দরপত্র অহবানের ৮ মাসেও কার্যাদেশ পায়নি ঠিকাদার : টেকেরহাট-গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে জনদুর্ভোগ চরমে

দরপত্র অহবানের ৮ মাসেও কার্যাদেশ পায়নি ঠিকাদার : টেকেরহাট-গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে জনদুর্ভোগ চরমে

সরদার মজিবুর রহমান (গোপালগঞ্জ) :
একনেকে অনুমোদন হয়েছে ১৫ মাস আগে, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ হয়েছে ১১ মাস আগে, দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে ৮ মাস আগে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দিতে পারেনি সড়ক ও জনপথ বিভাগ। এই কারনে শুরু হচ্ছেনা আ লিক মহাসড়কে উন্নিত হওয়া টেকেরহাট-গোপালগঞ্জ- ঘোনাপাড়া সড়কের কাজ। প্রায় দশ বছর যাবৎ ওই সড়কটিতে বড় ধরনের উন্নয়ন মূলক কাজ না হওয়ায় টেকেরহাট-গোপালগঞ্জ-ঘোনাপাড়া আ লিক সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দ ও গর্তের। এতে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে সড়কটি, জনদুর্ভোগ চরমে পৌছেছে। দূর্ভোগ লাঘবে দ্রুত উন্নয়ন কাজ শুরু করার দাবী জানিয়েছেন স্থানীয়রা। আর কর্তৃপক্ষ বলছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নিয়োগে চলছে কাগজপত্র যাচাই বাছাই। এই কারনে ঠিকাদার নিয়োগ ও কার্যাদেশ দিতে বিলম্ব হচ্ছে। 
গোপালগঞ্জ সড়ক ও জনপথ অফিস সূত্রে জানাগেছে, এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনাসহ দেশের বিভিণœ স্থানে যাতায়াত করে। আবার গ্রামের মানুষ জেলা শহরের আসা যাওয়া করে থাকে। এরই মধ্যে সড়কটি আ লিক সড়ক থেকে মহাসড়কে উন্নয়ন করতে ২০২০ সালের জুন মাসে একনেকে একটি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত দুই বছর। ৬টি প্যকেজের মাধ্যমে প্রকল্পটিতে ৬শ ১২ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এতে মূল সড়কের জন্য ৪শ ৯৬ কোটি টাকা ও জমি অধিগ্রহন ও অন্যান্য খরচ ধরা হয়েছে ১শ ১৬ কোটি টাকা। ওই বছরের নভেম্বরে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ এবং চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারী দরপত্র আহবান করা হয়। ইতোমধ্যে দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সড়কের দুই পাশের গাছ অপসারন করেছে বন বিভাগ ও বৃক্ষরোপন বিভাগ। কিন্তু সড়ক সম্প্রসারনের কাজের জন্য এখনও নিয়োগ দেয়া সম্ভব হয়নি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এদিকে সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সৃস্টি হওয়া গর্ত প্রতিনিয়ত মেরামত করে যাচ্ছে সড়ক বিভাগ।  
সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও সড়ক ও জনপথ গোপালগঞ্জ সার্কেলের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী তাপসী দাশ বলেন, আমরা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের দরপত্র গ্রহন করে ঠিকাদার মূল্যায়নের জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি। উর্ধতন কর্তৃপক্ষ ঠিকাদার নিয়োগ দিলেই কাজ শুরু হবে। 
সড়কে চলাচলকারী ভ্যান চালক মিন্টু বৈরাগী বলেন, এই সড়কটিতে প্রায় সাত আট বছর হলো কোন কাজ করেনা। দীর্ঘদিন কাজ না করায় রাস্তার বিভিন্ন যায়গায় গর্ত তৈরী হয়েছে। আমরা যারা ভ্যান চালাই তাদের খুব কষ্ট হয়। সঙ্গে যাত্রীদেরও কষ্ট হয়। মাঝে মধ্যে ভ্যানের চাকা ও ফর্ক ভেঙ্গে যায়। বড় গাড়ীকে সাইড দিতে গিয়ে ভ্যান উল্টে পড়ে। তাই রাস্তাটি ঠিক করা হলে সবাই ঠিকঠাক চলতে পারবো। গঙ্গারামপুর গ্রামের পাট ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, বেশ কয়েক বছর হলো টেকেরহাট-গোপালগঞ্জ সড়কে বড় কোন মেরামত কাজ হয়না। এই কারনে রাস্তার অীধকাংশ জায়গায় খানা খন্দর তৈরী হয়েছে। রাস্তার উপরের অংশ প্রায় উঠে গেছে। গুদামে মালামাল আনতে খুব সমস্যা পোহাতে হয় খরচও বেশী লাগে। তাই সড়কটি সংস্কারের দাবী জানাচ্ছি।শুধু নজরুল ইসলাম ও মিন্টু বৈরাগীই নয়, কথা হয় জলিরপাড় গ্রামের নিতিশ তালুকদার, প্রবীর শীল। বানিয়ারচর গ্রামের বাসিন্দা ও ভ্যান চালক কৃষ্ণ হালদার, ব্যবসায়ী বিনয় বাইন, সবজি বিক্রেতা সদানন্দ বালা, পান বিড়ির দোকানদার নির্মল মন্ডল, চা ব্যবসায়ী সুব্রত বাড়ৈ, ভ্যান চালক অনন্ত মজুমদার, শংকর দাস ও জলিরপাড় ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড মেম্বার মুকন্দ বৈরাগীর সঙ্গে। তারা জানিয়েছেন সড়কটি সম্প্রসারন হবে এটা শুনেছি। রাস্তা বাড়ানোর কথা বলে ৭/৮ বছর কোন মেরামত করা হচ্ছেনা এবং চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আমাদের দাবী সড়কটি দ্রুত সম্প্রসারণ বা মেরামত করে  এলাকাবাসীর চলাচলের সুবিধা করে দেয়া হোক।সড়কে চলাচলকারী  প্রাইভেট কার চালক  কাবুল শেখ, কালিম মোল্লা, ট্রাক চালক খোকন ফলিয়া, ইদ্রিস আলী মোল্লা সহ বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, সড়কটি এখন যানবাহন চলাচলের উপযোগী নাই। তারপর ও বাধ্য হয়ে চলতে হচ্ছে। ৪০/৫০ মিনিটের রাস্তা কিন্তু সময় লাগে দেড় থেকে পৌনে দুই ঘন্টা। এতে গাড়ীর ও অনেক ক্ষতি হয়। 
গোপালগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদ হোসেন বলেন, দরপত্রে অংশগ্রহণকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের দাখিলকৃত কাগজপত্র যাচাই বাছাই চলছে। এই কারনে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দিতে বিলম্ব হচ্ছে বলে জেনেছি। তবে সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে মেরামত কাজ চলমান রাখা হয়েছে। সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও সড়ক ও জনপথ গোপালগঞ্জ সার্কেলের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী তাপসী দাশ বলেন, আমরা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের দরপত্র গ্রহন করে ঠিকাদার মূল্যায়নের জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি। উর্ধতন কর্তৃপক্ষ ঠিকাদার নিয়োগ দিলেই কাজ শুরু হবে। এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী আবদুস সবুর সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ঠিকাদার নিয়োগের জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র যাচাই বাছাইয়ের জন্য মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রনালয়ের নির্দেশ মোতাবেক ঠিকাদার নিয়োগ ও কাজ শুরু করা হবে। 

Share This Post