কথিত সংবাদ মাধ্যম এর নামে আইডি কার্ড বিক্রি: সাতক্ষীরার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত চষে বেড়াচ্ছেন শত ভূয়া সাংবাদিক

কথিত সংবাদ মাধ্যম এর নামে আইডি কার্ড বিক্রি: সাতক্ষীরার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত চষে বেড়াচ্ছেন শত ভূয়া সাংবাদিক

এমএ জামান (সাতক্ষীরা) : টাকা বিনিময়ে সাংবাদিক কার্ড কিনে সাতক্ষীরার জেলার সাতটি উপজেলা চষে বেড়াচ্ছেন শত ভূয়া সাংবাদিক। অসাধু চক্রের কাছ থেকে অখ্যাত অনলাইন টিভি চ্যানেলের কার্ড নিয়ে চাঁদা আদায় করে বেড়াচ্ছেন এসব ব্যক্তিরা। সাংবাদিক সেজে মোটরসাইকেলে প্রেস ও সাংবাদিক লিখে বোকা বানাচ্ছেন বিভিন্ন মহলকে। অনেকের বিরুদ্ধে রীতিমত মাদক বহনের অভিযোগও উঠেছে। সাংবাদিক পরিচয়দানকারী এসব ব্যক্তি অনুমোদিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপরাধ সংক্রান্ত সংবাদ পড়ে ছুটে যান অভিযুক্তদের কাছে। নানা উছিলায় তারা এসব মানুষের কাছ থেকে আদায় করেন মোটা অংকের টাকা।

সম্প্রতি গত ১৪ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরার শ্যামনগরের নওয়াবেকি বেড়ালক্ষী গ্রামের সাইফুল ঢালীর ছেলে চায়ের দোকানি ‘এমডি সুজন’ ডিবিসি টিভি চ্যানেল এর স্টাফ রিপোর্টার পরিচয়ে শ্যামনগরের বিভিন্ন এলাকায় মানুষের সাথে প্রতারণা করছে। তার পরিচয়পত্র ও মাইক্রোফোন ডিবিসির মতো নকল তৈরি করা। ডিবিসি টিভির সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি এম জিললুর রহমান তার ফেসবুকে পোস্ট করেন এরপর থেকে সে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এছাড়াও সাতক্ষীরা শহরের রাজ্জাক পার্কে বৃহস্পতিবার (৭ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১০টার দিকে এটিএন বাংলার ক্যামেরাপার্সন মো: ইয়ারুল ইসলাম ও একাত্তর টিভির ক্যামেরাপার্সন সাদিকুর রহমানের সঙ্গে গল্পে মেতে উঠেন আর এক সাংবাদিক দীপক দাস। তিনি বলেন, তার বাড়ি পাটকেলঘাটা থানার কুমিরা এলাকায়। নিজের সাংবাদিক হওয়ার গল্পটা জানিয়ে দাবি করেন, ভাই প্রোগ্রাম হলে আমাকে ডাকবেন, আমি নিউজ কভার করে দেব। অর্নিবান২৪টিভি নামের একটি সংবাদ মাধ্যমের আইডি কার্ড কোমরে ঝুঁলিয়ে ঘুরছেন তিনি।

নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়ে দীপক দাস সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত দাবি করলেও বাস্তবে ইংরেজি অক্ষর চিনেন না আবার বাংলাটাও ঠিকঠাক উচ্চারণ করতে পারেন না। অর্নিবান২৪টিভি নামে চাকরি ও নাটক, গানের শুটিং প্রলোভনে মেয়েদের নিয়ে অনৈতিক কাজে ব্যবহার করতো এই প্রতিষ্ঠানের কর্মকতারা। সম্প্রতি সাতক্ষীরা শহরে ‘সাংবাদিক’ লেখা মোটরসাইকেলের সংখ্যা বেড়ে গেছে। চেকপোস্টে দায়িত্বে থাকা পুলিশ অফিসারদের চোখ ফাঁকি দিয়ে এরা পুরো জেলা চষে বেড়াচ্ছেন। পুলিশ এদের গাড়ির কাগজপত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে কি না, গাড়ি চোরাই কিংবা টানা কিনা চেক করতে পারছেন না সাংবাদিক ভেবে। জানা যায়, সাতক্ষীরা শতাধিক সাংবাদিকদের পকেটে রয়েছে নামসর্বস্ব অনলাইন নিউজপোর্টাল, পত্রিকা ও টিভি’র কার্ড। একটি অসাধু চক্র এক থেকে দশ হাজার টাকায় এসব কার্ড বিক্রি করছে। এদের অনেকের পকেটেই কেনা পরিচয়পত্র। মোটরসাইকেল সাংবাদিক ও প্রেস লিখে হম্বিতম্বি করে পথ চলছেন। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে অনেক সময় অবৈধ মালামাল বহন করছেন।

এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হুসেন জানিয়েছেন, ভূয়া সাংবাদিকদের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। এসব ভূয়া সাংবাদিকদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

Share This Post