চাকরির নামে প্রতারণা : নিজের বয়ানে কষ্টের কথা জানালেন ভুক্তভোগী রিয়াজ

চাকরির নামে প্রতারণা : নিজের বয়ানে কষ্টের কথা জানালেন ভুক্তভোগী রিয়াজ

অনেকেই বিভিন্ন অভিযোগের কথা জানান ফোনে/মেসেঞ্জারে । আজ এমনই একজন মেসেঞ্জারে তার কষ্টের কথা জানালেন। রিয়াজ এর অনুমতিসাপেক্ষে তার লেখা হুবহু পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো:

আমি মোহাম্মদ রিয়াজ
বাসা ভোলা সদর ৩ নং পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়ন
৭ নং ওয়ার্ড, গ্রাম জাংগালীয়া।

করোনার কারণে আর্থিক সমস্যা পড়ার কারণে চাকরির জন্য অনেক জায়গায় অনেক ছোটাছুটি করি।
ছোট বড় অনেকের কাছে একটি চাকরির ব্যবস্থার কথা বলি।
হঠাৎ আমার শ্রদ্ধেয় বড় ভাই ( বাবুল রানা) আমাকে কল দিয়ে বলে আমার একটি চাকরি হয়েছে ঢাকাতে। তাও আবার বিনা অভিজ্ঞতায় সুপার ভাইজার পদে। বিশ্বস্ত ভাইয়ের কথা শুনে সেই কোম্পানির ( Be alert) সাথে যোগাযোগ করি । চাকরির ব্যাপারে মোবাইলের মাধ্যমেই নিশ্চিত হই। এরপর গ্রাম ছেড়ে ঢাকার উদ্দেশ্য রওনা করি গতমাসের বৃহস্পতিবার ( ৯ সেপ্টেম্বর ২১) । ১০ সেপ্টেম্বর রোজ শুক্রবার ঢাকায় এসে কোম্পানির একজন ( রোজা) অফিসের কর্মকর্তা কাছে কল করি। এরপর ওনি শাহিন নামে একজনের ফোন নাম্বার দিয়ে বলে ওনার সাথে যোগাযোগ করে ওনাদের অফিসে যাওয়ার জন্য ।
শাহিনের কাজ হলো আমাকে অফিসে নিয়ে যাওয়া ও কাজ বুঝিয়ে দেওয়া।
শাহিনের সাথে দেখা করি উওরা আজমপুর কাঁচা বাজার। এরপর ওনি আমাকে অফিসে না নিয়ে ওনার বাসায় নিয়ে যায়। একটি ফরম পূরণ করতে বলে এবং খাবার খরচ ৩৫০০ টাকা চায়। ৩৫০০ টাকা দেওয়ার পর ওনি ওনাদের কোম্পানিতে না নিয়ে অন্য কোম্পানি ( রেড জোন) এ আমাকে পাঠায়। এবং আমাকে বলে দেয় ঐ কোম্পানিতে আমার থেকে নাকি আর কোন খাবারের খরচ নিবে না।
ঐ কোম্পানি ( রেড জোন) এ যাওয়ার পর শুনি ঐ টাকা আর ফেরৎ পাব না।ঐ টাকা চাঁদাবাজি করসে। এরপর রেড জোন এ কয়েকদিন কাজ করার পর চলে আসি। ঐখানের যারা ছিলেন তারাও আমার মতো প্রতারিত হয়ে সিকিউরিটি গার্ড এ চাকরি করেন।

এর পর শাহিন কে কল দিয়ে বলি টাকা ফেরৎ দেওয়ার জন্য। কিন্তু ওনি বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে কল কেটে আমার ফোন নাম্বার ব্লক লিস্ট করে রাখে।

হতাশ হয়ে কোম্পানির নাম্বারে কল করি। কল রিসিভ করে আরিয়ান। বিষয়টি ওনাকে বুঝিয়ে বলার পর ওনি ঐ কোম্পানির দায়িত্ব থাকা একজনের সাথে যোগাযোগ করতে বলে। ওনার ( আলো ম্যাম) সাথে যোগাযোগ করলে নাকি এর সমাধান পাওয়া যাবে।
এমন করে তারপরের দিন একটি নাম্বার দিল। কিন্তু সেই ফোন নাম্বার টি আর ব্যবহৃত হচ্ছে না।
এরপর একাধিক বার অফিসের নাম্বার এ কল করে কারো সাথে যোগাযোগ করতে পারিনি।

উওরা পশ্চিম থানায় ( উওরা, সেক্টর ১০, রোড নং ১৮) গিয়ে বিষয়টি বলার পরও কোন সমাধান পাইনি। সম্ভবত কম টাকা চাঁদাবাজি করার কারণে তাদের তেমন সাড়া নেই।
থানা থেকে আমাকে যেমন টি বলল, কোম্পানির অফিসের নিছে গিয়ে ৯৯৯ এ কল করতে। কিন্তু গ্রাম থেকে প্রথম ঢাকায় আসায় ঐ কোম্পানির স্থানে যাওয়ার সাহস হয়ে উঠেনি। তাই শেষ আমার এই শেষ চেষ্টা টুকু।

অফিসের ঠিকানা :হাসান কমপ্লেক্স, কাচাবাজার, আজমপুর,উওরা,ঢাকা ১২৩০ ( ফেসবুক থেকে সংগ্রহ)

তাদের কল রেকর্ড ও আমার কাছে রয়েছে।

পরিশেষে একটি কথাই বলতে চাই, শাহিন এর মতো প্রতারকদের কঠিন শাস্তি হোক। যেন সহজ সরল মানুষের এভাবে চোখের পানি না ফেলতে হয়।

Share This Post