কৃষিপণ্যের রফতানি বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কৃষি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কাজ করছে

কৃষিপণ্যের রফতানি বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কৃষি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কাজ করছে

কৃষিপণ্যের রফতানি বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কৃষি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কাজ করছে। সরকার চাইছে সহজে কৃষিপণ্য উৎপাদন ও রফতানি করতে। যত বেশি রফতানি হবে তত কৃষকের দোরগোড়ায় তার মূল্যটা পৌঁছবে। সবজি ও ফল রফতানি করে শুধু যে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হবে তা নয়, এখানে কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে।
প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৮০০ থেকে ১০০০ হাজার কোটি টাকার কৃষিপণ্য রফতানি হয়। পচনশীল পণ্য বাই এয়ারে (আকাশপথে) শিপমেন্ট হয়। ফরেন এয়ারওয়েজে কার্গো স্পেস অনেক সময় অ্যাভেইলেবল থাকে না। দেখা যায় আমদানিকারকের চাহিদা আছে কিন্তু কার্গো স্পেস না পেলে তো রফতানি করা সম্ভব হচ্ছে না। কার্গো স্পেসের জন্য বিদেশি এয়ারলাইন্সের ওপর আমাদের নির্ভর করতে হচ্ছে। অনেক সময় তারা ট্রানজিট পয়েন্ট হয়ে যায়। প্রায় ক্ষেত্রেই ফরেন এয়ারলাইন্সে কার্গো স্পেস পাওয়া যায় না। এছাড়া প্রতি কেজি পণ্যে যে উড়োজাহাজ ভাড়া সেটা অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি। প্রধানমন্ত্রী নিজেও কৃষিপণ্য রফতানি বাড়াতে আলাদা বিমান কেনার কথা বলেছেন।

করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারিকালে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বর্ধিত উড়োজাহাজ ভাড়া ও কৃষিপণ্যের উৎপাদন ব্যয় বাড়ায় কদর থাকার পরও বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি কৃষিপণ্যের রফতানিতে ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
কৃষিপণ্য রফতানিতে ২০১৯-২০ অর্থবছরের তুলনায় ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৯ দশমিক ২৭ শতাংশ বেশি, যদিও তা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩ দশমিক ৯১ শতাংশ কম ছিল। গত অর্থবছর কৃষিপণ্যের রফতানি হয়েছে ১০২.৮১ কোটি ডলার। আগের অর্থবছর এ রফতানির পরিমাণ ছিল ৮৬ কোটি ডলারের কিছু বেশি।

১৯৭৩ সাল থেকে লন্ডনে বাংলাদেশের শাক-সবজি ঢুকছে । ইউরোপ-মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের শাক-সবজির একটা বড় চাহিদা আছে। আমাদের শাক-সবজির চাহিদা বিদেশে বেশি। শিম, লাউ, কুমড়া, পেঁপে, করলা, কচুরলতি, কাকরোল, বরবটি, চিচিঙ্গা, লালশাক, ডাঁটাশাক, ঝিঙ্গা, ধুন্দল এগুলোর চাহিদা বেশি আন্তর্জাতিক বাজারে। ফলের মধ্যে আম, কাঁঠাল, লটকন, লিচুর চাহিদাও বেশ। এছাড়া পান, লেবুর চাহিদাও আছে
ইউরোপের বাজারের মধ্যে রয়েছে- যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইতালি, জার্মানি, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড ও গ্রিস। মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, ওমান ও দুবাই। এছাড়া মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরে পণ্য যায়। যুক্তরাষ্ট্র-কানাডায়ও যায় আমাদের ফল-সবজি।
ইউরোপের বাজারের জন্য পণ্যের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ একভাবে হয়, মধ্যপ্রাচ্যের জন্য আরেকভাবে হয়। আমাদের কৃষিপণ্য সব ধরনের কোয়ালিটি পরীক্ষায় পাস করতে পারে। ইউরোপের জন্য সরকারিভাবে সেন্ট্রাল হাউস করা হয়েছে শ্যামপুরে। সেখান থেকে প্যাকেজিং, গ্রেডিং ও কোয়ালিটি কন্ট্রোল করা হচ্ছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের আন্ডারে একটা কোয়ারেন্টাইন সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়। সেখানে থেকে কোয়ালিটি মেইনটেইন করেই বিদেশে পণ্য যায়। মধ্যপ্রাচ্যের জন্য রফতানিকারকরা নিজেরাই কোয়ালিটি কন্ট্রোলের ব্যবস্থা করেন।

লালশাক ও ডাঁটাশাকসহ বিভিন্ন সবজি ও ফলে নিষেধাজ্ঞা ছিল। অনেক দেশ থেকে সেগুলো উঠে গেছে। পান ও অন্যান্য সবজি থেকে ব্যাক্টেরিয়া দূর করতে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে কৃষিসংশ্লিষ্টরা। বিষমুক্ত অর্গানিক কেমিক্যাল দেয়া হচ্ছে

এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন: আমাদের দেশের পার্বত্য এলাকায় এসব বাদামের চাষ হচ্ছে। কাঁচা কাঠবাদাম চীন-ভিয়েতনামে রফতানি হচ্ছে। দেশে কফি কতটা জনপ্রিয়, সেটা এখন আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কফির পাশাপাশি বাড়ছে কাজুবাদামেরও চাহিদা। মাত্র চার বছরের ব্যবধানে দেশে কাজুবাদাম আমদানি বেড়েছে ৩২ গুণ। কফি ও কাজুবাদাম দুটি-ই আমদানির মাধ্যমে দেশের চাহিদা পূরণ হয়। সম্প্রতি পাহাড়ে এ দুই ফসল চাষে দারুণ সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সরকারও পাবর্ত্য এলাকায় কফি ও কাজুবাদাম চাষের জন্য বিস্তর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। নেয়া হয়েছে ‘কাজুবাদাম ও কফি গবেষণা, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ’ শীর্ষক প্রকল্প।

দেশের আয়তনের এক-দশমাংশ পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল। এর তিনটি জেলার মোট আয়তন ১৩ হাজার ২৯৫ বর্গকিলোমিটার। কিন্তু আবাদযোগ্য ফসলি জমি মোট ভূমির মাত্র ৫ শতাংশ। পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে ৯২ শতাংশ উঁচুভূমি, ২ শতাংশ মধ্যম উঁচুভূমি এবং ১ শতাংশ নিচুভূমি আছে। সমতল জমির অভাবে এখানে ফসলের আবাদ সম্প্রসারণের সুযোগ খুবই সীমিত। রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান— এই তিন পার্বত্য জেলায় অন্তত পাঁচ লাখ হেক্টর জমি অনাবাদি পড়ে আছে, যেগুলো কফি ও কাজুবাদাম চাষের জন্য উপযুক্ত। এর মধ্যে ন্যূনতম দুই লাখ হেক্টর জমিতে কাজুবাদাম আবাদ করা গেলে বছরে একশ কোটি ডলারের বেশি আয় করা যাবে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় দাঁড়াবে প্রায় নয় হাজার কোটি টাকা। বাকি জমির মধ্যে এক লাখ হেক্টরেও কফি আবাদ করা গেলে তা দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি করা যাবে। এক লাখ হেক্টরে দুই লাখ টন কফি উৎপাদন সম্ভব, যার বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা।

দেশে কাজুবাদামের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এ চাহিদার জোগানে দ্রুত বাড়ছে আমদানির পরিমাণ। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১৮ হাজার কেজি কাজুবাদাম আমদানি হয়েছিল। শেষ তথ্য পর্যন্ত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে কাজুবাদাম আমদানি হয়েছে পাঁচ লাখ ৮০ হাজার কেজি। অর্থাৎ চার বছরে পণ্যটির আমদানি বেড়েছে প্রায় ৩২ গুণ। বর্তমানে বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলা, বান্দরবান জেলার রুমা, নীলফামারী, মৌলভীবাজারসহ অন্যান্য জেলায়ও প্রচুর কফি চাষ হচ্ছে। এই চাষাবাদকে আরও সম্প্রসারিত করার লক্ষ্য নিয়েছেন সরকারের সংশ্লিষ্টরা।

পাহাড়ি অঞ্চলসহ সারাদেশের যেসব অঞ্চলে কাজুবাদাম এবং কফির চাষাবাদের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে; তা চাষের আওতায় আনতে ‘কাজুবাদাম ও কফি গবেষণা, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ’ শীর্ষক ২১১ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।

Share This Post