ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে জঙ্গল পীরের মাজারটি রক্ষণাবেক্ষনের অভাবে ধ্বংসের পথে

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে জঙ্গল পীরের মাজারটি রক্ষণাবেক্ষনের অভাবে ধ্বংসের পথে


নিয়ামত উল্লাহ (কালীগঞ্জ ,ঝিনাইদহ ): 
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক পীর জংগী শাহের মাজারটি রক্ষণাবেক্ষনের অভাবে আজ ধ্বংসের পথে। এলাকার কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি দরগার বিভিন্ন ধরনের মূল্যবান গাছ বিক্রি করে দিয়েছে। কালীগঞ্জ উপজেলার আড়পাড়া গ্রামের ভিতর ৪একর ৭০শতক জমির উপর অবস্থিত জংগী পীরের দরগা। যা আজ জঙ্গল পীরের দরগা নামে পরিচিত। দরগাটি এক সময় অত্র এলাকার মধ্যে ছিল কিংবদন্তী। জঙ্গল পীরের দরগাটি ছিল উপজেলা বাসীর মুখে মুখে। এলাকা বাসী অত্যান্ত শ্রদ্ধা ভরে জংগী পীরকে আজও স্মরণ করে। তার নামে দরগায় মানত করে।         এমন এক সময় ছিল তখন প্রতিদিন সকালে-–বিকালে মানতের সিন্নি আসত। কিন্তু দরগাটি আগের মত আর নেই । দরগার প্রায় ৫একর জমি নিয়ে গাছ পালায় পরিবেষ্টিত ছিল। সে সময় দরগায় গেলে শরীর ছিম ছিম করতো। সূর্যের কিরণ মাটি পর্যন্ত স্পর্শ করতো না। বর্তমানে দরগার অনেক জমি প্রভাবশালীরা দখল করে নিয়েছে। গাছ পালা কেটে সাবাড় করেছে। আজ জংগী পীরের দরগার অস্তিত্ব বিলীন হতে চলেছে। স্থানীয় মুরব্বীদের সাথে আলাপ করে জানা যায়,এক সময় এলাকায় কারো বাড়িতে বড় ধরনের খানার আয়োজন হলে দরগার পার্শ্বে অবস্থিত পীর জংগী শাহের খননকৃত পুকুরের পাটে বসে প্রয়োজনীয় সংখ্যক থালা,বাসন,হাঁড়ি,কড়াই প্রার্থনা করলে পরের দিন যথা সময়ে পুকুরের মাঝখান হতে নৌকা বোঝায় হয়ে ভেসে উঠতো। সেগুলো নিয়ে কাজ শেষে পরিষ্কার করে পুনরায় ওই রেখে আসলে বাসন ভর্তি নৌকাটি আস্তে আস্তে তলিয়ে যেত। একদিন একটি খানার অনুষ্ঠান থেকে আড়পাড়া গ্রামের এক মহিলা একটি বাটি গোপন করেছিল। এরপর থেকে আর কোন দিন বাসন ভর্তি নৌকা পুকুর থেকে ওঠেনি। তবে এ ঘটনার আগ মুহুর্ত পর্যন্ত শুধু আড়পাড়াবাসীই নয় বিভিন্ন অঞ্চলের জন সাধারণ এ সব বাসন খানায় ব্যবহার করেছে বলে জানা যায়। এলাকায় জনশ্র“তি রয়েছে, এক সময় এ অঞ্চলে কলেরা  বসন্ত মহামারী আকার ধারণ করে। এতে পার্শ্ববর্তী গ্রামে অনেক মানুষ মারা যায়। এ বিপদের সময় আড়পাড়া গ্রামবাসী এই দরগায় মান্নত করে কলেরা – বসন্তের হাত থেকে রক্ষা পায়। সেই থেকে আজ পর্যন্ত প্রতি বছরের অগ্রহায়ন মাসের শেষ রবিবার গ্রামবাসী সমবেত হয়ে দরগায় সিন্নী দিয়ে আসছে। মুরব্বীরা আরো জানায়, অগ্রহায়ন মাসে শেষ রবিবার ও বৃহস্পতিবার আড়পাড়া গ্রামের বিল থেকে রাতে বাঘ উঠে আসতো। এ বাঘ দেখার জন্য গ্রামবাসীরা আগে থেকেই ওৎ পেতে থাকতো। বাঘটি জনসাধারনের পাশ দিয়ে এসে দরগার মধ্যে একটি নির্দ্দিষ্ট রয়না গাছের তলায় বসতো । সেই রয়না গাছের গুড়াই লোক জন মান্নত করে সিন্নী রেখে আসতো। এখন সেই রয়না গাছ না থাকলেও মানুষ মান্নত করে এবং দরগায় সিন্নী রেখে আসে ।  জঙ্গল পীরের দরগাটি রক্ষা করতে ও দরগার ঐতিহ্য ধরে রাখতে এলাকায় সচেতন ব্যক্তিরা কেউ এগিয়ে আসেনি। বরং যে যখন সুযোগ পেয়েছে সে তখন দরগার জমি দখল সহ দরগার গাছ কেটে বিক্রি করে দিয়েছে। আজ দরগাটির নাম শুধু কাগজ কলমে ও ইতিহাসের পাতায় লিপি বদ্ধ রয়েছে।         এলাকাবাসীর দাবী জঙ্গল পীরের দরগার কোন সীমানা প্রাচীর না থাকায় এবং সরকারী ভাবে রক্ষনাবেক্ষনের জন্য কোন উদ্যোগ না নেওয়ায় এই দরগায় নানা ভাবে অত্যাচার হচ্ছে। ঝিনাইদর্হে ঐতিহ্যবাহী এ দরগাটি সরকারী ভাবে রক্ষনাবেক্ষনের অতি প্রয়োজন।

Share This Post