প্রজন্ম ৭১ পূজামন্ডপ ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর সাম্প্রদায়িক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে

প্রজন্ম ৭১ পূজামন্ডপ ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর সাম্প্রদায়িক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে

সম্প্রতি কুমিল্লার একটি পূজামন্ডপে পবিত্র কোরআন শরীফ পাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন যায়গায় দূর্গা পূজার মন্ডপ ও প্রতীমা ভাংচুর, হিন্দু ধর্মাবলম্বিদের গালাগাল ও শারীরিক আক্রমণের মাধ্যমে যে সাম্প্রদায়িকতার বিষ ছড়ানো হয়েছে প্রজন্ম ৭১ এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে এবং দোষী ব্যক্তিদের আশু গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানাচ্ছে। একইসংগে হিন্দু ধর্মের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য নিরাপত্তা ও প্রয়োজনে আর্থিক সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছে। আমরা সবাই জানি, মুক্তিযুদ্ধের অর্জনকে ধুলিস্যাৎ করা ও এই একই ধারাবাহিকতায় বর্তমান মুক্তিযুদ্ধের সরকারকে অস্থিতিশীল করার জন্য দেশে এবং বিদেশেও নানা রকম ষড়যন্ত্র হচ্ছে। উগ্র ধর্মান্ধ গোষ্ঠী, মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত রাজনৈতিক দল এবং সমসাময়িক একাধিক ডানপন্থী রাজনৈতিক পার্টি এইসব সাম্প্রদায়িক আচরন উসকাচ্ছে বলে আমরা মনে করি। এ কারনেই প্রজন্ম ৭১ সব সময় দাবি করে এসেছে, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধের জন্য। আমরা শহীদদের সন্তান ও পরিবার মনে করি, এ ধরনের সাম্প্রদায়িক আঘাত মূলত মুক্তিযুদ্ধের তিরিশ লক্ষ শহীদদের আত্বত্যাগ ও তাঁদের প্রগতিশীল চেতনার ওপর আঘাত। মুক্তিযুদ্ধ ও বংগবন্ধুর আদর্শের অসাম্প্রদায়িক, মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে রাজনীতিতে ধর্মের চর্চা বন্ধ করতেই হবে। একাত্তরের প্রমাণিত যুদ্ধাপরাধী রাজনৈতিক পার্টি জামাতে ইসলামীকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নিষিদ্ধ করার মধ্যে দিয়ে এই উদ্যোগের সূচনা হওয়া উচিত। অতীতে আওয়ামী লীগ সরকার উগ্র ও সন্ত্রাসী একাধিক সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করেছে। আমরা সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছি। কিন্তু আমরা এও লক্ষ্য করেছি, ভিন্নধর্ম ও মতাবলম্বীদের (বিশেষ করে লেখক, প্রকাশক, সাংবাদিক, ব্লগার ) ওপর সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদি আক্রমণ বন্ধ করা যায়নি। এর মূল কারন হচ্ছে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ও সংস্কৃতির চর্চাকে সমাজের সকল স্তরে অনুশীলিত হতে দেয়া। জাতির পিতার ভাস্কর্য ভাংচুর ও অবমাননা এবং পূজামন্ডপ-প্রতীমা ভাংচুর ও ভিন্ন ধর্মের মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির অবমাননা আসলে একই গোষ্ঠীর একই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কাজ। এদের লক্ষ্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশকে একটি পাকিস্তানি মার্কা সামরিক-সামন্তীয় রাষ্ট্র কিংবা তালেবানী কায়দার উগ্র ইসলামী রাষ্ট্রে পরিনত করা। সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক ঘটনা আবারও প্রমান করলো, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মানুষ, প্রগতিশীল সংগঠন এমনকি সরকারও এদের হাত থেকে নিরাপদ নেই। প্রজন্ম ৭১ একই সংগে সাধুবাদ জানাচ্ছে, সারা দেশের সেইসব প্রকৃত মুসলমান ভাইদের যারা কুমিল্লার নিকৃষ্ট ঘটনার পর নিজ নিজ এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ও তাদের পূজামন্ডপ রক্ষা করেছে। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটিসহ যে সব সংগঠন এই সাম্প্রদায়িক ঘটনার প্রতিবাদে এগিয়ে এসেছেন, প্রজন্ম ৭১ তাদের সাথে একাত্বতা ঘোষনা করছে। পরিশেষে, প্রজন্ম ৭১ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের জনগনকে সারা দেশব্যাপী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে বজায় রাখার জোর আহবান জানাচ্ছে।

Share This Post