পরীক্ষার প্রশ্নের মান বহাল রেখে কমানো হয়েছে সময়, বিপাকে সাত কলেজ শিক্ষার্থীরা

পরীক্ষার প্রশ্নের মান বহাল রেখে কমানো হয়েছে সময়, বিপাকে সাত কলেজ শিক্ষার্থীরা

মো: ফেরদৌস রহমান :

চলতি মাসের ( অক্টোবর) ২ তারিখ থেকে শুরু হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত রাজধানীর সরকারি সাত কলেজের স্নাতক ১ম বর্ষের চুড়ান্ত পরীক্ষা এবং গত ৪ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে স্নাতক ৩য় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা।

দীর্ঘ ১৯ মাস অর্থাৎ এক বছর সাত মাস অতিক্রমের পর নানান অজুহাত আর ঢাবি, সাত কলেজ প্রশাসনের তালবাহানা সমাপ্ত করে, এই পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশিত করা হয় গত সেপ্টেম্বরের মাঝের দিকে। এতে করে স্নাতক ১ম বর্ষ ( ২০১৯-২০) এর ইতিমধ্যে দুইটি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আর গত ৪ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া স্নাতক তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে একটি। করোনা অজুহাতে, সংক্রমণ রোধে পরীক্ষার সময় কমিয়ে আনা হয়েছে অর্ধেকে। বিগত সালের পরীক্ষাগুলো সর্বমোট ৪ ঘণ্টায় ৮০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এবার, সময় কমলেও কমানো হয়নি প্রশ্নের মান। যার ফলে, ৮০ নম্বরের জন্য আগে যেখানে সময় বহাল ছিলো ৪ ঘণ্টা, সেখানে এখন ২ ঘণ্টা করা হয়েছে। এ যেন পূর্ণ অধীনস্থতার ছাপ সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের প্রতি। এইরকম বৈষম্য, পৃথিবীর কোথাও দেখা যায়নি বলে বলছেন অনেক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, ৪ ঘণ্টার পরীক্ষার সময় এখন ২ ঘণ্টা আর ৩ ঘণ্টার পরীক্ষা দেড় ঘণ্টা করা হয়েছে। এতে করে সময় স্বল্পতার কারণে প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ উত্তর কষতে পারছেন না অনেক পরীক্ষার্থী। তাদের অভিযোগ, পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত ৪ ঘণ্টা সময় কমিয়ে ২ ঘণ্টা করা হলেও, সেই অনুপাতে প্রশ্নের সংখ্যা কমানো হয়নি। যার ফলে, প্রশ্নের উত্তর জানা থাকলেও সময় স্বল্পতার কারণে পূর্ণ নম্বরের উত্তর দিতে পারছেন না অধিকাংশ শিক্ষার্থী।

শিক্ষার্থীদের দাবি, যেহেতু পরীক্ষা সম্পূর্ণ সশরীরে নেওয়া হচ্ছে, এমতাবস্থায় পরীক্ষা কমিটি বা সংশ্লিষ্টরা পূর্বের সময় অনুযায়ী পরীক্ষা ৪ ঘণ্টায় নিতে পারেন। এতে করে আমাদের পারা প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে সময় স্বল্পতায় ভোগতে হবে না।

ঢাকা কলেজের ১ম বর্ষের (২০১৯-২০) ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী – আহমেদ পাটোয়ারী শুভ বলেন, “দীর্ঘ করোনা সংক্রমণের বিরতি শেষে যখন আমাদের চূড়ান্ত বর্ষ পরীক্ষা সশরীরে নেওয়া হচ্ছে। এতে আবার করোনা রোধের জন্য পরীক্ষার সময় কমানোকে আমি যৌক্তিক সিদ্ধান্ত বলে মনে করিনা। অনলাইনে পরীক্ষা না নিয়ে তারা সশরীরে নিচ্ছে। তাই ৪ ঘণ্টার পরীক্ষা আমরা ২ ঘণ্টায় দিলেও, প্রশ্ন সংখ্যা বেশি থাকায়, প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ উত্তর লিখতে পারছি না। এতে করে পরীক্ষায় সিজিপিএ কমের আশংঙ্কা বেশি।”

কবি নজরুল সরকারি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী সাদিকুর রহমান বলেন, ” পরীক্ষা না-হয় আমরা ২ ঘণ্টায় দিলাম, কিন্তু আমাদের পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে, তাদের কিরকম ভূমিকা থাকবে,সেটা নিয়ে আমরা সন্দিহান। কারণ প্রশ্নে যা চাচ্ছে তার উত্তর লিখতে গেলে ২ ঘণ্টায় কখনোই সম্ভব নয়, হাতে পর্যাপ্ত সময় থাকে না। কীভেবে ৮০ নম্বরের পরীক্ষা ২ ঘণ্টায় শেষ করা সম্ভব? ফলাফল খারাপ হলে, ভালো সিজিপিএ নিয়ে গ্রাজুয়েট হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করা দুষ্কর। শিক্ষকরা কী আমাদের খাতা যথার্থ মূল্যায়ন করবেন? আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা এ ধরনের প্রহসনের অবসান চাই।”

পরীক্ষা ব্যাপারে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের প্রধান সমন্বয়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল বলেন, ‘সাত কলেজের স্নাতক পরীক্ষার সময়, তাদের স্ব স্ব কলেজের অধ্যক্ষদের সাথে বসে আলোচনা করেই নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আমরা কোনো অভিযোগ পাইনি। যদি কোন সমস্যা হয় তবে তা সাত কলেজের অধ্যক্ষদের মাধ্যমে আমাদের কাছে আসতে হবে।’

বিষয়টি নিয়ে চেষ্টা চলছে জানিয়ে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ ও সাত কলেজের সমন্বয়ক ( ফোকাল পয়েন্ট) অধ্যাপক আইকে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার বলেন, “বিষয়টি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা কমিটির মিটিং চলছে। মিটিং শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।”

Share This Post