করোনা থেকে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরাপদ আসন এক্রাইলিক শীট : ‘যত সিট তত যাত্রী’

করোনা থেকে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরাপদ আসন এক্রাইলিক শীট : ‘যত সিট তত যাত্রী’

মোঃ নজরুল ইসলাম : নতুন করে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় সরকার আবার বিধি-নিষেধ আরোপ করছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা দিয়েছে। করোনা ভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের সংক্রমণ ঠেকাতে ট্রেন, বাস এবং লঞ্চে সক্ষমতার অর্ধেক সংখ্যক যাত্রী নেওয়া যাবে। ২০২১ সালে দেশের গণপরিবহনে অর্ধেক যাত্রী বহনের নির্দেশনায় ৬০ শতাংশ ভাড়া বাড়ানো হলেও কোথাও কোথাও ১০০ শতাংশ বর্ধিত ভাড়া আদায়ের নজির রয়েছে। করোনাভাইরাস সংকটের মধ্যে গণপরিবহনে যাত্রী সংখ্যা কমিয়ে ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব যদি বিবেচনা করা হয় তা ‘অগ্রহণযোগ্য’। গণপরিবহনের আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য বাড়তি ভাড়া যাত্রীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এছাড়া বিধি-নিষেধ আরোপ করলেও গণপরিবহনের প্রত্যেক আসনে যাত্রী নেয়া হয়। আদায় করা হয় বর্ধিত ভাড়াও।
ট্রেন, বাস এবং লঞ্চে অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে চলতে হবে। পাশাপাশি আসনে বসা যাবে না। আসন বিন্যাস করতে হবে আড়াআড়িভাবে। যা যাত্রীদের জন্য করোনা সংক্রমণে যথেষ্ট নিরাপদ নহে। বাস মালিকের স্বার্থ সব সময়ের জন্য রক্ষা হলেও যাত্রীদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি যেন খুবই ঠুনকো। দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা চটকদার বক্তব্য ও বিবৃতির মধ্যেই থাকতে পছন্দ করেন। আর নির্মম জাঁতাকলে পিষ্ট হয় জনসাধারণ।
স্কুল-কলেজ,অফিস-আদালত,ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সব প্রতিষ্ঠানই খোলা।এখন অর্ধেক যাত্রী বহনের সিদ্ধান্ত কাগুজে সিদ্ধান্তে পরিণত হবে। এ অজুহাতে আবারও ভাড়া বাড়ানো হলে সাধারণ মানুষের জীবন বিষিয়ে উঠবে। তাই ‘যত সিট তত যাত্রী’ পদ্ধতিতে গণপরিবহনে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
অর্ধেক আসন ফাঁকা শর্তারোপ জটিল একটি প্রক্রিয়া যা অতীতে যথাযথ বাস্তবায়িত হয়নি এবং এ পদক্ষেপের ফলে বাস এবং লঞ্চ মালিকরা যেমন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, যাত্রীদের কষ্ট আরো বাড়বে।তাছাড়া সংক্রমণ বাড়ার ঝুঁকিতো আছেই।
করোনা ভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের সংক্রমণ ঠেকাত এবং দেশের চলমান অর্থনৈতিক ধারা বহাল রাখতে পরিবহন সমুহকে যাত্রীদের নিরাপত্তায় প্রতিটি আসনকে সুরক্ষিত করা হলে সমস্যা নিরসন হবে। মালিকের ন্যায্য ভাড়া ও যাত্রীর স্বার্থ, দুটোই এতে রক্ষা পাবে। স্বচ্ছ এক্রাইলিক শীট (Plastik Akrilik) দিয়ে যানবাহনে করোনা থেকে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরাপদ আসন তৈরী করতে হবে। দুটি আসনের হাতলের মাঝখানে এবং অন্য আসনের প্রবেশের হাতলের উপর এক্রাইলিক শীট দিয়ে স্লাইডিং উইন্ডো (sliding window) সিষ্টেম থাকবে। দুই আসনের মাঝামাঝি ফ্যান অথবা প্রত্যেক যাত্রীর মাথার উপরে ছাদে ছোট্ট উইন্ডো (Naturally) বাতাস প্রবেশে সুবিধা রাখা যেতে পারে। অর্থাৎ দীর্ঘ পথযাত্রায়- যেন স্বস্তিতে যাতায়াত করতে পারে। প্রবেশ মুখে দরজায় জীবাণুনাশক টানেল থাকা আবশ্যক। বিড়ালের ভয়ে মাছ আনা কিংবা গলায় কাঁটা বিঁধে যাবে, এ ধরনের দুশ্চিন্তা থাকা ঠিক নয়। যাত্রী পরিবহনে ট্রেন, বাস এবং লঞ্চ সমুহের আসন সমুহ প্রদর্শিত চিত্র-নকশা অনুযায়ী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ছাড়পত্র মালিক ও রেল কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই নিতে হবে। দ্রুত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সময়োপযুগী পদক্ষেপ গ্রহণে করোনা ভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের সংক্রমণ ঠেকানোর অন্যতম কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।

Share This Post