টোকাই নয় মানুষ হিসেবে বাঁচতে চাই

টোকাই নয় মানুষ হিসেবে বাঁচতে চাই

অশ্রু মল্লিক (জবি প্রতিনিধি ) : 
বর্তমানে ঢাকা মহানগরীতে লক্ষাধিক দারিদ্রপীড়িত বস্তিবাসী জীবনযাপন করে থাকে। দারিদ্রপীড়িত এ সকল পরিবার তাদের শিশুদের মৌলিক চাহিদাগুলি পূরণ করতে কখনোই সক্ষম হয় না। এর পরিণতিতে বস্তির শিশুরা বাধ্য হয়ে অপরিণত বয়সে রোজগারে নামতে বাধ্য হয়। ঢাকা শহরের সাধারণ চিত্রের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছে এ টোকাইরা। অধিকাংশ টোকাইর বয়স ৮ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে, তবে এর অধিক বয়স গ্রুপের টোকাইও দেখতে পাওয়া যায়। সচরাচর ছেলে টোকাইদের তুলনায় মেয়ে টোকাই-এর সংখ্যা অল্প। অধিকাংশ টোকাই নিরক্ষর এবং শহরে নতুন।অধিকাংশ টোকাইরই বাবা অথবা মা নেই। কেউ কেউ তাদের পরিবার কর্তৃক পরিত্যক্তও বটে।
সাধারণত জনসমাগমপূর্ণ স্থানে প্রধানত বাস, ট্রেন, লঞ্চ টার্মিনাল, রাজপথ, আবাসিক এলাকা, ডাস্টবিনের কাছাকাছি টোকাইরা তাদের রোজগারের সন্ধানে বেশি ব্যস্ত থাকে। বেঁচে থাকার জন্য এরা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করে থাকে। দিনরাত খেটে এরা দৈনিক গড়ে ৫০ টাকার মতো আয় করে। সাধারণত টোকাইদের কোনো কাজে দক্ষতা থাকে না। 
পুরান ঢাকাস্থ বাহাদুর শাহ পার্কের এক কিশোরের (আনোয়ার , বয়স-১০)সাথে কথা বলে জানা যায়,  টাকা আয়ের জন্য সে  ডাস্টবিন, ফুটপাথ, রাস্তাঘাট, রাস্তার পাশের নর্দমা, আবর্জনা নিক্ষেপের স্থান অথবা অন্যান্য জায়গা থেকে ভাঙা কাচের টুকরা, বাতিল কাগজ, শিশি বোতল, লোহা, প্লাস্টিক দ্রব্য প্রভৃতি পুনরায় ব্যবহারযোগ্য জিনিসপত্র সংগ্রহ করে থাকে। পিঠে পাটের বস্তা নিয়ে তাতে এ সকল সংগৃহীত জিনিসগুলি রাখে। একসময় বস্তাটি ভর্তি হয়ে ভারি হয়ে গেলে তারা ভাঙারির দোকানে গিয়ে এগুলি বিক্রি করে দেয়। উপার্জিত যৎসামান্য টাকা দিয়ে কোনদিন দু ‘বেলা খেতে পারে, কোনদিন এক বেলা আবার কখনোবা  না খেয়ে দিন কেটে যায় তার।
আনোয়ার তার বন্ধুদের ব্যাপারে বলে, টাকার বিনিময়ে রাজনৈতিক দলের নেতাদের মিছিল, হরতালের পিকেটিংসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে ব্যবহার করছে তাদের।
প্রকৃতপক্ষে দরিদ্র, অশিক্ষিত এবং কিশোর বয়সের হওয়ায় টোকাইরা প্রায়ই বিভিন্ন অপরাধমূলক এবং অনৈতিক কর্মকান্ডে ব্যবহূত হয়ে থাকে। কখনও কখনও মাদক ব্যবসায়ীরা মাদক বিক্রয়ে টোকাইদের কাজে লাগিয়ে থাকে।
বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সংস্থা ও সরকার পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারিনি। এমতাবস্থায় তাদের জন্য যদি বিশেষ কোন কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতো তাহলে বিভিন্ন অপরাধমূলক এবং অনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা বন্ধ হয়ে যেত।বর্তমান সময়ে আমরা টোকাইদের হীনমন্যতার চোখে দেখে থাকি তারাও যে মানুষ, তাদের ও বাঁচার অধিকার আছে সমাজে , তা না ভেবে বিভিন্ন সময়ে আমরা তাদের উপর প্রহার করি। আসুন, নিজেকে বদলিয়ে জীবন বদলে দেই! টোকাই নয়, মানুষ হিসেবে বাঁচতে দিই ।

Share This Post