পল্টুর দূর্নীতি-অনিয়ম তদন্তের নামে সময় ক্ষেপন, ক্ষুব্দ মোংলা বন্দরের কর্মচারীরা

পল্টুর দূর্নীতি-অনিয়ম তদন্তের নামে সময় ক্ষেপন, ক্ষুব্দ মোংলা বন্দরের কর্মচারীরা

আলী আজীম (মোংলা, বাগেরহাট):

প্রভাব খাটিয়ে আর বন্দরের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে তার আগের সকল দুর্নীতি-অনিয়মের তদন্তে সময়ক্ষেপণ করে আবারও মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্মচারী সংঘের সাধারন সম্পাদক পদে প্রার্থী হচ্ছেন সাবেক সাধারন সম্পাদক কাজী খুরশিদ আলম পল্টু। নানা অনিয়ম-দুর্নীতিতে এক সময় ডুবে থাকা সিবিএর সাবেক ওই নেতার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনেও কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় চরম ক্ষুদ্ধ বন্দরের কর্মচারীরা। তারা বলছেন, দুর্নীতিবাজ কেউ সিবিএ’র নেতা হলে তা বন্দর উন্নয়নে বাধাগ্রস্থ হবে। কারণ বন্দরের উন্নয়নের সাথে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে সিবিএর নেতৃত্বও জড়িত।

অভিযুক্ত কাজী খুরশিদ আলম পল্টু মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্মচারী সংঘের প্রভাবশালী এক সাবেক নেতা। তিনি চাকুরীতে কর্মরত থাকা অবস্থায় ছুটি না নিয়ে গত ২০১২ সালে ১৯ অক্টোবর থেকে ২০১৩ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত ইতালিতে অবস্থান করেন। সেখানে ১শ ২৪ দিন থাকার পর দেশে ফিরে বিদেশে অবস্থানের বিষয়টি গোপন করে অসুস্থ্যতার ভূয়া মেডিকেল সনদপত্র দেখিয়ে আবারো চাকরিতে ফিরেন এবং একই সাথে বিদেশে থাকা চার মাসেরও অধিক সময়ের বেতন ভাতাও উত্তোলন করেন তিনি। এ নিয়ে বন্দর এলাকায় তোলপাড় শুরু হলে ঘটনার সত্যতা উদঘাটনের দাবী উঠে। এরপরই তিনি (পল্টু) মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্মচারী সংঘের (সিবিএ) নেতা বনে যান। নির্বাচিত হন সাধারণ সম্পাদক। নেতৃত্বের প্রভাব খাটিয়ে ওই ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে সক্ষম হন তিনি। এরপর শুরু করেন বন্দরের কর্মচারী নিয়োগ বাণিজ্য। আর ওই নিয়োগ বাণিজ্যে বাঁধা সৃষ্টি করায় তৎকালীন বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমডোর এম ফারুক হাসানের সাথে খুলনা নেভী স্কুলে নিয়োগ পরীক্ষার সময় অসৌজন্যমুলক আচরণও করেন পল্টু। এবং বন্দর চেয়ারম্যান এম ফারুক হাসানের গাড়ী গতিরোধ করে গাড়ীর চাবিও নিয়ে যান তিনি। এ ঘটনায় পল্টুর নামে মামলা করেন বন্দর কর্তৃপক্ষ। সেই মামলাও বর্তমানে চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি জড়িয়ে পড়েন নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে। এ সকল ঘটনায় ২০২০ সালের ৪ অক্টোবর কাজী খুরশিদ আলম পল্টুর দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দেয় খোদ নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়। নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বন্দর কর্তৃপক্ষের গঠিত তদন্ত কমিটির কাছে ঘটনার সত্যতাসহ প্রমাণও মেলে। এরপর তদন্ত কমিটি কাজী খুরশিদ আলম পল্টুকে পলায়নের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে তৎকালীন চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মো: শাহজাহান বরাবরে অফিস আদেশের প্রেক্ষিতে গত ২০২১ সালের ২১ জানুযারী প্রতিবেদন জমা দেয় তদন্ত কমিটি। কিন্তু বন্দরে কর্মরত কর্মচারীদের অভিযোগ, অদৃশ্য কারণে এখনো কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি পল্টুর বিরুদ্ধে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের নৌ শাখায় কর্মরত ২য় শ্রেনীর ড্রাইভার মোঃ ইলিয়াস মিয়া বলেন, বন্দরের কর্মচারীদের এক সময়ে জিম্মি করে বহু টাকাপয়সা হাতিয়ে নিয়েছে সিবিএর সাবেক সাধারণ সম্পাদক পল্টু। তিনি আরো বলেন, ২০১৯ সালে বন্দরের বেতার শাখায় মেধা তালিকায় নিয়োগ পাওয়া মোঃ সোহাগের কাছ থেকে তিনি দশ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। মাসোয়ারা না দিলে অধিকাংশ কর্মচারীকে এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে বদলী করে হয়রানীও করেছেন তিনি। চলতি মাসে আবারো সিবিএ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর ওই নির্বাচনে কাজী খুরশিদ আলম পল্টু সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হচ্ছেন এমন খবরে ক্ষুদ্ধ বন্দরের সাধারণ কর্মচারীরা। কর্মচারীদের অভিযোগ, বন্দরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে দুর্নীতির সাজা নানা অজুহাতে বিলম্বিত করে আবারও প্রার্থী হওয়ায় সুযোগ নিয়েছেন পল্টু।

কাজী খুরশিদ আলম পল্টু বলেন, আমার যা বলার তা আমি তদন্তকারী কর্মকতার্দের কাছে বলেছি, সেখানে খোঁজ নেন, আমি কিছু বলতে পারবো না।

তবে অভিযুক্ত কাজী খুরশিদ আলম পল্টু নিজেকে নিদোর্ষ দাবী করলেও মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) মোঃ শাহীনুল আলম বলেন, তদন্ত কমিটি কাজী খুরশিদ আলমের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন। বিষয়টি আইনি ব্যবস্থা নিতে বন্দর কর্তৃপক্ষের নিবার্হী ম্যাজিস্ট্রেট শোভন সরকারের উপর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়টি তদন্তাধীন/বিচারাধীন থাকায় এ বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি বন্দরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শোভন সরকার। বন্দরের কর্মচারী নিয়োগের প্রভিধানমালা মোতাবেক কেন নিদিষ্ট সময়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিদিষ্ট কোন সময় দেয়া নেই প্রভিধানমালায়।

Share This Post