গোর খোদক আসাদের খবর রাখে না কেউ

গোর খোদক আসাদের খবর রাখে না কেউ

মোঃদিদার হোসেন পিন্টু (বেলাব, নরসিংদী।) : মোঃ দিদার হোসেন পিন্টুঃ মানুষের মৃত্যুর পর দাফনের জন্য সুন্দরভাবে কবর খনন করাও সুন্নাত। আর সুন্নাত পদ্ধতিতে কোনো মুসলমানকে দাফন করার জন্য কীভাবে কবর খনন করতে হয় কিংবা কবর কী পরিমাণ গভীর করতে হয় তা হয়তো অনেকেই জানে না।  কবর খননের আগে প্রথমেই দেখতে হবে মাটি শক্ত-মজবুত নাকি নরম। তারপর মাটির ধরণ অনুযায়ী কবর খনন করতে হয়। এমনটিই বলছেন নরসিংদীর বেলাব উপজেলা বাগান বাড়ির মৃত্য শামসুল হক মিয়ার ছেলে গোর খোদক মোঃ আসাদ মিয়া।জীবনের অন্তিম যাত্রায় মাটির ঘরের নিবেদিত শিল্পী। কারো মৃত্যু সংবাদ পেলেই খন্তি-কোদাল, দা, করাতসহ যাবতীয় হাতিয়ার-যন্ত্র নিয়ে তিনি ছুটে যান গোরস্তানে। অপার দরদ আর যত্নে অন্তিম ঘরটি যে তাকেই তৈরি করে দিতে হবে। এলাকায় মৃত ব্যক্তিদের শেষ ব্যবস্থা করেন তিনি পরম মমতায়।  দূরের যাত্রায় দ্রুত পৌঁছাতে কিনে ছিলেন ভ্যানগাড়ি সেটাও কে বা কারা গত দুই বছর আগে চুরি করে নিয়ে গেছে। তারপরই বেলাব উপজেলায় ৮ টি ইউনিয়নে ৮ টি কমেটি করেছে বলে জানান।
তিনি ছোটবেলায় স্থানীয় গোরখোদকদের সঙ্গে প্রথম প্রথম আত্মীয়স্বজনের কবর খননের কাজে অংশ নিতেন। ক্রমশ দক্ষতা বাড়তে বাড়তে এক সময় এ কাজটিকেই তিনি জীবনের ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেন। এরপর থেকে টানা ৪০ বছর ধরে অকৃত্রিম আবেগে তিনি নিজেকে নিবেদিত রেখেছেন কবর খননের কাজে।  একজন নিখুঁত সুদক্ষ গোরখোদক হিসেবে তার সুনাম রয়েছে বেলাব উপজেলার মানুষদের কাছে।  বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ কাজে তার পারদর্শিতা এবং আন্তরিকতা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। নিজ গ্রাম বা দূরবর্তী গ্রাম, যেখান থেকে যখনই কারো মৃত্যু সংবাদ পান, আবেগতাড়িত দরদ নিয়ে ছুটে যান আসাদ মিয়া ও তার দল। তিনি কবর খোড়ার বিনিময়ে কারো কাছ থেকে কোন আর্থিক সহায়তা গ্রহণ করেন না। এমনকি যাতায়াত খরচটুকুও না।
তিনি আরো জানান, এ কাজ করতে গিয়ে সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের কাছ থেকে যে ভালবাসা পাচ্ছেন, এটাও তার পরম শান্তির। তাই শরীরে শক্তি-সামর্থ্য থাকলে আমৃত্যু এ কাজটি তিনি চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা রাখেন।
কবর নির্মাণকারী গোরখোদকরা ভিন্ন ভিন্ন কথা বললেও তাদের বেশিরভাগের কথা থেকে উঠে এসেছে কবর খোঁড়ার কাজটি তারা করছেন একান্তই নিস্বার্থভাবে। এ কাজ থেকে তারা অতীতেও কোন পারিশ্রমিক নেননি ভবিষ্যতেও পারিশ্রমিক পাবেন এমন আশাও তারা করেন না।
হাজার খানেক ব্যক্তির কবর খুঁড়েছেন আসাদ মিয়া। কবর খোঁড়ার নানা অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে আসাদ মিয়া বলেন, একটি কবর খুঁড়তে ২ থেকে ৩ ঘন্টা সময় লাগে। মৃতব্যক্তি পুরুষ হলে মাঝা পর্যন্ত এবং মহিলা হলে বুক পর্যন্ত খুঁড়তে হয়। পুরুষ ও মহিলার ক্ষেত্রে কবর খোঁড়া কেন কমবেশি করতে হয় তা তিনি জানেন না। কবর খোঁড়ার জন্য শীত-গ্রীস্ম বর্ষা, দিন-রাত কোন নির্ধারিত সময় নেই। দিনের বেলায় মৃত ব্যক্তির কবরের জন্য বাঁশ কেটে খাবাসী ও রেলিং তৈরিতে অনেক ব্যক্তি সহযোগিতা করলেও রাতের বেলা গহীন গোরস্থানে ২ জন গোরখোদক ছাড়া আর কাউকে দেখা যেতনা।  আগের সেই দিন আর নেই, এখন আমাদের মূল কমেটিতে প্রায় ৫০ জন সদস্য রয়েছে। মোঃ সুরুজ মিয়া,মোঃসাদ্দাম হোসেন, নজরুল ইসলাম। মোঃকামাল মিয়া,মোঃজয়নাল মিয়া,মোঃগোলাপ মিয়া। এরা সবসময়ই আমার পাশে থাকে। আপনারা আমার টিমের জন্য দোয়া করবেন, যেন আজীবন আমি এই সেবাটা করে যেতে চাই।

Share This Post