চট্টগ্রাম বন্দর পড়ে থাকা নিলাম অযোগ্য কন্টেনার ধ্বংসের প্রক্রিয়াশুরু

চট্টগ্রাম বন্দর পড়ে থাকা নিলাম অযোগ্য কন্টেনার ধ্বংসের প্রক্রিয়াশুরু

জাহেদ কায়সার (চট্টগ্রাম) :

চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘ সময় পড়ে থাকা ১৮৮ কন্টেনার বিভিন্ন ধরনের নিলাম অযোগ্য পণ্য ধ্বংসের প্রক্রিয়া শুরু করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। ধ্বংসযোগ্য পণ্যের তালিকায় রয়েছে- পেঁয়াজ, আপেল, মাল্টা, এ্যানিম্যাল ফিড, , ফিস ফিড, কানাডিয়ান ক্যানুলা, মিট অ্যান্ড বোন মিল , ম্যান্ডারিন, মাছ, বিভিন্ন ধরণের শস্য বীজ এবং লিকুইড ড্রিংকস ইত্যাদি। ইতিমধ্যে এসব পণ্য ধ্বংসের জন্য স্থান নির্ধারণ করার কাজ শুরু করেছে বলে জানা যায় । এছাড়া ধ্বংসের সাথে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সাথে সমন্বয় শেষে ধ্বংস কার্যক্রম শীঘ্রই শুরু হবে বলে জানিয়েছেন কাস্টমস নিলাম শাখার একজন কর্মকর্তা।
চট্টগ্রাম কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, আমদানিকৃত পণ্য জাহাজ থেকে বন্দর ইয়ার্ডে নামার ৩০ দিনের মধ্যে খালাস নিতে হয়। এই সময়ের মধ্যে কোনো আমদানিকারক পণ্য খালাস না নিলে দ্যা কাস্টমস এ্যাক্ট সেকশন ৮২ ধারা মতে উক্ত পণ্য নিলাম যোগ্য বলে বিবেচিত হয়। কিন্তু আমদানিকারক বিভিন্ন সমস্যার কারণে যথাসময়ে পণ্যভর্তি কন্টেনার খালাস না করলে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমের ব্যাঘাত ঘটে। এক্ষেত্রে পচনশীল পণ্যভর্তি কন্টেনার একটি বড় সমস্যা। বছরের পর বছর এসব কন্টেইনার খালাস না হওয়ায় পণ্যের গুণগত মান নষ্ট হয়ে তা নিলাম অযোগ্য হয়ে পড়ে।

বন্দর ব্যবহারকারীরা জানান, নিলাম অযোগ্য পণ্য বন্দরের জন্য একটি বিশাল সমস্যা। অনেক সময় আইনি জটিলতায় নিলাম অযোগ্য পণ্য ধ্বংস করতে পারে না কাস্টমস। ফলে বন্দর ইয়ার্ডে এসব কন্টেনারের জন্য জট লেগে যায়।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কাস্টমসের নিলাম শাখার সহকারী কমিশনার মো. আলী রেজা হায়দার বলেন, নিয়মিত নিলাম কার্যক্রমের পাশাপাশি আমরা ধ্বংস কার্যক্রমও চালিয়ে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে পণ্য ধ্বংস কমিটি ১৮৮ কন্টেনার নিলাম অযোগ্য কন্টেনার ধ্বংসের অনুমোদন দিয়েছে। এখন সরকারি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সাথে সমন্বয় করে আমরা ধ্বংস কার্যক্রম শুরু করবো। নিলাম অযোগ্য কন্টেনার চট্টগ্রাম বন্দরের বোঝা। এর আগে চলতি বছরে করোনার পরিস্থিতির অবনতির সময়েও কাস্টমস ২৯৮ কন্টেনার পণ্য উত্তর হালিশহর বে – টার্মিনাল এলাকায় ধ্বংস করা হয়েছে । এরই ধারাবাহিকতায় আমরা পুনরায় ধ্বংস কার্যক্রম শুরু করছি।

Share This Post