কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেস্কে ওষুধ সংকট চিকিৎসা সেবা ব্যাহত

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেস্কে ওষুধ সংকট চিকিৎসা সেবা ব্যাহত

নিয়ামত উল্লাহ (কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ ) :
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেস্ক্রে ওষুধ সংকটের কারনে রোগি সেবা দিতে পারছে না কর্তব্যরত ডাক্তাররা। রোগিরা হাসপাতালে এসে ডাক্তার দেখিয়ে ওষুধ না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে। ফলে ওষুধ সংকটের কারণে মুখ থুবড়ে পড়েছে চিকিৎসাসেবা। করোনাকালে এ হাসপাতালে ওষুধ ও রোগিদের সেবা প্রদানের কোন সমস্যা হয়নি। কিন্তু এখন মারাতœক ভাবে ওষুধ সংকট দেখা দিয়েছে। এমনকি জ¦র, গ্যাস ও খাবার স্যালাইন পর্যন্ত নেই।
আবার হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগিরা ওষুধ না পেয়ে বাইরে থেকে কিনে আনছে। ওষুধের স্বল্পতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে সমস্যায় ভুগছে কালীগঞ্জ উপজেলা বাসী। প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে হাসপাতালে রোগিরা ডাক্তার দেখানোর জন্য ভিড় করে থাকে। কিন্তু ডাক্তার দেখিয়ে তাদের প্রয়োজনীয় ওষুধ দিতে পারছে না। ফলে কর্তব্যরত ডাক্তার সাদা কাগজে লিখে দিচ্ছে ওষুধের নাম। সাথে বলে দেওয়া হচ্ছে ওষুধ বাইরে থেকে কিনে নিতে। ওষুধের স্বল্পতার কারনে ন্যূনতম প্রাথমিক চিকিৎসা ছাড়া আর কিছুই জোটে না এখানে। এ হাসপাতাল টি ৫০ শয্যা বিশিষ্ট, প্রায় সাড়ে ৪ লাখ মানুষ এ চিকিৎসা সেবা নিয়ে থাকে।
ডাক্তার অরুন কুমার দাস কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা(ভারপ্রাপ্ত) বলেন, অনেকদিন হল হাসপাতালে ওষুধ সংকট রয়েছে। সরকার যে ওষুধ প্রদান করে তা বগুড়া ইবিসিএল কোম্পানি থেকে সরবরাহ করা হয়। ৩ অক্টোবর কালীগঞ্জ হাসপাতালের জন্য ওষুধের চাহিদা পাঠানো হয়েছে শিগ্রই ওষুধ পাওয়া যাবে। এ হাসপাতালে ৩৮ প্রকার ওষুধ সরকার প্রদান করে থাকে। কিন্তু সেখানে এখন রয়েছে মাত্র ১৯ প্রকার। প্রয়োজনীয় ওষুধের অর্ধেক ওষুধ দিয়ে রোগিদের সেবা প্রদার করা হয়ে থাকে। যেমন প্যরাসিটামল,মেট্রোনিডাজোল,খাবারস্যালাইন,এ্যান্টাসিড,ডাইক্লোফেন,ইসোরাল,হিস্টাসিন,ভিটামিন এ ক্যাপসুল,প্যান্ট্রোপ্রজল,কট্রিম, সিপ্রফালস্ক্রিনসহ ১৯ প্রকার ওষুধ ছাড়াই চলছে রোগি সেবা। অধিকাংশ রোগিরা ওষুধ না পেয়ে কর্তব্যরত ডাক্তাররা সাদা কাগজে লিখে দিচ্ছে ওষুধের নাম। অনেক অসহায় হতদরিদ্র মানুষ বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে গিয়ে দাম শুনে হিমসিম খাচ্ছে। ফয়লা গ্রামের রবিউল ইসলাম ডাক্তার দেখিয়ে ওষুধ কিনতে গিয়ে ফার্মেসিতে ওষুধের মুল্য বলেছে ১৩০০ টাকা। তিনি ওষুধ না কিনে বাড়িতে ফিরে যান। ওষুধ সংকটের কারণে মুখ থুবড়ে পড়ছে চিকিৎসাসেবা। তবে সংকট উত্তোরণে প্রচেষ্টা নিরাশন হবে বলে দায়িত্বরত ডাক্তার জানান। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলেন, মেডিকেলের ভাষায় বলা হয় যে কমপ্লিট প্যাকেজ অব ট্রিটমেন্ট । এখানে সেটা ঠিক পরিপূর্ণ না। দিন দিন আমাদের নানা ধরনের সমস্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার অরুন কুমার দাস (ভারপ্রাপ্ত) বলেন, রোববার ওষুধের তালিকা বগুড়ায় পাঠানো হয়েছে দ্রুত ওষুধ পাওয়া যাবে ও রোগিরা সেবা পাবেন।

Share This Post