত হবে।

Share This Post