তদন্তের ধাক্কা সামলে ধারাবাহিক উত্থানে পুঁজিবাজার

তদন্তের ধাক্কা সামলে ধারাবাহিক উত্থানে পুঁজিবাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক
পিই রেশিও ৪০-এর বেশি কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর বেড়ে যাওয়া এবং এসব শেয়ারে মার্জিন ঋণ দেয়া হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার আদেশ দেয়ার পরদিন ভয় দেখিয়ে উত্থানই দেখল পুঁজিবাজার। একপর্যায়ে সূচক ২৮ পয়েন্ট কমে গেলেও শেষ পর্যন্ত তা আগের দিনের চেয়ে ৬২ পয়েন্ট বেড়ে শেষ হয়েছে লেনদেন। টানা আট কর্মদিবসে বেড়েছে সূচক। গত ৩১ আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত সূচক বেড়েছে ৪৩৫ পয়েন্ট। এর মধ্যে চলতি সপ্তাহেই বেড়েছে ২০৬ পয়েন্ট। এ নিয়ে টানা ১০ সপ্তাহ চাঙাভাবে শেষ হলো লেনদেন। সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস বৃহস্পতিবার লেনদেনের শুরুতেই সূচক বেড়ে গেলেও আধাঘণ্টার মধ্যে ২৮ পয়েন্টের মতো কমে যায়। আগের দিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির আদেশ দেয়ার পর তার প্রতিক্রিয়া কি না, এ নিয়ে শুরু হয় আলোচনা। তবে ২০ মিনিটও স্থায়ী হয়নি মন্দা পরিস্থিতি। বেলা পৌনে ১১টার দিকে পড়ে যাওয়া সূচক ফিরে পাওয়ার পর থেকে বেলা পৌনে ২টা পর্যন্ত কেবল বেড়েছেই সূচক। শেষ পৌনে এক ঘণ্টায় সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে কিছুটা কমে শেষ হয়েছে লেনদেন। সূচকের মতোই ছিল লেনদেনের চিত্রও। প্রথম দেড় ঘণ্টায় লেনদেনের গতি খুব একটা বেশি না থাকলেও শেষ দুই ঘণ্টায় শেয়ার কেনাবেচার ধুম পড়ে। দিনশেষে সূচকের মতোই লেনদেন ছাড়িয়ে যায় আগের দিনকে।
এদিন স্বল্প মূলধনী ৪০ পিই রেশিওর বেশি কোম্পানির ক্ষেত্রে দেখা গেছে মিশ্র প্রবণতা। লভ্যাংশ না দেয়া, লোকসানি কিছু কোম্পানির শেয়ারদর যেমন কমেছে, তেমনি মুনাফায় থাকা স্বল্প মূলধনী বেশ কিছু কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে। এই উত্থানের পেছনে কাজ করেছে মূলত বড় মূলধনি কোম্পানি ওয়ালটন, স্কয়ার, বিএসআরএম লিমিটেড, বিএসআরএম স্টিল, অলিম্পিক, গ্রামীণ ফোন, বেক্সিমকো ফার্মার আর ব্যাংকের শেয়ারদর বৃদ্ধি।
প্রধান খাতগুলোর মধ্যে প্রকৌশল, আর্থিক এবং ওষুধ ও রসায়ন খাতে দেখা গেছে মিশ্র প্রবণতা। অন্যদিকে সবচেয়ে বাজে দিন গেছে বস্ত্র খাতে। জ্বালানি খাতেও দর হারিয়েছে বেশিরভাগ কোম্পানি। একই দশা খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে।
গত কয়েকদিন ধরেই পুঁজিবাজারে সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে স্বল্প মুলধনি কোম্পানি নিয়ে। শেয়ার সংখ্যা কম, কেবল এই কারণে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে লোকসানি, বন্ধ, কখনও লভ্যাংশ না দেয়া কোম্পানির শেয়ারদরও। কারসাজি হচ্ছে-এমন আলোচনা ব্যাপক। এর মধ্যে নিয়ন্ত্রক সংস্থা মোটি দুটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এসব কোম্পানি নিয়ে করণীয় নির্ধারণে কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে এই কমিটি। সবশেষ সিদ্ধান্ত এসেছে বুধবার। মূল্য আয় অনুপাত তথা পিই রেশিও ৪০ এর বেশি-এমন কোম্পানির শেয়ারদর কেন বাড়ছে, এসব কোম্পানির শেয়ার ক্রয়ে মার্জিন ঋণ দেয়া হচ্ছে কি না, এই বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্তও হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পর দিন প্রতিক্রিয়া কী হয়, তা নিয়ে আলোচনা ছিল। দিনভর লেনদেনের চিত্র দেখলে একক সিদ্ধান্তে আসা কঠিন। সবচেয়ে বেশি দর বৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানির তালিকায় যেমন ছিল স্বল্প মূলধনি এক ঝাঁক কোম্পানি, তেমনি সবচেয়ে বেশি দর পতনের তালিকাতেও ছিল এসব কোম্পানি। সবচেয়ে বেশি দর হারানো সাতটি কোম্পানির ৫টিই স্বল্প মূলধনী, যেগুলোর শেয়ারদর বাড়ছিল লাফিয়ে লাফিয়ে। সবচেয়ে বেশি কমেছে মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার দর। ৭.৫২ শতাংশ কমে ৩১ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ২৯ টাকা ৫০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। মেঘটা কনডেন্সড মিল্কের শেয়ার দর কমেছে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬.৮৫ শতাংশ। তৃতীয় সর্বোচ্চ ৬.৫০ শতাংশ কমেছে ইমাম বাটনের দর। উড়তে থাকা স্বল্প মূলধনী সমতা লেদার ৫.৯৪ শতাংশ আর অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ ৫.২৬ শতাংশ দর হারিয়েছে। টানা বাড়তে থাকা লোকসানি তাল্লু স্পিনিংয় ও মিথুন নিটিংও দর হারিয়েছে। তাল্লুর দর কমেছে ৫.৩৩ আর মিথুন নিটিংয়ের ৩.৯৩ শতাংশ। আবার সবচেয়ে বেশি দর বৃদ্ধির তালিকায় থাকা রংপুর ফাউন্ড্রির দর ৮.৯১ শতাংশ আর কোহিনুর কেমিক্যালের দর বেড়েছে ৮.৭৪ শতাংশ। এএমসিএল প্রাণের দর ৮.৭৪ শতাংশ, এপেক্স ফুটওয়্যারের ৮.৪১ শতাংশ, ফার্মা এইডের ৯.৪৯ শতাংশ, অ্যাম্বি ফার্মার ৭.৪৮ শতাংশ, লিব্রা ইনফিউশনের ৭.৪০ শতাংশ, ন্যাশনাল টিউবের দর ৭.৩০ শতাংশ, সোনালী পেপারের দর ৭.০৪ শতাংশ, অ্যাপেক্স ফুডের দর ৬.৭৪ শতাংশ বেড়েছে।

Share This Post