তামাকজাত পণ্যের মূল্য ও কর বৃদ্ধি রোধে কোম্পানীর হস্তক্ষেপ বন্ধ করা জরুরী

তামাকজাত পণ্যের মূল্য ও কর বৃদ্ধি রোধে কোম্পানীর হস্তক্ষেপ বন্ধ করা জরুরী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে তামাক মুক্ত করার জন্য অনেক বেসরকারী প্রতিষ্ঠান বহুদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। এরপরও তামাকজাত দ্রব্যের মূল্য ও কর আশানুরূপ ভাবে বাড়ছেনা। মূল্য ও কর না বাড়ার পিছনে এখন পর্যন্ত যতগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম প্রধান কারণ হলো তামাকজাত পণ্যের উপর কর ও মূল্য বৃদ্ধি রুখতে তামাক কোম্পানীগুলোর স্পষ্ট হস্তক্ষেপ। আজ ২৬ আগস্ট, ২০২১ সকাল ১১টায় বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট ও ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট’র সমন্বিত উদ্যোগে “তামাকজাত পণ্যের মূল্য ও কর বৃদ্ধি রোধে কোম্পানীর প্রভাব” শীর্ষক ওয়েবিনারে বক্তারা তামাকজাত পণ্যের মূল্য ও কর বৃদ্ধি রোধে কোম্পানীর হস্তক্ষেপ বন্ধ করার দাবী জানান। প্রত্যাশা মাদকবিরোধী সংগঠন’র সেক্রেটারী জেনারেল হেলাল আহমেদের সভাপতিত্বে ওয়েবিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাস’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আমিরুল ইসলাম লিন্টু, প্রজন্ম মানবাধিকার কেন্দ্র’র সভাপতি আব্দুর রহমান রিজভী, সাফ’র নির্বাহী পরিচালক মীর আব্দুর রাজ্জাক, নাটাব’র প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর এ. কে. এম. খলিলউল্লাহ, টিসিআরসি’র প্রোগ্রাম ম্যানেজার ফারহানা জামান লিজা, ইপসা’র জেলা সমন্বয়ক মোহাম্মদ ওমর শাহেদ, এইড’র প্রকল্প প্রধান সাগুফতা সুলতানা, সিয়াম’র জেনারেল সেক্রেটারী মোঃ মাসুম বিল্লাহ্, ইলমা’র নির্বাহী পরিচালক জেসমিন সুলতানা পারু, রানী’র নির্বাহী পরিচালক ফজলুল হক, বিইআর’র প্রকল্প পরিচালক হামিদুল ইসলাম হিল্লোল ও মমতা পল্লী উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ইয়াকুব আলী। ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের প্রকল্প কর্মকর্তা সামিউল হাসান’র সঞ্চালনায় সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের প্রকল্প কর্মকর্তা মিঠুন বৈদ্য।

মো.আমিরুল ইসলাম লিন্টু বলেন, রাজনীতিবিদ ও সরকারী লোক কেনো তামাক কোম্পানীর পক্ষে কথা বলেন সে বিষয়ে আমাদের একটি গবেষণা করা উচিত এবং এই গবেষণা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী তামাক নিয়ন্ত্রনে দূর্বল দিকগুলো নিয়ে কাজ করতে হবে।

আব্দুর রহমান রিজভী বলেন, তরুণ সমাজকে ধূমপান থেকে বিরত রাখতে স্কুলের সিলেবাসে তামাকের ভয়াবহতা সম্পর্কিত বিষয় সংযুক্ত করার সাথে সাথে শিক্ষকদেরকেও তামাকের ক্ষতিকর দিকগুলো ছাত্র্ছাত্রীদের সামনে তুলে ধরতে হবে।

মীর আব্দুর রাজ্জাক বলেন, নকল ব্যান্ডরোল ব্যবহার কওে যারা সিগারেট বিক্রয় করছে তাদেরকে চিহ্নিত কওে আইনের আওতায় আনতে হবে। বংলাদেশকে তামাক মুক্ত করতে হলে তামাকজাত পণ্যেও কর ও মূল্য বৃদ্ধি করার পাশাপাশি মানুষকে নীতি-নৈতিক দিক থেকে সচেতন করতে হবে এবং এই খাত থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব যাতে সঠিক ভাবে ব্যায় হয় সে বিষয়ে সরকারের সদিচ্ছার প্রয়োজন।

এ. কে এম. খলিল উল্লাহ বলেন, তামাক কোম্পানীগুলো সরকারকে যে পরিমাণ রাজস্ব দেয় সে তুলনায় আরো অধিক অর্থ তামাকজনিত রোগের চিকিৎসা বাবদ ব্যয় হয়।

ফারহানা জামান লিজা বলেন, তামাক কোম্পানী থেকে সরকারের শেয়ার সরিয়ে নিতে হবে। যারা তামাক নিয়ন্ত্রণে কর্মরত সংগঠনগুলোকে এই বিষয়ে আরো জোরালো ভাবে কাজ করতে হবে।

মো: ওমর শাহেদ বলেন, সরকারের নীতিনির্ধারনী পর্যায় থেকে তামাকজাত পণ্যের সুনির্দিষ্ট মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। তামাকজাত দ্রব্য সেবনে, যে সকল পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে তাদেরকে সরকারের সামনে তুলে ধরতে হবে। তামাকের বিরুদ্ধে সংগঠিত আন্দোলন ও কার্যক্রম বিভিন্ন মিডিয়াতে বেশি বেশী করে প্রচার করতে হবে।

সাগুফতা সুলতানা বলেন, আমাদের আইন আছে কিন্তু তামাক কোম্পানীর হস্তক্ষেপের কারণে আইনের সঠিক প্রয়োগ হয়না। দেশে তামাক নিয়ন্ত্রনের লোকাল যে গাইডলাইন আছে সে অনুযায়ী যথাযথ ভাবে কাজ করতে হবে।

মোঃ মাসুম বিল্লাহ বলেন, যারা মানুষকে মৃত্যুও দিকে ঠেলে দেয় তাদের কাছ থেকে সরকার কোনো প্রকার প্রণোদনা নিতে পারেননা। যে সকল সংসদ সদস্য তামাক কোম্পানীর পক্ষে কথা বলেন তাদেরকে তামাক বিরোধী কার্যক্রমে যুক্ত করার পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে। তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে আরো বেগবান করতে সমগ্র দেশে এই দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান, মানববন্ধন আয়োজন করা সহ মিডিয়াতে প্রচার প্রচারণা বাড়াতে হবে।

জেসমিন সুলতানা পারু বলেন, তামাক কোম্পানীগুলোর কৌশলের বিরুদ্ধে কাজ করতে হলে আমাদেরকেও কৌশলী হতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত ২০৪০সালের মধ্যে বাংলাদেশকে তামাক মুক্ত করার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণায়ের সদিচ্ছা থাকা প্রয়োজন।

হামিদুল ইসলাম হিল্লোল বলেন, তামাক কোম্পানীগুলোর সামাজিক উন্নয়নের নামে অনৈতিক কর্মকান্ডগুলো বন্ধ করতে হবে। এফসিটিসি ৫.৩ আর্টিকেল কে বাস্তবায়ন করতে হবে যাতে সরকারী লোকের সাথে তামাক কোম্পানীর সম্পর্ক জনগণের সামনে সুস্পষ্ট হয়।

ইয়াকুব আলী বলেন, টাস্কফোর্স কমিটির কার্যক্রম আরও বাড়াতে হবে।

হেলাল আহমেদ বলেন, এনবিআর’র কিছু লোক আছে, যাদের সাথে তামাক কোমপানীর লোকদের যোগাযোগ রয়েছে তাদেরকে চিহ্নিত করতে হবে। তামাকের কর বৃদ্ধি এবং বিশেষ করে তামাক কোম্পানি থেকে কোম্পানির শেয়ার উত্তলন করার দাবিতে কঠোর আন্দোলন করতে হবে।

Share This Post