কাঙ্ক্ষিত ইউপি নির্বাচন,জনতার প্রত্যাশা এবং বাস্তবতা

কাঙ্ক্ষিত  ইউপি নির্বাচন,জনতার প্রত্যাশা এবং বাস্তবতা

হৃদয় তালুকদার : স্থানীয় সরকার নির্বাচনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ  ধাপ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন।উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ই স্থানীয় নির্বাচনের প্রধান ক্ষেত্র।দেশের তৃণমুল পর্যায়ের জনগণের উন্নয়ন ও ভাগ্য নির্ধারিত হয় ইউপি নির্বাচন এর মাধ্যমে।একটি দেশ ও জাতির এগিয়ে যাবার স্বপ্নসিড়িই হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ।যে ইউনিয়ন পরিষদ দিচ্ছে হাজারো সমস্যার সমাধান।যে ইউনিয়ন পরিষদ জাতি কে নব প্রভাতের শিখরচুড়ায় অারোহন করার দৃপ্ত শপথ নিয়ে পথচলা শুরু করে।সংবিধানে দেয়া হয়েছে যার বিশেষ গুরুত্ব।অাপামর জনসাধারণ নির্বাচিত করেন তাদের পছন্দের প্রতিনিধি।রয়েছে সকলেরই নির্বাচনে অংশগ্রহনের অধিকার।৯ জন সদস্য,৩ জন সংরক্ষিত নারী সদস্য অার ১ জন চেয়ারম্যান এর সমন্বয়ে গঠিত হয় একটি ইউনিয়ন পরিষদ।কিন্তু জাতির স্বপ্নপুরণ কতটা দুরত্বে অবস্থান করছে বাস্তবতার সঙ্গে?অাদৌ কি ইউনিয়ন পরিষদগুলো পারছে জনগণকে অালোর পথ দেখাতে?নিরাপত্তার নিশ্চয়তা কি পাচ্ছি অামরা?নাকি সবই ফর্মালিটিজ অার বিজ্ঞাপন মাত্র?
৫ বছর পর পর দুয়ারে কড়া নাড়ে ইউপি নির্বাচন। উৎসুক জনতা অাগ্রহের সাথে,অাকাঙ্ক্ষার সাথে অপেক্ষা করে নবগঠিত ইউনিয়ন পরিষদের জন্য।পছন্দের প্রার্থীকে ভোটে নির্বাচিত করার মাধ্যমে সুচনা হয় নবগঠিত ইউনিয়ন পরিষদের। মানুষ যতটা অান্তরিকতার সাথে ইউপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে অন্য কোন নির্বাচনে জনগণকে এতটা উৎসুক অার উৎফুুল্ল হতে দেখা যায়না।পল্লীর জনমানুষের নিজস্বতা মিশে থাকে ইউপি নির্বাচনে। খেটে খাওয়া থেকে শুরু করে সকল স্তরের নারী-পুরুষের মাঝে একটা উৎফুল্ল ভাব বিরাজ করে ইউপি নির্বাচন এলে।যেন পুরো সময়টাই এক উৎসবের অামেজ।ঘরোয়া রাজনীতি,চা এর দোকানে রাজনীতি,রাস্তাঘাটে অটোরিকশা-ভ্যানের ওপর বসে বসে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ, হিসাব নিকাশে মেতে ওঠে গ্রামীণ জনতা।সেই সাথে উঠে অাসে প্রার্থীর যোগ্যতা,সফলতা অার ব্যর্থতারও হিসেব।জনতা ই যে মুল ক্ষমতার উৎস তা ইউপি নির্বাচন এলেই বুঝা যায়।নিজস্ব দায়িত্ব থেকেই জনগণ বেরিয়ে পড়েন পছন্দের প্রার্থীর ভোট প্রার্থনা করতে।যেন এক অনন্য সময় জনতার মাঝে চলে এসেছে।
নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষনা হবার পর করোনা মহামারী অতিক্রম করেও প্রথম ধাপের ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে।জনতা নির্বাচিত করেছেন তাদের পছন্দের প্রার্থী।এবারে অপেক্ষমান দ্বিতীয়,তৃতীয় অার চতুর্থ ধাপের ইউপি নির্বাচন। দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচনের সিদ্ধান্ত হয়েছে বিগত কাউন্সিল থেকেই।জনমনে অাগ্রহ কিছুটা ফিকে হয়েছে তাতে।তবুও জনস্রোতে কমতি দেখা যাচ্ছেনা।মেনে নিয়েই উৎসুক জনতা ইউপি নির্বাচন এ নেমেছেন এবারো।
এত উৎফুল্ল,এত উৎকর্ষ, এত উৎসাহ অার এত প্রত্যাশার শেষ ফলাফল টা কি হয়?অাদৌ কি জনতার অাকাঙ্ক্ষার মান রাখতে পারছে ইউপি নির্বাচন? অাদৌ কি জনতা বুঝে পাচ্ছে তার ন্যায্য হিসাব?গ্রামীণ মানুষের ভাগ্য দুয়ার কি খুলছে?ভাবনার বিষয়টা ঠিক এখানে।একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বর্তমান সরকার যেসব উদ্যোগ গ্রহন করেছেন তাতে ইউনিয়ন পরিষদ কি তার সম্পুর্ন অাওতায় এসেছে?স্থানীয় সরকার কি বুঝে পাচ্ছেন তাদের প্রাপ্য সুবিধাসমুহ?নির্বাচিত হয়ে তারা কি জনতার ভোটের মুল্য দিতে পারছেন?সকল সুবিধা বুঝে পেলেও তা সঠিকভাবে জনগণের মাঝে পৌছাতে পারছেন কি তারা?এমন নানাবিধ প্রশ্নের জন্ম নেয় মনে। 
ইউনিয়ন পরিষদ গঠনের মুল লক্ষ্যই হলো উন্নয়নে গ্রামাঞ্চলকে ভাগীদার করা।প্রত্যন্ত অঞ্চলকে সবধরণের উন্নয়নের অাওতায় নিয়ে অাসা।মানুষের জীবন-জীবিকার সঠিক পথ নির্দেশ করা,মানুষের জীবন যাত্রার মান কে উন্নত করা,সঠিক বন্টনের মাধ্যমে শ্রমজীবী ও দারিদ্র্য মানুষকে স্বাবলম্বী করা।স্থানীয় জনতাকে সঠিক মুল্যায়নের মাধ্যমে সকল স্তরের জনগণ কে নিয়ে একটি সমৃদ্ধ অঞ্চল গড়ে তোলা।সকল ক্ষেত্রে গ্রামাঞ্চলের প্রতিটি মানুষের পাশে থেকে সকল প্রকার সংকট থেকে বের করে অানা।মোট কথা ইউনিয়ন পরিষদ প্রতিটি এলাকার সবথেকে বড় অাদালত,সবথেকে বড় নিরাপত্তা।যেখানে সকল প্রকার নাগরিক পাবে রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকার।নিশ্চিত হবে মানুষের সুন্দরভাবে বেচে থাকার অধিকার।প্রতিষ্ঠিত হবে সঠিক ও স্বচ্ছ বিচার ব্যবস্থাপনা।
কিন্তু অামাদের বাস্তবতা কি বলে?প্রত্যাশার সাথে প্রাপ্তি কতটুকু?গতানুতিক রাজনীতি তার সাথে কতটুকু খাপ খাওয়াতে পারছে?জনগণ কতটুকু ডিজিটাল সেবা পাচ্ছেন?সেবা পেতে গিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন কি না?সেবার নামে প্রভাব খাটিয়ে জনগণকে প্রহসনের শিকার করানো হচ্ছে কি না?ইত্যাদি ইত্যাদি।
যতটুকুই সুবিধা সরকার ইউনিয়ন পরিষদকে প্রদান করুক না কেন সেটাও পুরোপুরি জনগণ পাচ্ছেন না।বাস্তব প্রেক্ষাপট ভিন্ন কথা বলে।দায়বদ্ধতার উর্দ্ধে কোন ইউনিয়ন পরিষদ ই নয়।স্বচ্ছতা কি জিনিস নেই।সরকারি ত্রাণ বিলি ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম এটা খুবই প্রাচীন একটা ব্যাপার।সঠিক জায়গায় এবং সঠিক পরিমাপে বিলি কোথাও হয়না এটা হলফ করে বলা যায়।একচেটিয়া সুবিধা হরণ করেন নির্বাচিত প্রতিনিধি গণ।ত্রাণ ব্যবস্থাপনার সাথে যুক্ত হয়েছে অারো কিছু সরকারি সুযোগ -সুবিধা।যেখানে পরিপূর্ণ স্বচ্ছতা অার সঠিক বণ্টন হলে দেশ থেকে ক্ষুধা,হাহাকার,দারিদ্র্যতা দুর হতে সময় লাগবেনা।কিন্তু দারিদ্র্যতাকে দুর করতে দেয়া হচ্ছেনা।কুক্ষিগত করে রাখা হচ্ছে ক্ষমতার কাছে।তথ্য সেবাকেন্দ্র থেকেও অনিয়মের মাধ্যমে জনগণের কাছ থেকে টাকা অাদায় করা হয়।টাকার বিনিময়ে করে দেয়া হয় দুস্থভাতা,বয়স্ক ভাতা,বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতাসমুহ।রেশন কার্ডের অাওতায় ফেলা হয় স্বচ্ছল মানুষদের।পক্ষান্তরে প্রকৃত অস্বচ্ছলেরা সুবিধার অাওতার বাইরেই থেকে যান।মাথাচাড়া দিয়ে দারিদ্র্যতা বেড়েই চলে।সঠিক তদারকি অার জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠিত হলেই কেবল এই অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
অালোর যুগে এসেও জনগন কে অন্ধকারে রাখা হয়।উন্মুক্ত বাজেট ঠিক কোন কোন কাজে বাস্তবায়িত হচ্ছে তা জনগণ জানতেও পারেন না।ফলশ্রুতিতে স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,রাস্তাঘাট,কালভার্ট,জনগণের ব্যবহৃত বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সম্পদ বেহাল দশায় পড়ে থাকে।মেরামত কাজের সঠিক বাস্তবায়ন নেই।হাতেগোনা কিছু জায়গায় কাজ করা হলেও বাকিগুলো একইভাবে পড়ে থাকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি গণ দায় এড়িয়ে চলেন।সবশেষে ভোগান্তির ভাগ পেতে হয় জনসাধারণ কে।
বাজেট প্রতি অর্থবছরে যা হয় তাতে করে একটি ইউনিয়নে অনেক কাজ করা সম্ভব।কিন্তু সেসবের কিছুই হয়না।যা হয় লোক দেখানো।বাকিগুলো চলে যায় মেম্বার-চেয়ারম্যানগনের পকেটে।কত কত ইউনিয়ন পরিষদে সঠিক সময়ে নিয়ম মাফিক মেম্বার-চেয়ারম্যানগণ উপস্থিতও থাকেন না।এতে করেও জনগণকে ভোগান্তি পোহাতে হয়।মুল্যবাণ কাজ করতে এসে জনগণকে ফিরে যেতে হয়।হয়রানির শিকার হতে হয়।টিঅার-কাবিখার বাজেটে হয় লুটপাট।ভাগ-বাটোয়ারা অার স্বজন প্রীতির ঠেলায় জনগণের ভাগ্যে থাকে মুলা!এই অবস্থা থেকে জনগণকে রেহাই দিতে সরকার অাদৌ কোন ব্যবস্থা করেছে কি?ইউপি চেয়ারম্যান গণ নিজ নিজ কর্মের জবাবদিহিতা করতে কতটুকু বাধ্য সেটা নিশ্চিত করা হয়েছে কি?প্রশাসন কতটা জনমুখী সেটার নিশ্চয়তা সরকার দিতে পেরেছে কি?যদি সরকার এই ধরনের কার্য সম্পাদন করার জন্য স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ব্যবস্থা করতে না পারে তবে ইউনিয়ন পরিষদ গঠনের সার্থকতা কোথায়?
গণতান্ত্রিক সমাজে গণমানুষের প্রত্যাশিত নেতা হলেন একজন আপোষহীন, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পুরণে বদ্ধ পরিকর, স্থানীয় জনতার সাথে আন্তরিক ও দক্ষ, প্রগতিশীল ভাবনায় উদ্দীপ্ত, স্থানীয় ও জাতীয় স্বার্থ সম্পর্কে সচেতন একজন সুনাগরিক। অথচ আমাদের দেশে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের ইউপি চেয়ারম্যানগণ কেন্দ্রীয় সরকারের প্রভাবে হয়ে উঠেন পরাক্রমশালী, চূড়ান্ত রায় প্রদানকারী, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহনকারী, জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন এক মহান কর্তা। জনগণ এমন পরিস্থিতির পরিবর্তন চায়।  গণতান্ত্রিক এই দেশে নিয়মতান্ত্রিক সরকার পরিবর্তন দৃশ্যমান। এই ব্যবস্থাপনায় রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় আইনি কাঠামোর দ্বারা, কোন বিশেষ দল বা ব্যক্তির  ইচ্ছা -অনিচ্ছা বা অাদেশের দ্বারা  নয়। দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন কতটুকু রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকবে তা নিয়ে জনগণ এখনও বিভ্রান্তির মাঝে রয়েছে। বিভ্রান্তুি অার শঙ্কা থেকে মুক্তি পেতে দরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সতন্ত্র কর্তৃত্ব করার স্বাধীনতা।   কোনভাবেই ক্ষমতাকে  অপব্যবহার করা নয়। মুলত দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন কোন জটিল সমস্যা নয়,সবচে বড় সমস্যা হলো ক্ষমতাসীন সরকার কর্তৃক একটি শক্তিশালী ‘নির্বাচন কমিশন’ গঠিত না হওয়া। জনতার দাবি, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা দিয়ে সুশাসন নিশ্চিত করা  যাতে করে মানুষের অধিকার সুনিশ্চিত হয়।  গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় সরকারকে অধিকতর অংশগ্রহণমূলক,নিরপেক্ষ, স্বাধীন ও কল্যাণমুখী করতে হবে। কেন্দ্রীয় ক্ষমতার অপ্রত্যাশিত হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। কারণ, সমাজের অবহেলিত ও পিছিয়ে পড়া মানুষদের অংশগ্রহণের, সুবিধাগ্রহনের  এবং সরাসরি মাধ্যম হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ। আধুনিকায়নের পথ  ধরে গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে সকল রাজনৈতিক দল ও নেতার প্রতি আহ্বান সংকীর্ণমনা রাজনৈতিক মানসিকতা এবং ক্ষমতার বিস্তার ঘটানোর মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক  পরিমণ্ডল তৈরি করা হোক,  যাতে অসুস্থ রাজনীতিকে  বিদায় দেয়া যেতে পারে । যাতে একটি শক্তিশালী, অবাধ,সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচিত স্থানীয় সরকার গড়ে উঠতে পারে। ২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তারই প্রতিফলন ঘটুক।

জনগণ ও সাধারণ ভোটারদের করণীয় রয়েছে অনেক।সুনাগরিকের প্রতিটি গুণাবলী প্রার্থীর মাঝে অাছে কিনা,প্রার্থী কোন স্তরের রাজনৈতিক মানসিকতার,প্রার্থীর সামাজিক সেবা করার মানসিকতা অাছে কিনা,প্রার্থীর দক্ষতা,বুদ্ধিমত্তা,উদারতা কতটুকু পরিলক্ষিত হয়েছে,প্রার্থীর ত্যাগের মনোভাব রয়েছে কিনা,প্রার্থী স্বশিক্ষিত কিনা,সমাজের সব শ্রেণীর মানুষকে,সাধারণ জনতাকে অাপন করে নেবার মতো মানসিকতা প্রার্থীর অাছে কি না তা বিবেচনা করা।খেয়াল রাখা।কারণ এসবের গুণাবলীতেই একজন যোগ্য প্রার্থীর বিচার হয়।প্রার্থীর নির্বাচনী ইশতেহার স্বচ্ছ ও সহজে বোধগম্য কিনা তাও দেখবার ও ভাববার বিষয়।কারণ নির্বাচনী ইশতেহারেও প্রার্থীর দক্ষতা ও সচেতনতা ও উদ্দেশ্য প্রতীয়মান হয়।নির্বাচনী ইশতেহার যৌক্তিক কিনা,জটিল কিনা কিংবা অাকাশ কুসুম কল্পনার স্বপ্ন কিনা সেটাও খতিয়ে দেখতে হবে।কারণ ইউপি চেয়ারম্যান দের কাজের সীমাবদ্ধতা রয়েছে।প্রার্থী যেকোন বাধা বুদ্ধিমত্তার সাথে অতিক্রম করার ক্ষমতা রাখেন কিনা,সমালোচনাকে সহ্য করতে পারেন কিনা,প্রতিদ্বন্দ্বী কে কোন দৃষ্টিকোন থেকে দেখেন,প্রতিপক্ষকে হেয় বা শত্রুজ্ঞান করেন কিনা এবং সহিংসতায় জড়ানোর প্রবণতা রয়েছে কি না সেগুলোও নজর দিতে হবে।কারণ একজন সৎ ও যোগ্য প্রার্থী সবসময়ই জনমুখী ও পরিশ্রমী হবেন।তাই প্রার্থী নির্বাচনে জনগণ কে বড় ভুমিকা রাখতে হবে।জনগণের ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতির ক্ষেত্রে প্রার্থী কতটুকু সহযোগিতা করার  মানসিকতা রাখেন তা নির্ভর করে প্রার্থীর যোগ্যতার ওপরেই।প্রার্থী অতিমাত্রায় মিষ্টভাষী কিনা,সব কথাতেই তাল মিলিয়ে হা সুচক জবাব দেন কি না এবং গতানুগতিক নিয়মের ওপর কতটা নির্ভর করেন এবং অন্যায়ের প্রতিবাদ করার সৎ সাহস অার মানসিকতা রাখপন কিনা এসবও বিবেচনায় রাখতে হবে।সবক্ষেত্রেই মানুষকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেন কিনা,কোথাও কোন প্রার্থী অর্থের প্রলোভন দেখান কিনা,টাকার বিনিময়ে ভোট কেনার চেষ্টা করেন কিনা এসব বিশেষ নজরে রাখতে হবে।কারণ কোন যোগ্য প্রার্থী কখনোই টাকা দিয়ে ভোট কিনতে অাগ্রহী নন,জনগণের ভালোবাসাতেই বিশ্বাসী থাকেন।প্রার্থী তার সঙ্গী হিসেবে কোন দালাল,চাটুকার বা অসৎ শ্রেণীর লোকজন কে প্রাধান্য দেন কিনা সেটাও নজরে রাখতে হবে।এক কথায় হিসাব নিকাশ করে প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে হবে।স্বার্থান্বেষী প্রার্থী কখনই জনগণের সেবক হতে পারেনা এটা অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে।
একটি দেশকে এগিয়ে নিতে হলে গ্রাম উন্নয়নের কোন বিকল্প নেই।গ্রামীণ উন্নয়নের সাথে দেশের উন্নয়ন জড়িয়ে থাকে।তাই পিছিয়ে পড়া গ্রামীন জনগোষ্ঠীর দিকে বিশেষ নজরদারি প্রতিষ্ঠিত না হলে দেশ সামনের সারিতে এগুতে পারবেনা।তাই ইউনিয়ন পরিষদকে অবহেলা করা বা ছোট করে দেখার কিছুই নেই।ইউনিয়ন পরিষদকে অারো বেশি বেশি সুযোগ সুবিধার অাওতায় এনে, নিয়ম কানুন শক্ত করে প্রতিষ্ঠা করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
কৃষিক্ষেত্রে প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে যেন প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বিশেষ সুবিধা পেতে পারে তার ব্যবস্থাপনা করা অবশ্যম্ভাবী।প্রতিরোধ মুলক,সচেতনতামুলক,জনকল্যাণমুলক প্রতিটি কাজে যেন ইউনিয়ন পরিষদ মুখ্য ভুমিকা রাখতে পারে তার নিশ্চয়তা সরকারকেই দিতে হবে।নারী ও শিশু শিক্ষা বিকাশে ইউনিয়ন পরিষদ যেন বাধ্যতামুলক ভুমিকা রাখতে পারে সে বিষয়ে কার্যকারী পদক্ষেপ সরকারকে নিতে হবে।প্রতিটি নির্বাচিত প্রতিনিধি যাতে সঠিকভাবে সকল দায় দায়িত্ব সম্পাদন করতে বাধ্য থাকেন তার জন্য নিশ্চিত ও কার্যকারী ব্যবস্থা সরকারকে করতে হবে।যদিও ইউনিয়ন পরিষদকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে সরকার বদ্ধপরিকর।উন্নয়নমুলক যে কোন কাজের অগ্রগতিতে যেন উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক বিশেষ নজর রাখা হয় সে ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।এমন কিছু ব্যবস্থা সরকারের গ্রহন করা উচিত যাতে প্রতি পাচ বছরে এক একটি ইউনিয়ন যেন উন্নয়নের রোল মডেল হতে পারে।উন্নয়ন থেকে উন্নতির শিখরে যেদিন গ্রামীণ জনগণ পৌছে যেতে পারবেন সেদিনই বাংলাদেশের দুর্দিন ঘুচে যাবার পথ উন্মুক্ত হবে।
দারিদ্র্যতা বিমোচনের লক্ষ্যে সরকারি প্রকল্প ও কার্যক্রমের গতিশীলতা যেন ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক পরিচালিত হয় এবং দ্রুততার সাথে গতিশীল থাকে সেই ব্যবস্থার জন্য ইউনিয়ন পরিষদকে প্রস্তুত করতে হবে সরকারকেই।কাজবিহীন যেন প্রতিনিধিগণ সময় পার করতে না পারেন সেই বিষয়ে সরকারের ভুমিকাই বড় ভুমিকা হতে হবে।সঠিক মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে কাজের হিসাব নিকাশ জনগণকে দিতে হবে।প্রয়োজনে সচেতনার জন্য ঘন ঘন সভা-সেমিনারেরও অায়োজন করতে হবে এবং তাতে সব নাগরিকদের অংশগ্রহন নিশ্চিত করতে হবে।বাল্যবিবাহ,শিশুশ্রম,অনিয়ম,যৌতুক,নারী নির্যাতন,অবৈধ ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধের লক্ষ্যে ইউনিয়ন পরিষদ কে অারো শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল করে তুলতে সরকারকে অারো ভুমিকা রাখতে হবে।
সঠিক পরিচর্যা ও তদবীর-তালাশের অাওতায় যেন প্রতিটি ইউনিয়ন থাকে সেই ব্যাপারে সরকারকে কার্যকরী হতে হবে।
প্রতিটি ইউনিয়নে অাদালতের ন্যায় সকল ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠিত করা বাধ্যতামুলক করতে হবে।যাতে করে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে যেন সহজে মামলা-মোকদ্দমার শিকার হতে না হয়।ইউনিয়ন পরিষদের রক্ষণাবেক্ষণ ও সম্পদ সংরক্ষণের শক্ত ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা প্রদান করতে হবে।সমাজসেবামূলক সংগঠনসমুহ যেন ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সুবিধা পেতে পারে এবং উৎসাহিত হতে পারে সেই ব্যবস্থাও প্রতিটি ইউনিয়নে থাকতে হবে।শুধুমাত্র ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধি গণ তাদের সৎ মনোভাব থাকলেই ভালো কাজ করবেন না থাকলে করবেন না এমন নয়।বরং সকলেই যেন ভালো কাজ করতে বাধ্য থাকেন সেই ব্যবস্থা করতে হবে।কারো ইচ্ছের ওপরে নয় বরং দায়িত্বের জায়গা থেকে যেন ভালো কাজের মাধ্যমে একটি ইউনিয়ন পরিষদ এগিয়ে যায় সেই ব্যবস্থার নিশ্চিত করতে হবে সরকারকে।নইলে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ ও ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ গড়া সহজ হবেনা।তৃণমুল পর্যায় থেকে অনিয়ম অার দুর্নীতিকে ঝেটিয়ে বিদায় করতে পারলে বাংলাদেশের অগ্রগতি ঠেকায় কার সাধ্যি?তৃণমুল থেকে স্বচ্ছতার অভিযান যেন উপর পর্যন্ত পৌছে যায় সেই লক্ষ্যে সরকার ও জনসাধারণকে এগিয়ে অাসতে হবে।

চেয়ারম্যান গণ যাতে নিজেদেরকে দণ্ডমুণ্ডের কর্তা না ভেবে দায়িত্বশীল ব্যক্তি ভাবেন সেই পরিবেশ সরকারকেই নিশ্চিত করতে হবে।শুধু সংসদে অাইন পাশ ই নয় বরং অাইনের সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে শাসনব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।যুগোপযোগী সঠিক অাইনের পথে জনতার সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হলেই এগিয়ে যাবে ইউনিয়ন পরিষদ।এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।
অনেক অাকাঙ্ক্ষিত,প্রত্যাশিত অার অাশার প্রদীপ নিয়ে এবারো এসেছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন।জনগণও বুক বেধেছে ভালো কিছুর প্রত্যাশায়।জনতার চাওয়া যেন পুর্ণ হয়।ইউনিয়ন পরিষদগুলো কে যেন অার পেছনে ফিরে তাকাতে না হয় সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে হবে।জনগণকে এগিয়ে অাসতে হবে।নির্বাচনকে প্রতিযোগিতামূলক করে সঠিক ও যোগ্য প্রার্থী নির্বাচিত করে জনগণ যেন তাদের স্বপ্নকে বাস্তবে রুপদান করতে পারেন এবং সুন্দর একটি অাগামির বাংলাদেশ যেন নিজ হাতে প্রতিটি জনতা প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন সেই নিশ্চয়তা তৈরি হোক।লক্ষ্যপুরণে এগিয়ে যাক বাংলাদেশ।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অর্থবহ হোক,তাৎপর্য পুর্ন হোক।জনগণের প্রত্যাশার পুর্ন প্রতিফলন ঘটুক।নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হোক, জনতার প্রার্থীই নির্বাচিত হোক। নির্বাচিত প্রার্থীদের বিজয় যেন প্রতিফলিত হয় তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যের মাঝে।কাজের মধ্যেই সফল হোক প্রতিনিধি ও জনতা।সোনার বাংলা গড়ার শপথে উদ্দীপ্ত হোক দেশের প্রতিটি নাগরিক।

হৃদয় তালুকদার
হাতীবান্ধা / লালমনরিহাট

Share This Post