কাঁচা রাস্তাটি আর পাকা হয় না,দুর্ভোগে এলাকাবাসী

কাঁচা রাস্তাটি আর পাকা হয় না,দুর্ভোগে এলাকাবাসী

নাজনীন সিকদার (দোহার-নবাবগঞ্জ) : 
ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বারুয়াখালী ইউনিয়নের কাঞ্চননগর, জাহানাবাদ ও বড় কাউনিয়াকান্দি যাওয়ার একমাত্র রাস্তাটি কাঁচা। দুর্ভোগের চরমে তিন এলাকাবাসী। রাস্তাটি পাকা করার দাবি দীর্ঘদিন। নির্বাচনের আগে প্রার্থীরা রাস্তাটি পাঁকা করার আশ্বাস দিলেও নির্বাচনের পর সবাই প্রতিশ্রুতির কথা ভুলে যায়। ফলে রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বৃষ্টি হলে এ রাস্তায় চলাচলকারী মানুষকে অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হতে হয়।স্থানীয় লোকজন জানায়, উপজেলার বারুয়াখালীর কাঞ্চননগর, জাহানাবাদ ও বড় কাউনিয়াকান্দি যাওয়ার রাস্তাটির অবস্থা এমন বেহাল যে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটির সংস্কারবিহীন অবস্থায় পড়ে আছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই কর্দমাক্ত হয়ে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়। এছাড়া দুইটি মাধ্যমিক, দুইটি উচ্চ মাধ্যমিক ও চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেতে শিক্ষার্থীদের এই কাঁচা রাস্তা ব্যবহার করতে হয়। বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় এ রাস্তাটি দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে স্থানীয়দের চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয়।এলাকাবাসীর অভিযোগ, একের পর এক চেয়ারম্যান আর মেম্বার পরিবর্তন হলেও তাদের সড়কে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি । বর্ষা আর বৃষ্টির দিনে প্রয়োজনের তাগিদে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয় তাদের।বড় কাউনিয়াকান্দি এলাকার বাসিন্দা রিপন তালুকদার জানান, শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালি আর বর্ষা মৌসুমে কাদা পানি এভাবেই চলে আমাদের যাতায়াত। তারপর যদি একটু বৃষ্টি হয় তখন তো দুঃখের শেষ নাই। তখন আর পায়ে হেঁটেও চলাচল করতে পারি না।স্থানীয় মুদি দোকানদার মো. ইয়াসিন বলেন, এই রাস্তাটির বেহাল অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে। নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিরা আশ্বাস দেয়। কিন্তু পরে আর বাস্তবায়ন হয় না। মুদি মালামাল আনতে বেশি ভাড়া দিলেও গাড়ি আসতে চায় না।ইজিবাইক চালক সানোয়ার হোসেন বলেন, রাস্তাটির এমন দশা বৃষ্টি হলে গাড়ি নিয়ে যাওয়া সম্ভব। বৃষ্টির দিনে প্রায় দুর্ঘটনায় ঘটে রাস্তাটিতে।স্থানীয় কৃষক আমির হোসেন জানান, আমাদের এলাকার বেশির ভাগ মানুষ কৃষি কাজ করে। জমিতে উৎপাদিত খাদ্যশস্য বাজারে নিতে পড়তে হয় ভোগান্তিতে। তিনি রাস্তাটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান।স্থানীয় কয়েকজন জানান, নির্বাচনের আগে সড়কটি সংস্কারের আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। আশ্বাস শুধু কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। তাদের ভাগ্যে দুর্ভোগ ছাড়া কিছুই জুটেনি।এ ব্যাপারে বারুয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান শিকদার বলেন, ভূঁইয়া এন্ড ব্রাদার্স নামে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান রাস্তার কাজ পেয়েছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে রাস্তাটি মেরামতে দেড়ি হচ্ছে। আশা করি, খুব দ্রুত রাস্তা মেরামত করা হবে।এব্যাপারে নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রকোশলী তপন কুমার বৈদ্য জানান, কাঁচা সড়কগুলো স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সংস্কারের কাজ করা হয়। এ সড়কগুলার কাজ স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে কাজ হয়ে থাকে। 

Share This Post