খুলনায় করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত পুস্তক ব্যবসায়ীদের প্রণোদনা ও অনুদানের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি

খুলনায় করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত পুস্তক ব্যবসায়ীদের প্রণোদনা ও অনুদানের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি

এম এ আজিম (খুলনা) :  
করোনা দুর্যোগকালে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পুস্তক ব্যবসায়ীদের জন্য প্রণোদনা ও অনুদান বরাদ্দের দাবীতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি, বাপুস খুলনা জেলা শাখার পক্ষ থেকে বুধবার খুলনা জেলা প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার’র মাধ্যমে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপিতে পুস্তক ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট খুলনাসহ দেশের ২৬ হাজার পরিবারের জন্য প্রণোদনা ও অনুদানের তিন দফা প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে। স্মারকলিপি প্রদানকালে বাপুস নেতারা বলেন, সারাদেশের মত করোনা মহামারিতে খুলনা জেলা শাখার আনুমানিক ৩০০ ব্যবসায়ী এবং মালিক, কর্মচারী, শ্রমিক, কুলি, ভ্যান শ্রমক ও মার্কেট কর্মচারী মিলে প্রায় ২০০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত। আজ তারা অত্যন্ত মানবেতর জীবন-যাপন করছে। কিন্তু আজ দেড় বছর ধরে পুস্তক বিক্রেতাদের কোন খোঁজ খবর কেউ নেয়নি। অথচ : সরকারের অনেক প্রণোদনা বন্টন হলেও পুস্তক বিক্রেতাদের কোন বরাদ্দ নেই। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত বাণিজ্যিক খাত সমূহের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে-পুস্তক প্রকাশনা ও বিক্রয় খাত। দুর্যোগের এই মুহূর্তে আর্থিক সংকটে পড়ে এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা আজ চোখে মুখে অন্ধকার দেখছে। বিগত দেড় বছর দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় একাডেমিক ও সৃজনশীল বই বিক্রি প্রায় বন্ধ রয়েছে। তাই দেশের প্রায় ২৬ হাজার বই বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের মালিক-কর্মচারীরা আজ নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। সংগত কারণেই এই মুহূর্তে জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে বিক্রেতা সদস্য-সদস্যাদের পরিবারে চরম অভাব বিরাজ করছে। তারা আজ মানবেতর জীবনযাপন করছে। অথচ দেশের অর্থনীতিতে করোনার বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় সরকার অনেকগুলো প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করলেও তাতে পুস্তক সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত নেই। স্মারকলিপিতে বলা হয়, গত ১৭ মাসে দেশের একাডেমিক এবং সৃজনশীল প্রকাশনা ও বিক্রয় প্রতিষ্ঠান প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার বিক্রয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান দোকান ভাড়া, কর্মচারীদের বেতন ও পারিবারিক ব্যয় নির্বাহ করতে গিয়ে ঋণের ভারে জর্জরিত হয়ে এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে। অথচ এই প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে জড়িতরা যুগ যুগ ধরে শিক্ষিত জাতি গঠনে দেশের অংশীদার হিসেবে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। আরো উল্লেখ করা হয়, করোনা মহামারীতে প্রধানমন্ত্রী শিল্প ও ব্যবসা বাণিজ্য খাতে স্বল্প সুদে যে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে- তা আগে থেকে যারা ব্যাংক ঋণ গ্রহণ করেছেন কেবল তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এ কারণে অধিকাংশ প্রকাশক ও বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান সে সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। কারণ দেশের অধিকাংশ পুস্তক বিক্রেতা স্বল্প পুঁজির ব্যবসায়ী হওয়ায় তাদের কোন ব্যাংক ঋণ নেই। অপরদিকে ঘোষণাকৃত প্রণোদনা প্যাকেজেও পুস্তুক ব্যবসায়ীদের অন্তর্ভূক্তির কথা উল্লেখ নেই। এ অবস্থায় স্মারকলিপিতে পুস্তক ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট খুলনাসহ দেশের ২৬ হাজার পরিবারের জন্য প্রণোদনা ও অনুদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী বরাবর তিন দফা প্রস্তাবনা পেশ করা হয়। প্রস্তাবনাগুলো হচ্ছে- পুস্তুক ব্যবসা খাতে ১ হাজার কোটি টাকার সহজশর্ত ও স্বল্পসুদে ঋণ, পুস্তুক ব্যবসায়ী ও তাদের পরিবারের জন্য এককালীন অনুদান হিসেবে ১শ’ কোটি টাকা বরাদ্দ এবং বিভিন্ন স্কুল-কলেজের লাইব্রেরীকে সমৃদ্ধ করতে একাডেমিক ও সৃজনশীল বই ক্রয়ের জন্য ৫শ’ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ প্রদান। স্মারকলিপি প্রদানকালে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি, বাপুস খুলনা জেলা শাখার সভাপতি মো. আলমগীর, সাধারণ সম্পাদক বোরহান উদ্দিন বিশ্বাস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সোহেল তালুকদার, রবিউল আলম, কোষাধ্যক্ষ মো. সোহরাব হোসাইন, মো. ইকরামুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

Share This Post