পোশাক শ্রমিকদের করোনাকালীন সহায়তা প্রদানে প্রথমবারের মতো প্রি-শীপমেন্ট ফাইন্যান্স প্রোগ্রাম উদ্বোধন করেছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড

পোশাক শ্রমিকদের করোনাকালীন সহায়তা প্রদানে প্রথমবারের মতো প্রি-শীপমেন্ট ফাইন্যান্স প্রোগ্রাম উদ্বোধন করেছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড

 করোনাকালে তৈরি পোশাক শিল্পে আগত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ইউএসডি ডিনোমিনেটেড প্রি-শিপমেন্ট ঋণ সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক। নামকরা ক্রেতাদের সাথে পরামর্শের মাধ্যমে এই কোভিড-১৯ রেসপন্স ফাইন্যান্স প্রোগ্রামটি ডিজাইন করা হয়েছে। বর্তমান চ্যালেঞ্জিং পরিবেশে প্রোগ্রামটি ক্লায়েন্টদের বর্ধিত তারল্য সহায়তাদানে সক্ষম।

ব্যাংকের ক্লায়েন্টরা এই প্রোগ্রামের অধীনে মজুরি, ইউটিলিটি এবং অন্যান্য অপারেশনাল খরচ পরিশোধের জন্য ৩ মাসের মোরেটোরিয়াম মেয়াদ সহকারে এক বছরের তারল্য সহায়তা পেতে পারে। এই ঋণের মাধ্যমে ২০,০০০ এরও বেশি কর্মী তাদের একাধিক মাসের বেতন এবং উত্সব বোনাস সময়মতো পেয়েছে।

২০২০ সালে কোভিড-১৯ মহামারী আঘাত হানার কারণে বিশ্বজুড়ে পোশাক সরবরাহের চেইন ব্যাহত হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি এবং অন্যান্য মুখ্য বাজারসমূহের খুচরা দোকানগুলো বন্ধ হয়ে যায়। ফলে অনেক অর্ডার পিছিয়ে দেওয়া বা বাতিল করা হয় যা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের রপ্তানিকারকদের উপরও ব্যপক প্রভাব ফেলে। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড এই পরিস্থিতির মধ্যে তারল্য অ্যাক্সেস সক্ষম করে দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের স্থিতিস্থাপকতাকে সমর্থন করেছে। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক এর বাছাই করা বড় বৈশ্বিক ক্রেতাদের সাথে সহযোগিতা করতে এবং ইউএসডি ডিনোমিনেটেড প্রি-শিপমেন্ট ফাইন্যান্স ঋণ প্রবর্তনের লক্ষ্যে এর আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ককে কাজে লাগিয়ে দ্রুত নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের ব্যবস্থা করেছে।

এই সুবিধার মধ্যে উল্লেখযোগ্য-  বেতন এবং অন্যান্য অপারেটিং খরচের জন্য সহজ সুবিধা। কম খরচে ইউএসডি-ডিনোমিনেটেড সুবিধা, বৈদেশিক মুদ্রার উঠানামার বিরুদ্ধে ন্যাচারাল হেজ।          গ্রাহকদের একটি অনিশ্চিত অপারেটিং পরিবেশে প্রয়োজনীয় সাহায্য প্রদানের লক্ষ্যে ৩ মাসের মোরেটোরিয়াম মেয়াদ সহকারে এক বছরের তারল্য সহায়তা প্রদান।

অনেক শীর্ষস্থানীয় খুচরা বিক্রেতার সাথে তার দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক রাখার পাশাপাশি বিজিএমইএ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে নিবিড় সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড তৈরি পোশাক শিল্পক্ষেত্রের পাশে দাঁড়িয়ে একটি সময়োপযোগী সমাধান প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ফকির ফ্যাশনস লি.-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফকির কামরুজ্জামান নাহিদ বলেন, “জীবন, জীবিকা এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে মহামারির প্রভাব উপেক্ষা করা যায় না। এমতাবস্থায় স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড দ্বারা প্রবর্তিত ইউএসডি প্রি-শিপমেন্ট ঋণ সুবিধা আর্থিক খরচ কমানোর পাশাপাশি ক্রেতার সাথে আমাদের দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ককে দৃঢ় করে তুলেছে। আমাদের প্রধান ক্রেতাদের সহযোগিতা করার জন্য স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড তাদের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে। প্রাপ্ত ইউএসডি তহবিলের মাধ্যমে আমরা ৩ মাসের মোরেটোরিয়াম মেয়াদ সহকারে এক বছরের তারল্য সহায়তা সেবা পাবো যেটি আমাদের জন্য খুবই উপযোগী। এই মহামারিকালে, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড টিমের তৎপরতা, দক্ষতা এবং প্রশংসনীয় প্রচেষ্টা প্রমাণ করেছে যে ব্যাংকটি আমাদের শিল্পের প্রয়োজনীয়তা বোঝে।”
 ডেকো লেগেসি গ্রুপ-এর চেয়ারপারসন এম শাহাদাত হোসেন বলেন, “২০২০ সালে মহামারির শুরুর মাসগুলোতে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার জন্য আমরা কিছুটা অপ্রস্তুত ছিলাম। আমরা এমন একটি শিল্পের সাথে জড়িত যা কঠোর সময়সীমা, বিশাল কর্মী এবং অপ্রত্যাশিত ক্রেতাদের নিয়ে কাজ করে। একারণে সরকারের কাছ থেকে প্রাপ্ত প্রণোদনা প্যাকেজের সহায়তা আমাদের জন্য একটি বড় স্বস্তি ছিল। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড-এর ইউএসডি প্রি-শিপমেন্ট ঋণ সুবিধা সরকার সমর্থিত সময়ের বাইরে আমাদের অর্থপ্রদান পরিচালনা করতে সাহায্য করেছে। এমনকি আমরা আমাদের আর্থিক খরচ কমানোর পাশাপাশি ক্যাশফ্লোতে একটি অ্যাডিশনাল সাপোর্ট তৈরি করতে সক্ষম হয়েছি। এই বিপদক্ষণে এগিয়ে আসার জন্য আমি স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড টিমকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই”
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নাসের এজাজ বিজয় বলেন, “স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ‘হেয়ার ফর গুড’ প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাসী। আর সেই প্রতিশ্রুতি কার্যকর করার এখনই সময়। রপ্তানিকারক ক্লায়েন্টদের এই স্বল্প সুদে ইউএসডি  ঋণ সুবিধা দেওয়ার জন্য আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে সময়মত সহায়তা পেয়েছি, তার জন্য আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। দেশের বৃহত্তম আন্তর্জাতিক ব্যাংক হিসাবে, এই সংকটের সময় আমাদের অনন্য বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক ও ক্রেতাদের পাশে থাকতে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে আমরা বিশেষ ভূমিকা রেখেছি। তৈরি পোশাক শিল্পখাত বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণ। আমাদের উদ্যোগগুলি প্রয়োজনের সময়ে এই খাতটিকে সমর্থন করতে সক্ষম হয়েছে। তাই আমি অত্যন্ত আনন্দিত এবং গর্বিত।”
দীর্ঘ ১১৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকই দেশের একমাত্র বহুজাতিক ব্যাংক, যার রয়েছে বাংলাদেশে দৃঢ় স্থানীয় উপস্থিতি এবং এর বৈশ্বিক পরিধি ও পণ্য কাজে লাগানোর সক্ষমতার অনন্য এক সংমিশ্রণ। বাংলাদেশে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের একজন হিসেবে ব্যাংকটি নিজেই দেশে বিদেশী বিনিয়োগ নিয়ে আসা এবং বিদেশী বিনিয়োগকে সহজ করার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্য লেনদেনের মধ্যে বাংলাদেশের একক বৃহত্তম বিদেশী বেসরকারি বিনিয়োগ লেনদেন, যা বাংলাদেশের জন্য এ যাবৎকালের একক বৃহত্তম ভোক্তা খাত অধিগ্রহণ ছিল তার এক্সক্লুসিভ ফাইন্যান্সিয়্যাল অ্যাডভাইজার হিসেবে কাজ করেছে এই ব্যাংক। ২০১৮ সালে ব্যাংকটি ঢাকা স্টক এক্সেঞ্জে যেকোন বিদেশী স্টক একচেঞ্জের জন্য প্রথমবারের মতো সম-অংশগ্রহণ সুবিধা চালু করে। 

Share This Post