ঘোষিত হয়নি নির্বাচনি তফসিল, চূড়ান্ত হয়নি নির্বাচনের দিন : খুলনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নে প্রতীক নিয়ে প্রচারণা

ঘোষিত হয়নি নির্বাচনি তফসিল, চূড়ান্ত হয়নি নির্বাচনের দিন : খুলনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নে প্রতীক নিয়ে প্রচারণা

এম এ আজিম, (খুলনা):তফসিল ঘোষণার আগেই খুলনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রচারণায় নেমেছেন। ঘোষিত হয়নি নির্বাচনি তফসিল। চূড়ান্ত হয়নি নির্বাচনের তারিখ। আর প্রার্থীতা চূড়ান্ত বা প্রতীক বরাদ্দ আরও অনেক পরের বিষয়। কিন্তু তাই বলে তো আর বসে থাকা যায় না। সম্ভাব্য প্রার্থীরা এরই মধ্যেই নেমে পড়েছেন প্রচারণায়। এ ক্ষেত্রে ইচ্ছামত ব্যবহার করা হয়েছে ‘প্রতীক’। এ চিত্র এ অঞ্চলের পরিবহন শ্রমিকদের বৃহৎ সংগঠন খুলনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের (১১১৪)।ইউনিয়নের বর্তমান সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক থেকে শুরু করে সম্ভাব্য সকল প্রার্থীই তাদের প্রচারণায় নিজ নিজ পছন্দের ‘প্রতীক’ ব্যবহার করেছেন। আর এসব ‘প্রতীক’ সম্বলিত প্যানা-ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে পুরো সোনাডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালসহ বিভিন্ন  এলাকা।এদিকে, তফসিল ঘোষণার আগেই ‘প্রতীক’ ব্যবহারকে নিরুৎসাহিত করেছে শ্রম দপ্তর। শ্রম দপ্তর বলছে, বরাদ্দের আগেই ‘প্রতীক’ ব্যবহার করে প্রচারণা চালানো ঠিক না। এ ধরনের কার্যক্রম থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরত থাকতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খুলনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সর্বশেষ ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন ২০১৮ সালের ১৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে কাজী মো. নূরুল ইসলাম বেবী সভাপতি এবং মো. জাকির হোসেন বিপ্লব সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে আবারও নতুন নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ইউনিয়নের কার্যকরী কমিটির সভায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিন্তু দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। বিষয়টি ইউনিয়নের সাধারণ সভায় চূড়ান্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। কিন্তু তার আগেই সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইচ্ছামাফিক ‘প্রতীক’ ব্যবহার করে প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইউনিয়নের বর্তমান সভাপতি কাজী মো. নূরুল ইসলাম বেবী আসন্ন নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিয়েছেন। সেভাবেই চলছে তার প্রচারণা। এরই মধ্যেই তিনি প্যানা-ফেস্টুনে নিজের ছবি ও প্রতীক হিসেব ‘চেয়ার’ ব্যবহার করে প্রচারণা চালাচ্ছেন।অপরদিকে, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হোসেন বিপ্লব আবারও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়ে মাঠে নেমেছেন। তিনিও একইভাবে প্রতীক হিসেবে ‘আনারস’ ব্যবহার করে গোটা সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল এলাকা ছেয়ে ফেলেছেন। আবার তার পক্ষেও কেউ কেউ তার প্রতীক ও ছবির সঙ্গে নিজেদের ছবি দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন।এছাড়া, সম্ভাব্য সভাপতি প্রার্থী হিসেবে মো. জাহিদ খাঁন (মশাল), মীর মোতালেব হোসেন (ডলফিন), মো. মনোয়ার হোসেন মনা (জায়নামাজ) ও মো. ইলিয়াস হোসেন সোহেল (হাতি)’র নামও শোনা যাচ্ছে। এরই মধ্যেই তারা উল্লিখিত প্রতীক সম্বলিত প্যানা-ফেস্টুন বিভিন্ন স্থানে ঝুলিয়েছেন। কার্যকরী সভাপতি হিসেবেও মো. বাবুল মাতুব্বর (গামছা) এবং মো. মতিয়ার রহমান (টেবিল) প্রতিক ব্যবহার করে প্রচারণা শুরু করেছেন। এছাড়াও মোট ২৫টি পদের বিপরীতে আরও প্রায় ৭০-৭৫জন প্রার্থী প্রচারণায় রয়েছেন। ইউনিয়নের এবার ভোটার সংখ্যা ৮ হাজার থেকে সাড়ে ৮ হাজারের মধ্যে হতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে।ইউনিয়নের বর্তমান সভাপতি কাজী মো. নূরুল ইসলাম বেবী জানান, গত ২১ আগস্ট তারা সভা করে ইউনিয়নের নির্বাচন পরিচালনার জন্য ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করেছেন। পরিচালনা কমিটিই এখন তফসিল ঘোষণা এবং নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করবেন। তবে, আগামী ২০ থেকে ২৭ নভেম্বরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।আসন্ন নির্বাচনে সম্ভাব্য সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে বিভিন্ন স্থানে ‘চেয়ার’ প্রতীক সম্বলিত তার প্যানা-ফেস্টুন লাগানোকে ‘অন্যায়’ বলে স্বীকার করেছেন বেবী। তবে, তিনি নিজে নন, তার পক্ষে অন্যরা এটি লাগিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।সম্ভাব্য সভাপতি প্রার্থী মো. মনোয়ার হোসেন মনা জানান, তিনি এবারই প্রথম সভাপতি হিসেবে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিয়েছেন। অপেক্ষায় ছিলেন তফসিল ঘোষণার। কিন্তু তার আগেই অন্য প্রার্থীরা প্রতীক দিয়ে প্রচারণা শুরু করায় তিনি পিছিয়ে যাচ্ছিলেন। তাই এক প্রকার বাধ্য হয়েই তিকি ‘জায়নামাজ’ প্রতিক দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে, এটি বিধি বহির্ভূত হলে তিনি নামিয়ে ফেলবেন বলেও উল্লেখ করেন।এ বিষয়ে খুলনা বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের রেজিস্ট্রার অব ট্রেড ইউনিয়ন্স ও পরিচালক (যুগ্ম শ্রম পরিচালক) মো. মিজানুর রহমান জানান, প্রতীক বরাদ্দ করবে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি। কিন্তু বরাদ্দের আগেই ‘প্রতীক’ ব্যবহার করে প্রচারণা চালানোর সুযোগ নেই, এটা ঠিক না। তারা সংশ্লিষ্ট প্রতীক নাও পেতে পারেন। তাছাড়া পছন্দের প্রতিকটি না পেলে তার অর্থের অপচয় হবে। এটি আমাদের এক ধরনের ট্রাডিশন হয়ে গেছে। তবে, এ ধরনের কার্যক্রম থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরত থাকতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

Share This Post