দ্বিতীয় দফায় স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড- ইউসেপ বাংলাদেশ এর উদ্যোগে করোনায় ক্ষতিগ্রস্থ কর্মীদের পুনঃদক্ষতা ও পুনঃপ্রতিষ্ঠা কার্যক্রম চালু

দ্বিতীয় দফায় স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড- ইউসেপ বাংলাদেশ এর উদ্যোগে করোনায় ক্ষতিগ্রস্থ কর্মীদের পুনঃদক্ষতা ও পুনঃপ্রতিষ্ঠা কার্যক্রম চালু

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক এবং ইউসেপ বাংলাদেশ সম্প্রতি দ্বিতীয় দফায় দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান পুনর্গঠন কর্মসূচী চালু করার ঘোষণা দিয়েছে। এই কর্মসূচীর আওতায় কোভিড-১৯ এর প্রভাবে জীবিকা হারানো এবং অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল ব্যক্তিরা নিজেদের দক্ষতা উন্নয়ন করার সুযোগ পাবে। প্রথমবারে গৃহীত কর্মসূচীর মাধ্যমে রাজশাহী এবং রংপুরের ৩০০ জন ব্যক্তি প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর তাদের কর্মসংস্থান পুনর্গঠন করতে সক্ষম হয়েছেন। পূর্বের সফলতা থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়েই দ্বিতীয়বারের মতো এই কর্মসূচী গ্রহণে উৎসাহ পেয়েছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক। এবার রাজশাহী ও খুলনার ৫০০ জন ব্যক্তিদের মধ্যে কর্মসংস্থান পুনর্গঠন করার প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। এই কর্মসূচীতে সুযোগ প্রাপ্ত ব্যক্তিরা আনুষ্ঠানিক এবং অনানুষ্ঠানিক ক্ষেত্রগুলোর কারিগরি এবং বৃত্তিমূলক শিক্ষানবিশ প্রশিক্ষণ প্রাপ্তির মাধ্যমে তাদের দক্ষতা উন্নয়ন করতে সক্ষম হবে। এই চাহিদাভিত্তিক প্রশিক্ষণটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে অংশগ্রহণকারীরা চাকরির বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ বাজারের সুযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। সুযোগ প্রাপ্ত ব্যক্তিরা ন্যাশনাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল কোয়ালিফিকেশন ফ্রেমওয়ার্ক (এনটিভিকিউএফ) লেভেলে বাংলাদেশ টেকনিক্যাল এডুকেশন বোর্ড-এর (বিটিইবি) মাধ্যমে রেকগনিশন অব প্রায়র লার্নিং (আরপিএল)-এ যোগদান করে তাদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ পাবে। এরপর তাদেরকে অর্থনীতিতে পুনর্বিন্যাস করার জন্য একটি চাকরির নিয়োগ প্রোগ্রামের মধ্য দিয়ে যেতে হবে।স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ-এর সিইও নাসের এজাজ বিজয় বলেন, “বর্তমান মহামারী অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল ব্যক্তিদের জীবন ও জীবিকার মধ্যে এক অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। প্রথম পর্বের দুর্দান্ত সাফল্যের পর দ্বিতীয়বারের মতো এই কর্মসূচীটি আগের চেয়ে আরও বৃহদাকারে নিয়ে আসতে পেরে আমরা আনন্দিত। সম্প্রতি দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান পুনর্গঠন কর্মসূচীর অংশ হিসেবে অভিবাসী শ্রমিকদের সহায়তার জন্য একটি অনুরুপ উদ্যোগও নেয়া হয়েছে। সামনে আমাদের জন্যে এক বিশাল চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। যে কারণে আমরা আমাদের চেষ্টা ও পরীক্ষিত সাফল্যগুলো যতটা সম্ভব ব্যাপকভাবে অবহিত করছি যেন অন্যান্য সামাজিক দায়বদ্ধ সংস্থাগুলিও আমাদের উদ্যোগ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে সময়মতো জনগণের পাশে থেকে তাদের পুনর্গঠনে অংশীদার হতে পারে।”ইউসেপ বাংলাদেশ-এর নির্বাহী পরিচালক মোঃ আব্দুল করিম বলেন, “এই মহামারীকালে চাকরি হারানো তরুণদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক। দ্বিতীয়বারের মতো দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান পুনর্গঠন কর্মসূচী শুরু করতে সহায়তা করার জন্য এবং আমি স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক-এর কাছে কৃতজ্ঞ।”তিনি তাঁর বক্তব্যে জানান, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে আরও ভালো অবদান রাখতে তরুণদের “উৎপাদনশীল এবং প্রগতিশীল কর্মী” হিসেবে সজ্জিত করতে ইউসেপ বাংলাদেশের অঙ্গীকারবদ্ধ। এছাড়াও তিনি দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান পুনর্গঠনের মাধ্যমে চাকরি হারানো তরুণদের এবং তাদের পরিবারকে সাহায্য করার লক্ষ্যে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও ইউসেপ বাংলাদেশ-এর বর্ধিত অংশীদারিত্বের বিষয়টি আলোকপাত করেন।
বাংলাদেশের উন্নয়নে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতির ধারা অব্যাহত রেখে, গত বছর এই কোভিড পরিস্থিতিতেও ২৫ টি উল্ল্যেখযোগ্য আন্তর্জাতিক অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে ব্যাংকটি। ব্যাংকটি ২০২০-এর সর্বোচ্চ সিএসআর ব্যয়কারী ব্যাংক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক আন্তর্জাতিক ব্যাংকের স্বীকৃতি অর্জন করে। ২০২১ এর জন্য, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ কোভিড-১৯ এর প্রভাবে তৎক্ষণাৎ সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার লক্ষ্যে ১৩৫ মিলিয়ন টাকা (১.৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) অর্থের একটি কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ব্যাংকটি দেশের জন্যে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা এবং তাত্ক্ষণিক সহায়তা নিশ্চিত করবে এবং জীবনযাত্রার দীর্ঘমেয়াদী মানোন্নয়নে অবদান রাখবে। 

Share This Post