দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ প্রবাহকে কাজে লাগাতে হবে

দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ প্রবাহকে কাজে লাগাতে হবে

শহিদুল আলম মজুমদার: জনকল্যাণকামী গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের উন্নয়ন দর্শনের মূলে থাকে জনগণের জীবনমান ও ভাগ্যের উন্নয়ন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ এমন একটি রাজনৈতিক অঙ্গীকার যার লক্ষ্য সনাতনী পদ্ধতির স্থলে ডিজিটাল পদ্ধতির প্রচলন করে গণতন্ত্র, সুশাসন, ন্যায়বিচার ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের জীবন ও জীবিকার ফলপ্রসূ এবং সার্বিক উন্নয়ন ঘটানো।

২০০৮ সালের ১২ ডিসেম্বর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশকে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও জ্ঞানভিত্তিক ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ঘোষণা করেন রূপকল্প-২০২১। তথ্যপ্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে সকল শ্রেণিপেশার মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য এটি ছিল একটি পরিপূর্ণ সনদ। ডিজিটাল বাংলাদেশ আসলে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার আধুনিক রূপ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রূপকল্পে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাঁর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক মাননীয় উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ। দৈনন্দিন জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে দেশের মানুষ ডিজিটাল বাংলাদেশ এর সুফল ভোগ করছেন। কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য, দক্ষতা, কর্মসংস্থান, উদ্ভাবন ইত্যাদি প্রতিটি সেক্টরেই আজ ব্যবহৃত হচ্ছে তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর সমাধান।

ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল গণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে চারটি প্রধান স্তম্ভ বা অগ্রাধিকারকে সামনে রেখে কাজ করছে। এগুলো হচ্ছে, সবার জন্য কানেক্টিভিটি, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, ই-গভর্মেন্ট এবং আইসিটি ইন্ডাষ্ট্রি প্রোমোশন।

ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মান তথা সরকারের কার্যক্রমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, দায়বদ্ধ-স্বচ্ছতা রাখতে এবং দুর্নীতি কমিয়ে সুখী-সমৃদ্ধ দেশ গড়তে ‘রূপকল্প ২০২১ অর্জনের লক্ষ্যে আইসিটি বিভাগের এটুআই প্রকল্প কাজ করছে। এসব কার্যক্রমসমূহের মূল উদ্দেশ্য হলো সেবা প্রার্থী জনগণকে পূর্বের তুলনায় স্বল্পসময়, স্বল্পখরচ ও কম যাতায়াতের মাধ্যমে আরো গুণগত ও সন্তোষজনক সেবা প্রদান।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সারা দেশে আইসিটি বিভাগ যে ৪টি পিলার নিয়ে কাজ করছে যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ২টি পিলার: মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং ই-গভর্নেন্স বাস্তবায়নের বিষয়ে এটুআই উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে। আইসিটি বিভাগের তত্ত্বাবধানে এটুআই ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের দোরগোড়ায় স্বল্পমূ্ল্যে, দ্রুত, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য কাজ করছে। এটুআই মূলত ‘Bottom-Up approach’(প্রান্ত থেকে কেন্দ্র)- এ পদ্ধতিতে কাজ করছে যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারমূলক কৌশল। উদাহরণস্বরূপ, ২০১০ সালের ১১ নভেম্বর ভোলা জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটি দ্বীপ চরকুকরী মুকরীর সাথে ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে যে ডিজিটাল সেন্টার–এর যাত্রা শুরু হয়েছিল তার সংখ্যা বর্তমানে ৭,৭১২। মূলত: সরকারের রূপকল্প- ২০২১, রুপকল্প- ২০৩০ ও রূপকল্প-২০৪১ বাস্তবায়নে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এটুআই কাজ করে যাচ্ছে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ হিসেবে মানবসম্পদের দক্ষতা উন্নয়নের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। সেই লক্ষ্যে আইসিটি বিভাগের এটুআই প্রকল্প দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে। মানবসম্পদের দক্ষতা, উন্নয়ন, অন্তর্ভুক্তিমূলক মানসম্মত শিক্ষা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এটুআই এর উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে:

চতুর্থ শিল্প-বিপ্লবের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে যুব সমাজকে আরো বেশি কর্মদক্ষ করে গড়ে তুলতে বিভিন্ন এপ্রেনটিসশিপ প্রোগ্রাম গ্রহণ করা হয়েছে। সমগ্র দেশব্যাপী বিভিন্ন বয়সের এবং গোষ্ঠীর (পুরুষ, মহিলা, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী এবং প্রতিবন্ধী) তরুণদের কর্মমুখী দক্ষতা উন্নয়ন এবং যথাযথ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে চালু করা হয়েছে দক্ষতা উন্নয়ন উদ্যোগ। অদ্যাবধি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে সমঝোতার মাধ্যমে ৩ লক্ষ ২৫ হাজারেরও অধিক প্রশিক্ষণার্থীর দক্ষতা উন্নয়ন করা হয়েছে এবং প্রশিক্ষণার্থীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হয়েছে ২ লক্ষ ৫১ হাজারেরও অধিক। এছাড়াও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে বর্তমানে দেশের সাড়ে ৬ লক্ষের অধিক ফ্রিল্যান্সার ঘরে বসেই ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে।

সরকারি-বেসরকারি ও বাণিজ্যিক তথ্য ও সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য স্থাপিত ৭,৭১২টি ডিজিটাল সেন্টারে ১৫ হাজারের অধিক উদ্যোক্তা যার মধ্যে ৫০ শতাংশ নারী কাজ করছে। উক্ত সেন্টারসমূহের মাধ্যমে প্রায় ৩০০ টিরও অধিক সেবা প্রদান করা হচ্ছে। প্রতি মাসে ৬০ লক্ষের অধিক সেবা গ্রহীতা ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে সেবা গ্রহণ করেছেন। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় ৫ মিলিয়নের অধিক প্রান্তিক পর্যায়ের নাগরিককে যে কোন আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত সেবাসমূহ ডিজিটাল উপায়ে প্রদান করা হচ্ছে যাদের মধ্যে বয়ঃবৃদ্ধ, বিধবা, এবং প্রতিবন্ধী নাগরিক বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রায় সাড়ে ৪ হাজারের অধিক ডিজিটাল সেন্টার থেকে এজেন্ট ব্যাংকিং এর মাধ্যমের জনগণকে আর্থিক লেনদেন সেবা প্রদান করা হচ্ছে। পাসপোর্ট ফি, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ফি এবং জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের ফি এখন ই-চালানের মাধ্যমে করা যাচ্ছে। তাছাড়া, প্রশিক্ষিত জনবল দিয়ে গ্রামীণ নাগরিকদের জন্য ই-কমার্স প্লাটফর্ম ‘একশপ প্রবর্তন করা হয়েছে। যার মাধ্যমে ইতিমধ্যে ২ কোটি টাকারও অধিক লেনদেন হয়েছে।

কিশোর বাতায়ন কিশোর-কিশোরীদের জন্য নির্মিত একটি শিক্ষামূলক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম যেখানে কিশোর-কিশোরীরা একই সঙ্গে বাতায়নে বিদ্যমান কনটেন্ট দেখতে পারছে ও নতুন কনটেন্ট যুক্ত সম্ভব হচ্ছে। কিশোর বাতায়নে প্রায় ২৭ লক্ষ ৭৪ হাজারেরও অধিক শিক্ষার্থী যুক্ত হয়েছে এবং ৩২ হাজারেরও অধিক মানসম্মত কন্টেন্ট রয়েছে, যার মাধ্যমে কিশোর-কিশোরীরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জ্ঞানার্জন ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছে।

শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তাদের ক্ষমতায়নের জন্য শিক্ষক বাতায়ন তৈরি করা হয়েছে, যাতে সাধারণ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষার বিভিন্ন বিষয়ের অডিও, ভিডিও, অ্যানিমেশন, চিত্র, ডকুমেন্ট, প্রকাশনা ইত্যাদি কন্টেন্ট সংরক্ষিত রয়েছে। এইসব কনটেন্ট ব্যবহার করে শিক্ষকগণ মাল্টিমিডিয়ায় ক্লাসরুমে শিক্ষা প্রদান করছেন। শিক্ষক বাতায়নের নিবন্ধিত সদস্য ৫ লক্ষ ৭২ হাজারেরও অধিক। কনটেন্টের সংখ্যা ৪ লক্ষ ৫২ হাজারেরও অধিক এবং মডেল কন্টেন্ট সর্বমোট ৯৫৩টি যা শিক্ষকগণ পাঠদানে ব্যবহার করছেন।

দেশের ৩ লক্ষ ইমাম-মুয়াজ্জিনগণকে অনলাইনে একটি প্লাটফর্মে আনয়নের লক্ষ্যে এটুআই ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে ‘ইমাম বাতায়ন’ তৈরি করা হয়েছে। এই পোর্টালের ওয়েব ঠিকানা “ইমাম.বাংলা“। ইতোমধ্যে ১,২৫,০০০ এর অধিক ইমাম-মুয়াজ্জিন এ বাতায়নে সম্পৃক্ত হয়েছেন। তারা নিয়মিত মাসলা-মাসায়েল, সাপ্তাহিক খুতবা, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ বিষয়ক কনটেন্ট, কিতাব, সাম্প্রতিক বিষয়াদিসহ দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক কনটেন্ট এ প্লাটফর্মে শেয়ার করছেন যা ইসলামের সঠিক ব্যাখ্যা পেতে সহায়তা করছে ও জঙ্গীবাদ বিরোধী মনোভাব তৈরি করছে।

একুশ শতকের দক্ষতা অর্জন ও গুণগত শিক্ষা নিশ্চিতকরণে শিক্ষায় প্রযুক্তি ব্যবহারের অন্যতম দৃষ্টান্ত মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম (এমএমসি)-এর ব্যবহার। বর্তমানে সারা দেশে শিক্ষা মন্ত্রনালয় ও প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের সহযোগীতায় ৩৫ হাজারের অধিক মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানসমূহ নিজ উদ্যোগে আরও ১০ হাজেরের অধিক মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করেছে। গ্রাম-শহরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার বৈষম্য নিরসনে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। শিক্ষক কর্তৃক মাল্টিমিডিয়া কন্টেন্ট তৈরি ও তা ক্লাসরুমে ব্যবহারের জন্যে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের অধীনে আইসিটি প্রকল্প এবং টিচিং কোয়ালিটি প্রজেক্টের মাধ্যমে শিক্ষকদের পুরুস্কার প্রদান করা হয়েছে।

‘মুক্তপাঠ’ বাংলা ভাষায় সর্ববৃহৎ ই-লার্নিং প্লাটফর্ম যেখানে অনলাইনে সাধারণ শিক্ষা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ রয়েছে। মুক্তপাঠে এ পর্যন্ত ১১ লক্ষেরও অধিক শিক্ষার্থী নিবন্ধিত রয়েছে যারা ১৯৯টি কোর্সের বিষয়ে জ্ঞানার্জনের সুযোগ পাচ্ছে এবং ৯ লক্ষ ৬৪ হাজারেরও অধিক শিক্ষার্থীকে সফলতার সাথে কোর্স সম্পন্ন করায় সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়েছে। বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান মুক্তপাঠের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনলাইনে কোর্সের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ প্রদান করছে।

এটুআই ‘এমপ্যাথি ট্রেইনিং’-এর মাধ্যমে ২২,৫৫৪ সরকারি কর্মকর্তার উদ্ভাবনী সক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে। ফলস্বরূপ, সরকারি সেবা প্রদানের প্রচলিত ব্যবস্থার উন্নয়নের তাগিদে সরকারী কর্মকর্তাদের দ্বারা ১,৪০০টির অধিক উদ্ভাবনী প্রকল্পের পাইলটিং সম্পন্ন হয়েছে।

বেকার যুবক-যুব মহিলাদের বিভিন্ন ট্রেডে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করে যথোপযুক্ত কর্মে নিযুক্ত করা হয়েছে। এ সকল প্রশিক্ষণার্থীদের বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণ ও তাদের মধ্যে নিয়মিত আদান-প্রদান পাশাপাশি নতুন প্রশিক্ষণের সময়সূচি, কোর্সসমূহের বিবরণ। এছাড়াও চাকরি সংক্রান্ত তথ্য, প্রশিক্ষণদানকারী প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন শিল্প-প্রতিষ্ঠানকে অনলাইনে একই প্ল্যাটফর্মে আনার এ উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে ‘দক্ষতা বাতায়ন’।

উদ্ভাবনী সংস্কৃতি তৈরি এবং শিক্ষার্থী-শিক্ষকসহ সকল পর্যায়ের জনগোষ্ঠীকে ডিভাইস বা সিস্টেম অথবা উভয়ের সমন্বয়ে গঠিত সমাধানের কেন্দ্র বিন্দু হচ্ছে আই-ল্যাব বা ইনোভেশন ল্যাব। ইতোমধ্যে উদ্ভাবনী সংস্কৃতিকে বেগবান করতে এটুআই প্রোগ্রাম ১৩৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইনোভেশন হাব’ তৈরি করেছে। যার মধ্য দিয়ে নাগরিক সমস্যার বাস্তবায়নযোগ্য সমাধান তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়া, সকল প্রতিষ্ঠানকে এক সুতোয় বাঁধতে আছে একটি অনলাইন পোর্টাল, যেখানে কমিটির সদস্যরা নিবন্ধিত হচ্ছে এবং আইল্যাবের সাথে সহজেই সরাসরি যোগাযোগ করতে সক্ষম হচ্ছে। সরকারি আরও বেশ কয়েকটি ল্যাবের সাথে এই ল্যাব সংযুক্ত। এই উদ্যোগের মাধ্যমে মেধা স্বত্বাধিকার সংরক্ষণ করা হচ্ছে। বর্তমানে ইনোভেশন ল্যাবে ৯৩টি প্রকল্প চলমান রয়েছে এবং ১৩০টি উদ্ভাবনী প্রকল্প তাদের কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে।
এছাড়াও এটুআই এর বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে সরকারি সেবা গ্রহণে সময়, খরচ এবং যাতায়াত এর সাশ্রয় ঘটেছে, যার ফলে জনগণ আরও বেশি সেবা গ্রহণে আগ্রহী হচ্ছেন। ২০০৯ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদৃষ্টি সম্পন্ন সিদ্ধান্তে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে যে দ্বার উম্মোচিত হয়েছিল তা আজ বাস্তব।

বর্তমান বাংলাদেশের বিশাল জনগোষ্ঠীকে কর্মদক্ষ করে গড়ে তুলতে তথ্যপ্রযুক্তিকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে অচিরেই বাংলাদেশে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হবে। যার ফলে সামাজিক, সাংস্কৃতিকসহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও স্বয়ংসম্পূর্ণতা আসবে। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রত্যাশা পূরণে একসেস টু ইনফরমেশন এটুআই প্রকল্প একটি মাইল ফলক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী ২০২১ সালে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের, ২০৪১ সালে উন্নত, জ্ঞানসমৃদ্ধ, প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ প্রবাহকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে।

লেখক:জনসংযোগ কর্মকর্তা, আইসিটি বিভাগ

Share This Post