খুলনার আলোচিত সেই নীলা প্রতারণা মামলায় ঢাকায় গ্রেফতার

খুলনার আলোচিত সেই নীলা প্রতারণা মামলায় ঢাকায় গ্রেফতার

এম এ আজিম (খুলনা):
খুলনার আলোচিত সেই সুলতানা পারভীন নীলা অবশেষে প্রতারণা মামলায় ঢাকায় গ্রেফতার হয়েছে। আদালতের নির্দেশে বাড্ডা থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকার বাড্ডা থানার এসআই মো. হানিফ। গ্রেফতারকৃত নীলা খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার সুলতানুল আলম বাদলের কন্যা।
ঢাকার বাড্ডা থানার এসআই মো. হানিফ ও এএসআই রফিকুল ইসলাম জানান, ঢাকার চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩’র গ্রেফতারী পরোয়ানায় সুলতানা পারভীন নীলাকে গত বৃহস্পতিবার (০৭ অক্টোবর) ঢাকার পূর্ব বাড্ডাস্থ শাহাবুদ্দিন মোড়ের বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। যার মামলা নং-সিআর-১৮৮/২০, ধারা : ৪০৬/৪২০/৩২৩/৩৮৪/৩৮০/৫০৬/৩৪। নীলার প্রাক্তণ স্বামী খুলনা মহানগরীর নাজির ঘাট এলাকার বাসিন্দা মোঃ আব্দুল বাকী চেক ও টাকা-পয়সা চুরির অভিযোগে গত ঊয়রের ২০ আগষ্ট ঢাকার সিএমএম আদালতে নীলার বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, একই এলাকায় বসবাসের কারণে পূর্ব পরিচয়ের সুবাদে ২০২০ সালের ৪ মে সুলতানা পারভীন নীলাকে বিয়ে করেন মো. আব্দুল বাকী। বিয়ের পর তিনি স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকার গুলশানে বসবাস করতেন। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পর থেকে নীলার বেপরোয়া জীবন-যাপনসহ বিভিন্ন কারণে তার সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হতে থাকে। এরই মধ্যে সে মনিরুল ইসলাম বর্ষণ নামে এক যুবককে নিজের খালাতো ভাই পরিচয়ে প্রায়ই বাসায় নিয়ে আসতে থাকে। এক পর্যায়ে ২০২০ সালের ২৭ জুলাই সন্ধ্যায় স্বামী আব্দুল বাকী বাসায় ফিরে দেখতে পান মনিরুল ইসলাম বর্ষণকে নিয়ে তার স্ত্রী বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ সময় তিনি বাসায় প্রবেশ করলে স্ত্রী নীলা তার কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। কিন্তু তিনি দিতে অস্বীকার করলে তাদের মধ্যে বাক-বিতন্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে তারা দু’জন মিলে স্বামী আব্দুল বাকী’র ওপর চড়াও হয়ে তাকে মারধর করে এবং প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘রূপসী বাংলা ট্যুরস’র ৩ লাখ টাকার ২টি চেক (সিটি ব্যাংক) এবং ট্রাষ্ট ব্যাংক লিমিটেড’র ৫০ লাখ টাকার একটি চেক জোর করে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে যায়। এ ঘটনায় তিনি ২৯ জুলাই ঢাকার বাড্ডা থানায় সাধারণ ডায়রি করেন। একই সঙ্গে ৩১ জুলাই নীলাকে তালাক প্রদান করেন তিনি।
এদিকে, প্রাক্তণ স্বামী মো. আব্দুল বাকী’র কাছ থেকে মারধর করে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়া ৫৩ লাখ টাকার দু’টি চেক উদ্ধারে সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ গত ১৫ এপ্রিল নগরীর সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার দ্বিতীয় ফেজের ৮নং রোডস্থ সুলতানা পারভীন নীলার ভাড়া বাসায় তল্লাশী অভিযান চালায়। তবে, চেক খুঁজে না পাওয়ার কথা উল্লেখ করে সোনাডাঙ্গা থানার এসআই তহিদুর রহমান ওই সময় বলেন, আদালতের নির্দেশেই দু’টি চেক উদ্ধারের জন্য আসামি সুলতানা পারভীন নীলার ভাড়া বাসায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। কিন্তু অভিযানকালে তিনি বাসায় ছিলেন না। এ কারণে চেক দু’টি খুঁজে পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, সুলতানা পারভীন নীলা ওরফে সুলতানা পারভীন বৃষ্টি ওরফে সুলতানা পারভীন নীলা এ পর্যন্ত ৮-এর অধিক বিয়ে করেছেন। বিয়ে করে কিছুদিন পর সেই স্বামীকে ছেড়ে দেয়া এবং তার কাছ থেকে দেনমোহরের টাকাসহ নানা কৌশলে বাড়ি-গাড়ি হাতিয়ে নেয়াই তার ব্যবসা। তার মূল টার্গেট সম্পদশালী, ব্যবসায়ী, উচ্চপদস্থ চাকরিজীবী ও প্রবাসী পুরুষ। প্রথমে টার্গেট নিশ্চিত করে তিনি ধীরে ধীরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে নিজ দেহের সৌন্দর্য ও কথামালার মারপ্যাঁচে আটকে ফেলেন টার্গেটকৃত পুরুষদের। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৮টি বিয়ের অভিযোগ রয়েছে।
নীলার বিরুদ্ধে একাধিক বিবাহ এবং বিবাহের নামে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গত ২২ মার্চ খুলনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন প্রাক্তণ স্বামী মো. আব্দুল বাকী।

Share This Post