একেক জন শ্রমিকের ঢাকায় ফেরা মানে দুর্ভোগের নতুন নতুন চিত্র

একেক জন শ্রমিকের ঢাকায় ফেরা মানে দুর্ভোগের নতুন নতুন চিত্র

রাজধানীর প্রবেশ পথে প্রশাসনের চেকপোস্ট থাকলেও পোশাক কারখানা ছুটি শেষ হয়ে যাওয়ায় করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে সরকার ঘোষিত কঠোর ‘লকডাউনের’ মধ্যে হাজার হাজার মানুষ রাজধানীতে ফিরছে। গণপরিবহণ বন্ধ থাকায় বেশির ভাগ যাত্রী অ্যাম্বুলেন্স, মোটরসাইকেল, রিকশায় এবং কেউ কেউ হেঁটেই আমিনবাজার ব্রিজ দিয়ে গণস্রোতের মতো ঢাকায় প্রবেশ করছে। অতিরিক্ত যাত্রী থাকায় ওই সকল যাত্রীদের জিম্মি করে এক শ্রেণির অসাধু মানুষ তাদের এই অসহায়েত্বের সুয়োগকে কাজে লাগিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে অতিরিক্ত কয়েক গুণ ভাড়া। যেতে হবে সেজন্য অতিরিক্ত কয়েক গুন ভাড়া হলেও অনেকে যাচ্ছেন আবার অনেকে দেখছেন আসলে বিকল্প কোনো উপায় আছে কিনা যদি কোনো উপায় অন্ত না পাচ্ছে তারা পায়ে হেঁটেই রওনা হচ্ছে তাদের নিজ নিজ গন্তব্যে।
তবে প্রয়োজন ছাড়া অজুহাত দেখিয়ে কেউ ঢাকায় প্রবেশ করতে চাইলে তাকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে বলে জানালেন গাবতলী চেকপোস্টে কর্তব্যরত পুলিশ সার্জেন্ট ফাহিম।
একজন শ্রমিক বললেন , গতকাল রাতে অফিসের ফোন পেয়ে আজ সকালে অফিসে করার জন্য রওনা হয়েছি। যে টাকা ছিলো তার অর্ধেকের বেশি প্রায় গাড়ি ভাড়া দিয়েই খরচ হয়ে গেছে আর এখন পাটুরিয়া ঘাট থেকে কিভাবে আশুলিয়াতে যাবো সেটাই ভাবছি।এখন তো আর হাতে কোনো টাকা রইলো না যে এ কয়েক দিন বাজার সদাই করে খাবো। যে কারণে এখন পাঁয়ে হেঁটে যাওয়া ছাড়া আমার আর কোনো গতি নাই। ’

শ্রমিকদের ‘কেউ যেন অনুপস্থিত না থাকে’ বলে প্রশ্নবিদ্ধ অনন্ত :
ব্যবসায়ী ও অভিনেতা অন্তত জলিল তার অনন্ত সিআইপি ফেসবুক পেজে লেখেন, ‘এতো দ্বারা এ. জে. আই গ্রুপ ও এ. বি. গ্রুপে কর্মরত সকল কর্মকর্তা এবং শ্রমিক ভাই-বোনদের উদ্দেশ্যে জানানো যাচ্ছে যে, আগামী ১ আগস্ট থেকে আমাদের ফ্যাক্টরি সম্পন্নভাবে খোলা থাকবে। তাই সবাইকে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করা হলো। কেউ যেন অনুপস্থিত না থাকে। ’ এমন পোস্ট দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক তোপের মুখে পড়েছেন অনন্ত। লকডাউনের মধ্যে স্বল্প নোটিশে কীভাবে শ্রমিকরা কারখানায় আসবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন ছুড়ে দেন অনেকে। সমালোচনার মুখে অবশ্য ‘কেউ যেন অনুপস্থিত না থাকে’ বাক্যটি পোস্ট থেকে মুছে ফেলেন অনন্ত।

এদিকে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেছেন, যারা শুধু ঢাকায় আছেন তাদের নিয়েই কারখানার কর্মকাণ্ড শুরু করা হবে। যারা ঢাকার বাইরে তারা কেউ চাকরি হারাবেন না। ৫ তারিখের পরে পর্যায়ক্রমে তাদের নিয়ে আসবে, একেবারে না। এক্ষেত্রে কিন্তু ছাঁটাইয়ের কোনো আশঙ্কা নেই।

শ্রমিকদের অভিযোগ, তাদের ফোন করে বলা হয়েছে, কারখানায় না এলে চাকরি থাকবে না। তাই তারা হাজারো কষ্ট সহ্য করে যে কোনো উপায়ে ঢাকায় ফিরছেন। পোশাককর্মী শফিকুল ইসলাম ও তার স্ত্রী হোসনে আরার সঙ্গে কোলে ৯ মাসের একটি শিশুও আছে। কারখানায় যোগ দিতে এই দম্পতি রাজশাহী থেকে এসেছে। প্রথমে রাজশাহী থেকে ভাড়া গাড়িতে চন্দ্রা পর্যন্ত এসেছে। এরপর আবারও ভাড়া গাড়ি, এরপর রিকশা ও পায়ে হেঁটে আমিনবাজার ব্রিজ পর্যন্ত। আমিনবাজার ব্রিজ থেকে গাবতলীতে এসেছেন পায়ে হেঁটে। ঢাকায় প্রবেশ করে নতুন দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে ওই দম্পতিকে। কারণ, সেখানেও কোনো পরিবহন নেই। যাতায়াতের মাধ্যম বলতে রিকশা। ৫০০ টাকার পরিবর্তে তাদের জন প্রতি পরিবহন খবর পড়ছে ৪ হাজার টাকার বেশি।

আরেক শ্রমিক বললেন, গতকাল হঠাৎ অফিস থেকে ফোন। বস কইছে, কারখানায় না আসলে চাকরি যাবে। সময়মতো অফিসে যোগ না দিলে চাকরি থাকবে না। আমরা গরিব মানুষ চাকরির ভয়ে ঢাকায় চলে এসেছি। অফিসের অর্ডার চাকরি বাঁচাতে হলে আসতে হবে। তবে আমাদের জন্য পরিবহনের ব্যবস্থা করলে ভালো হতো। জানের ওপর এত কষ্ট হতো না। ঢা

Share This Post