ডিএসইকে ডিজিটালাইজড করতে আগ্রহী ডিএসই এর নয়া এমডি তারিকুল আমিন ভূঁইয়া

ডিএসইকে ডিজিটালাইজড করতে আগ্রহী ডিএসই এর নয়া এমডি তারিকুল আমিন ভূঁইয়া

গতকাল রোববার (২৫ জুলাই) ডিএসইতে ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে যোগদান করেছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তারিকুল আমিন ভূঁইয়া। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা ও শেয়ারবাজারের উন্নয়নে ডিএসইকে পূর্ণাঙ্গ রূপে ডিজিটালাইজড করে আইন অনুযায়ী সঠিকভাবে স্টক এক্সচেঞ্জের কার্যক্রম পরিচালনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে চান তিনি। ডিএসইকে ডিজিটালাইজড করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। ইতোমধ্যে ডিএসইকে প্রযুক্তিগতভাবে আরও সমৃদ্ধ করতে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কিছু যথাযথভাবে করা সম্ভব হলেই দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও আকৃষ্ট হবেন। তারিকুল আমিন ভূঁইয়া বলেন, সবার সার্বিক সহযোগিতায় এই ডিএসইকে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটালাইজড স্টক এক্সচেঞ্জে রূপান্তরিত করে তুলব। এতে একদিকে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা হবে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুপরিচিত হবে ডিএসই। পাশাপাশি আইন অনুযায়ী সঠিকভাবে স্টক এক্সচেঞ্জের কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। ডিএসইর নতুন এমডি বলেন, ডিএসই’র সার্বিক উন্নয়নের জন্য প্ল্যাটফর্ম, প্রসেস, পিপলস, প্রোডাক্ট ও পলিসি এই ‘ফাইভ পি’ বাস্তবায়ন করা গেলে ডিএসই অবশ্যই পূর্ণাঙ্গ রূপে ডিজিটালাইজড হবে।আমি ধারাবাহিকভাবে ‘ফাইভ পি’ বাস্তবায়নের চেষ্টা করব।

তারিকুল আমিন ভূঁইয়া আরও বলেন, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ বাড়াতে বিএসইসি সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। দেশে শেয়ারবাজারকে নিয়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের যে ভ্রান্ত ধারণা ছিল কাটাতে সোমবার থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ‘রোড শো’ শুরু হচ্ছে। এতে ডিএসই’র প্রতিনিধিরাও অংশগ্রহণ করেছেন। রোড শো’তে দেশের শেয়ারবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি, বিনিয়োগের সুযোগ-সুবিধা এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের ব্যাপকতা তুলে ধরা হবে।

তারিকুল আমিন ভূঁইয়া প্রশাসন ও ব্যবসা পরিচালনা, ডিজিটাল অ্যান্ড ফ্যাইনান্সিয়াল টেকনোলজি এবং আইটি সেক্টরের একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তি। ৫ জুলাই বিএসইসি তার নিয়োগের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। এর আগে গত ৪ জুলাই অনুষ্ঠিত ১০০৮ তম পরিচালনা পর্ষদ সভায় তারিকুল আমিন ভূঁইয়াকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়ে বোর্ড অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন রেগুলেশন্স, ২০১৩ অনুযায়ী তার নিয়োগ অনুমোদনের জন্য শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) প্রস্তাব পাঠায় ডিএসই।
ডিএসইতে যোগদানের পূর্বে তিনি ফ্রেন্ডশিপ এনজিও’র তথ্যপ্রযুক্তি পরামর্শক এবং অস্ট্রেলিয়ার হ্যাশক্লাউড পিটিওয়াই লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা সিইও এবং সিটিপিও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি হ্যাশক্লাউড বাংলাদেশ লিমিটেডের নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ব্র্যাক ব্যাংকের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (সিআইও) এবং মোবাইল মানি ট্রান্সফার কোম্পানি বিকাশের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। পেশাগত জীবনে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান- এএনজেড গ্রিন্ডলেস ব্যাংক, বাংলাদেশ এর গ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি আইএনজি, সেন্ট জর্জ ও ওয়েস্ট পেক এবং গ্লোবাল পরামর্শক সংস্থা- আইটি প্রতিষ্ঠান টাটা কন্সালটেন্সি সার্ভিসেস (টিসিএস), ইনফোসিস এবং উদ্ভাবনী পরামর্শক সংস্থা- অ্যাকসেন্টারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ২৫ বছরেরও বেশি সময় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।

Share This Post