ঘাটাইলে দিনের বেলায় অভিনব কায়দায় চুরি!

ঘাটাইলে দিনের বেলায় অভিনব কায়দায় চুরি!

নজরুল ইসলাম (ঘাটাইল,টাঙ্গাইল) :
পরিবার পরিকল্পনার স্বাস্থ্যকর্মী সেঁজে গ্রামের মহিলাদের বোকা বানিয়ে প্রায় আড়াই লক্ষ টাকার স্বর্ণালংকার নিয়ে চম্পট দিয়েছেন এক যুবতী চোর।
আজ মঙ্গলবার ১২অক্টোবর সকাল ১০টায় টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার রামদেবপুর (চকচকিয়া) গ্রামে ব্যতিক্রমী এ চুরির ঘটনা ঘটে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, উপজেলার চকচকিয়া পাড়ার ছায়েদ আলীর বাড়িতে সকাল নয়টার দিকে  পরিবার পরিকল্পনার কর্মী ঘাটাইল জামুরিয়া বাড়ি পরিচয়ে বোরখা পরিহিত এক অপরিচিত  যুবতী (২১-২৫ বছর) আসেন। তারপর একেএকে ঐ যুবতী স্থানীয় শিরিনা(৩২) স্বামী নজরুল, নাসিমা(৪০) স্বামী রফিকুুল,খাদিজা(২৩) স্বামী আনিস,সখিনা(৩০) স্বামী নুরুল ইসলাম, ও নার্গিস(৩০) স্বামী লেবু মিয়া-দের বাড়িতে যান। গিয়ে বলেন যে,আমি ঘাটাইল পরিবার পরিকল্পনা অফিস থেকে এসেছি। আপানাদের এখানে একটা কেন্দ্র করবো। যার বাড়িতে কেন্দ্র করবো তাকে এবং যারা সদস্য জোগার করে দিবেন তাদেরকে প্রতিমাসে তিন হাজার করে টাকা দিবো। এবং আরও কিছু লোভনীয় প্রস্তাব দেন।এতে উপরে উল্লেখিত  গ্রামের সহজ -সরল  মহিলারা রাজি হয়ে যান। তারপর ঐ যুবতী বলেন যে,আজ এবং এখন-ই আপনাদের ঘাটাইল সদরে যেতে হবে সাইনবোর্ড ও কাগজপত্রের জন্য। বাসষ্ট্যান্ডে নামলে আমাদের লোক এসে আপনাদের রিসিভ করে অফিসে নিয়ে যাবে। এই বলে ঐ প্রতারক মহিলার ফোন নম্বর (০১৬০৯-২৩৪৩৫১) দেন। কথামতো স্থানীয় মহিলারা ঘাটাইল সদরে যাওয়ার জন্য রেডি হতে থাকেন। প্রবাসী মোঃ আনিস মিয়ার স্ত্রী খাদিজা গহনা পরিধান করে সাঁজতে ছিলেন।হঠাৎ-ই ঐ প্রতারক মহিলা বলেন যে,গহনাগুলো রেখে যান, রাস্তায় যদি হারিয়ে যায়।কথা শুনে তার সামনেই গহনাগুলো ড্রয়ারে রেখে তালা দিয়ে চলে যান খাদিজা ও অন্যান্যরা।তারপর পিছনের পাড়ায় একটু কাজ আছে বলে তাদের এগিয়ে দিয়ে আসেন ঐ যুবতী।  বাড়িতে কেউ নেই ভাতিজি তানজিম(৮)ছাড়া। আবার ঘুরে এসে তানজিমকে পানির জন্য বাহিরে পাঠিয়ে  ড্রয়ারের তালা খুলে প্রায় পাঁচ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার নিয়ে চম্পট মারেন অবিনব কায়দায় চুরি করা এ মহিলা। 
প্রতারণার শিকার শিরিনা বলেন, ঐ মহিলাকে আমরা চিনিনা। তারপরও কিভাবে যেনো তার কথামতো আমরা ঘাটাইলের উদ্দেশ্যে মাকড়াই পর্যন্ত গেলে বাড়ি থেকে ফোন দিয়ে জানায় যে, বাড়িতে চুরি হয়েছে। আমরা আর ঘাটাইল যাই নাই। ঐ হারামজাদী মহিলা এভাবে আমাদের ধোঁকায় ফেলে চুরি করবে আমরা বুঝতে পারি নাই।প্রতারণার শিকার ও স্বর্ণালংকারের মালিক খাদিজা বাড়ি ফিরে অসুস্থ হয়ে পরেছেন বলে তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
কথা হয় খাদিজার স্বামী সিঙ্গাপুর প্রবাসী আনিস মিয়ার সাথে। তিনি বলেন, আমার ওয়াইফ খাদিজার মাধ্যমে ঐ প্রতারক মহিলার সাথে আমিও ফোনে কথা বলেছি। সে আমাকে পরিবার পরিকল্পনার কেন্দ্রের বিষয়েই বলেছে। তারপরও আমি আমার ওয়াইফকে সতর্ক করেছি। ফেইসবুকে দেখা বিভিন্ন প্রতারণার নমুনাও বলেছি তাকে। কিন্ত্তু তারপরও সে কিভাবে এ ফাঁদে পা দিলো আমি বুঝতে পারছি না। এ বিষয়ে মামলা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

Share This Post