জিএসপি প্লাস: ইউরোপের ২৭ দেশের সঙ্গেই বসতে হবে

জিএসপি প্লাস: ইউরোপের ২৭ দেশের সঙ্গেই বসতে হবে

 ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে নতুন করে জিএসপি প্লাস সুবিধা নিতে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে এককভাবে আলোচনা করতে হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। বুধবার (১৭ নভেম্বর) বিকালে সচিবালয়ে নবনিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলির সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি সৌজন্যে সাক্ষাৎ করতে এসেছেন। তার সঙ্গে জেনারেলি আলোচনা হয়েছে। আগামীতে আমরা এক সঙ্গে কাজ করবো। বাণিজ্য সংক্রান্ত নিদিষ্ট কোনো কিছু নিয়ে আলোচনা হয়নি। তবে জিএসপি ও জিএসপি প্লাসসহ বাংলাদেশে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রয়োজন হলে সামনে আরও আলোচনা করা হবে। তিনি বলেন, আমরা জিএসপি ও জিএসপি প্লাস নিয়ে বলেছি। জিএসপি প্লাস আমরা ২০২৯ সাল পর্যন্ত পাবো বলে আশা করছি। তবে আমাদের প্রত্যাশা আরেকটু বেশি। এ বিষয়ে গভীর কোনো আলোচনা হয়নি। আমরা শুধু জানিয়েছি আমাদের আরও দরকার। তিনি বলেছেন আলোচনা করা যেতে পারে।
সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত বলেছেন, জিএসপি প্লাস খুব একটা সহজ হবে না, সে বিষয়ে আপনার মতামত কি? এমন প্রশ্নের জবাবে বানিজ্যমন্ত্রী বলেন, আজকে তার সঙ্গে কথাতে জিএসপি প্লাসের বিরুদ্ধে কিছু বলেনি। তবে সহজ নাও হতে পারে। তিনি বলেছেন তোমরা আলোচনা করতে পারো৷ কিন্তু আজকে তিনি পজেটিভই বলেছেন। সব দেশের সাপোর্ট দরকার আলোচনা করতে হলে। ইউরোপের ২৭ টি দেশের সঙ্গে এককভাবে আমাদের যোগাযোগ করতে হবে।
২০২৪ থেকে ২০৩৪ সাল পর্যন্ত নতুন করে জিএসপি প্লাস চালু হতে যাচ্ছে, সেখানে বলা হয়েছে, ৬ শতাংশের বেশি পণ্য রপ্তানি করতে পারবে না, এ বিষয়ে সরকার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনা করবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে টিপু মুনশি বলেন, ৬ শতাংশের বেশি সিঙ্গেল পণ্যের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, আমরা এ বিষয়ে আলোচনা করবো। আমরা সব দিক থেকে চেষ্টা করবো। কারণ ইউরোপীয় ইউনিয়ন আমাদের তৈরি পোশাক খাতের সবচেয়ে বড় বাজার।  ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে চায় কিনা জানতে চাইলে টিপু মুনশি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে চায়৷ তারা বাংলাদেশ সম্পর্কে ভালো জানে।
আমরা উন্নয়নশীল থেকে উন্নত দেশের দিকে যাচ্ছি। সেখানে আমাদের কতটুকু প্রস্তুতি আছে জিজ্ঞেস করলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের যেমন চ্যালেঞ্জ আছে তেমনি কিছু সমস্যাও আছে। যখন হবে তখন ডিউটি কাঠামোতে পরিবর্তন আসবে, রাজস্ব আয় বাড়বে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী ১০০ বছরের প্লান করে রেখেছেন। আমরা চেষ্টা করবো এ চ্যালেঞ্চগুলোর বাইরে গিয়ে পিটিএ, এফটিএ করতে। কোথাও না কোথাও ক্লেস আসবে। তারপরও আমরা দীর্ঘ দৌড়ের জন্য প্রস্তুত আছি। যে কোন ধরনের সমস্যা মোকাবিলা করার জন্য আমরা প্রস্তুতিও নিয়েছি।

Share This Post