ইন্টারনেট : ঝুঁকিতে দেশের যুব সমাজের একটি বৃহৎ অংশ

ইন্টারনেট :  ঝুঁকিতে দেশের যুব সমাজের একটি বৃহৎ অংশ

মো: ফেরদৌস রহমান : 

নিশি রাতে চাঁদের আলোয় কিংবা ঘরে হারিকেন জ্বালিয়েও গত কিছু দশক আগে পড়ালেখার প্রতি ঝুঁকে ছিলো ছেলে-মেয়েরা। কোনো সময় দক্ষিণ দিকের জানালায় উঁকি দিতো ভরা পূর্নিমার চাঁদ। আর সেই আলোয় মিটমিট করে চোখের সামনে ভেসে উঠতো বইয়ের সকল লেখাগুলো। সেই পড়াতে ছিলো মনের খুরাক। কেউ কেউ মোমবাতির আলোয় রাত কাটিয়ে দিতো অংকের সমাধান বের করতে করতে। সন্ধ্যার পর পড়ার টেবিলের সাথে সুমিষ্ট সম্পর্ক যেন এই কিছুদিন আগের কথা। কিন্তু বর্তমান সময়ে সেগুলো যেন রূপকথার কাল্পনিক গল্প কেবল। এ গল্প এসময়ে বেড়ে উঠা ছেলে-মেয়েরা বিশ্বাস করবে না সহজে। হাওয়ায় উড়িয়ে দিবে, মনে মনে ভেবে নিবে আজগুবি চিন্তাভাবনা হিসাবে। কিন্তু অতীতের ফেলে আসা পড়ালেখার প্রতি মানুষের কিরকম একটা মনোযোগ ছিলো, তা এসময়ে নেই। এখন তো কেবল ২৪ ঘণ্টা বদ্ধ ঘরের কোণে বসে, চশমার সাহায্যে টেবিলের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলতে হয়। মোমের আলোয় পড়া হয়না বললেই চলে। অত্যাধুনিক বৈদ্যুতিক আবিষ্কার লাইট, বাল্বের প্রভাবে মোমবাতি হারিকেন ইত্যাদি বিলীনের পথে। আজকাল পড়ালেখার মাঝে নেই আনন্দ,  খুঁজে পাওয়া যায় না বইয়ের প্রতি সুমধুর বন্ধন। এর পিছনে বর্তমান সময়ের কিছু জিনিস প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। আধুনিক বিশ্বে ইন্টারনেট ব্যবহার শুরু হতে জীবন থেকে জীবনের সকল চাওয়া পাওয়া যেন বদলে গেছে। ইন্টারনেটের পিছনে দৌড়ে হারিয়ে যাচ্ছে জীবনের সাথে মিশে থাকা সকল স্মৃতিময় দিনগুলো। যা হাজার চেষ্টা করেও ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। ইন্টারনেট ঝুঁকিতে দেশের যুব সমাজের একটি বৃহৎ অংশ জড়িত, যার ফলে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে চলছে যুবকরা । দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে যুব সমাজের অবদান রয়েছে বেশি। একটি দেশকে শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য যুব সমাজকে বিকশিত করে গড়ে তুলতে হয় এবং উন্নত বিশ্বে আধুনিকতার স্থান দখলেও যুব সমাজের অংশীদারিত্ব ভূমিকা পালন করে।  কিন্তু প্রযুক্তির অপব্যবহারের ফলে তা বিনষ্ট হচ্ছে। ধসে যাচ্ছে চিন্তাভাবনার বিকাশ। ফলে দেশ ও জাতি আজ যুব সমাজ ধ্বংস নিয়ে চিন্তিত। 
ইন্টারনেট ব্যবহারের ফলে পৃথিবী এসেছে হাতের মুঠোয়। ঘরে বসেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল প্রকার কাজ-কর্ম, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বহির্বিশ্বের খবরাখবর নিমিষেই পেয়ে যাচ্ছে।  প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার বিশ্বের রূপ বদলের পিছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করছে। জীবনের সংক্ষিপ্ত আকারে বিশাল একটা পরিকল্পনা নিশ্চিত করতে হলে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার করা প্রয়োজন। অনলাইন বাণিজ্য থেকে শুরু করে বিশ্বের প্রায় ৭৫-৯০ শতাংশ কাজ এখন ইন্টারনেটের মাধ্যমে করা হচ্ছে। ব্যবসা বাণিজ্য, অনলাইন শিক্ষা, মিটিং, ফেইসবুক, দূর প্রশিক্ষণ, গণযোগাযোগ মাধ্যম, ইউটিউবিং, অনলাইন শপিং, কেনাকাটা, ক্রয়-বিক্রয়, শেয়ার বাজার, বিমান টিকেট বুকিং, হোটেল বুকিং, পর্যটন শিল্পের প্রসারতা, বিদেশে ভ্রমণ, অনলাইন লেখাপড়া, ক্লাস করা, অনলাইন পাঠদান, বিনোদন, মোবাইল ফোনে বিভিন্ন ক্রিড়া, অনলাইন পত্রিকা পাঠ, প্রবাসী কল্যাণ সুবিধা, মোবাইল ব্যাংকিং, ই-কমার্স, ই-মেইল ও বিভিন্ন ইন্টারনেট কেন্দ্রিক  নানান বিষয় আজ মুহূর্তের মধ্যে ইন্টারনেটের সুফলে হচ্ছে। এক দেশ থেকে অন্যদেশের দূরত্ব কমে গেছে, যোগাযোগ ব্যবস্থায় এসেছে আমূল-পরিবর্তন। ইন্টারনেট বিশ্বকে করেছে এক মুঠো। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারে মানুষ আজকে চাঁদে ভ্রমণ করছে, মহাকাশ বিচরণ করছে। এগুলো  অস্বীকার্য এবং প্রযুক্তির আশীর্বাদ সরূপ।
কিন্তু বর্তমান সময়ে ইন্টারনেটের সঠিক ব্যবহারের চেয়ে অপব্যবহারের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। এরফলে যুব সমাজ থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ  ঝুঁকছে নানান অপরাধ জগতের দিকে। এরমধ্যে দেশের যুব সমাজের ধ্বংস একটি বড় অংশে পরিনত হয়েছে। যুব সমাজ আজ ইন্টারনেটের মাধ্যমে সবকিছু থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। মেধার অপব্যবহার যেন থামছে না। যে বয়সে পড়ার টেবিলের সাথে সুমিষ্ট সম্পর্কে আবদ্ধ হওয়ার কথা, সে বয়সে হাতে মোবাইল ফোন নিয়ে ইন্টারনেট জগতে ঘুরছে। ফলে পা বাড়াচ্ছে অপরাধ জগতের দিকে। ধ্বংস হচ্ছে সুচিন্তিত মনোভাব। বিকারগ্রস্ত হচ্ছে চিন্তাশীল মেধা বিকাশ। আধুনিক প্রযুক্তির  মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার শিক্ষার্থীদের পড়ার ইচ্ছা কমিয়ে দিচ্ছে। ইন্টারনেট আসক্তি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার বিষয়ে অনেক বেশি উদ্বিগ্ন করে তুলছে। শুধু তা-ই নয়, শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিঃসঙ্গতা-একাকিত্বের অনুভূতিও আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাচ্ছে। কম্পিউটার অ্যাসিস্টেড লার্নিং জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। যুক্তরাজ্যের সোয়ানসি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ফিল রিড এর এক বক্তব্য থেকে জানা যায় , যেসব শিক্ষার্থীর মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারের অতিরিক্ত নেশা আছে, তারা পড়াশোনায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলার তীব্র ঝুঁকিতে রয়েছেন। ইন্টারনেট আসক্ত শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যকারিতাও খুবই দুর্বল। একাডেমিক ফলাফল বিবেচনায় দেখা যায়, ইন্টারনেট আসক্তরা শিক্ষাগত যোগ্যতার মানে পিছিয়ে থাকছেন। গবেষণায় ২৮৫ জন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট কোর্সের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছেন। গবেষণা প্রতিবেদন তৈরিতে তাদের ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার, অধ্যয়নের দক্ষতা, পড়াশোনার আগ্রহ, উদ্বেগ ও একাকিত্বসহ আরো কিছু বিষয় মূল্যায়ন করা হয়েছিল। পরিশেষে দেখা যায়, অতিরিক্ত ইন্টারনেটের আসক্তি পড়ুয়াদের পড়াশোনা বিমুখ করে তুলছে। পড়াশোনার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও দক্ষতা দুটোই কমিয়ে দিচ্ছে।গবেষণা ফলাফলে দেখা যায়, ইন্টারনেট আসক্তরা তাদের পড়াশোনার কাজ গুছিয়ে করে উঠতে পারছেন না। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাভীতি কাজ করার কথা না থাকলেও ইন্টারনেট আসক্তির কারণে অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষাকে বেশ ভয় পাচ্ছেন এবং বিষয়টি নিয়ে তারা রীতিমতো উদ্বিগ্ন থাকছেন। যে কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে একাকিত্ব বাড়ছে, যা পড়াশোনাকে আরো কঠিন করে তুলছে। এমন করেই ধ্বংসের দিকে হাঁটছে যুব সমাজ। সমাজ জীবনে যার নেতিবাচক প্রভাব খুব বেশি। গবেষণাটিতে অংশ নেওয়া ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ৪ ঘণ্টার বেশি ইন্টারনেট ব্যবহারে অভ্যস্ত ছিলেন। বাকিরা ১ থেকে ৩ ঘণ্টা ইন্টারনেট ব্যবহারে অভ্যস্ত ছিলেন। জরিপে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ৪০ শতাংশ জানায়, তারা বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়া সাইট ব্যবহার করতেন। এছাড়া ৩০ শতাংশ জানায়, তারা বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য জানতে ইন্টারনেট ব্যবহার করেছেন। আমাদের দেশগুলোতে দেখা যায়, ইন্টারনেট জগতে সময় কাটানোর মাত্রা দিনে ৪-৫ ঘণ্টা এবং রাতে ৫-৬ ঘণ্টা। এতে করে মানসিক বিকারগ্রস্থতায় ব্যবহারকারীরা। মানসিক প্রশান্তি হারিয়ে ফেলছে ধীরে ধীরে। চোখের দৃষ্টি কমে যাচ্ছে। ফলে অল্প বয়সেই চশমা ব্যবহার করতে হচ্ছে। মেধা বিকাশে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে।  অন্যদিকে বর্তমান সময়ে ইন্টারনেট ব্যবহারের সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে হলো যুব সমাজ। আর এর পিছনে বর্তমান প্রেক্ষাপট হিসাবে ইন্টারনেট গেমস অন্যতম কারণ। 

বিশ্বব্যাপী যুব সমাজ ধ্বংসের পিছনে ইন্টারনেট আসক্তিকে দায়ী করেছেন গবেষকরা। তাদের দাবি, ইন্টারনেট আসক্তি যুব সমাজ কিংবা সমাজে বেড়ে উঠা সকলকে সব ধরনের কাজে  অনীহার প্রধান কারণ। এর ফলে বাড়ছে একাকিত্ব, যা হতাশাগ্রস্ত করছে যুব সমাজকে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সামগ্রিক ব্যবস্থার ওপর। শিক্ষা মনোভাব থেকে অনেকটা দূরে সরে যাচ্ছে তারা। ইন্টারনেট আসক্তি তাদের থেকে শিক্ষার প্রতি মনোভাবটুকু শেষ করে দিচ্ছে।  গবেষকরা বলছেন, উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু ইন্টারনেট আসক্তির কারণে সামাজিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে উঠছে শিক্ষার্থীরা। উচ্চশিক্ষার জন্য পড়াশোনার প্রতি ভালোবাসা, ইতিবাচক চিন্তাভাবনা তৈরি হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তরুণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ গুণাবলি না থাকা খুব একটা ভালো ফল বয়ে আনবে না।
সম্প্রতি কানাডার ম্যাকমাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, দিনে যারা অতিরিক্ত সময় ইন্টারনেট ব্যবহার করেন, তাদের মানসিক সমস্যা বাড়তে থাকে।গবেষকরা কলেজ শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেট ব্যবহারের সঙ্গে মানসিক সমস্যার সম্পর্ক বুঝতে দুটো স্কেল ব্যবহার করেন। প্রথমটি ইন্টারনেট অ্যাডিকশন টেস্ট (আইএটি)। ১৯৯৮ সাল থেকে এ স্কেলের ব্যবহার চলে আসছে। দ্বিতীয়টি নতুন স্কেল, যা ইন্টারনেট ব্যবহারের ধরন বুঝতে তৈরি করা হয়েছিল।ঐ গবেষণার প্রধান গবেষক মাইকেল ভ্যান আমেরিনজেন বলেন, গত দুই দশকে ইন্টারনেটে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। আগের চেয়ে অনেক বেশি মানুষ অনলাইনে কাজ করছেন, মিডিয়া স্ট্রিমিং করছেন এবং সোস্যাল মিডিয়ায় সময় কাটাচ্ছেন। তবে ইন্টারনেটের নেতিবাচক দিকগুলো নিয়ে এখনই সচেতন হতে হবে।

যুব সমাজকে শিক্ষাবান্ধব পরিবেশে ফিরাতে হলে চাই  পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সচেতনতা ও দায়িত্ব পালন। মোবাইল গেমসগুলো বন্ধে সরকারকে হতে হবে আরো কঠোর। শুধু দেশের সার্ভার থেকে নেতিবাচক প্রভাব ফেলা গেমসগুলো বন্ধ করলেই হবে না। বরং যেসকল সার্ভার ব্যবহার করেও এ গেমসগুলো সচল রাখা যায়, সেগুলো বন্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে শীঘ্রই । শিক্ষা ক্ষেত্রে বিনোদন, সাংস্কৃতিক, কলাকৌশলে আনতে হবে অভিনব ব্যবস্থা। অভিনবত্বের ছুঁয়ায় ইন্টারনেট ঝুঁকি ধীরে ধীরে হ্রাস পেতে থাকবে। পরিবারকে হতে হবে সবচেয়ে বড় সচেতন। অল্প বয়সে হাতে স্মার্ট ফোন ধরিয়ে  দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। বই পড়া কিংবা বই পড়তে উদ্বুদ্ধ করতে হবে এবং শিক্ষা বান্ধব পরিবেশ ঘরে তৈরি করতে হবে। ইন্টারনেটের ইতিবাচক দিক সম্পর্কে বেশি করে জানাতে হবে। ইন্টারনেটের ইতিবাচক  দিকের সঠিক ব্যবহারে উৎসাহী করতে হবে। শিক্ষকদের হতে হবে আরো সচেতন। একটি দেশের যুব সমাজ কিংবা শিক্ষার্থীদের সুন্দর ও সমৃদ্ধ পথ দেখিয়ে দেওয়ার পিছনে শিক্ষকদের ভূমিকা অপরিসীম। তারা সুশিক্ষিত জাতি গঠনে অনবদ্য। তাই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াও বর্তমান সময়ে ইন্টারনেট ঝুঁকির তীব্রতা সম্পর্কে আলোচনা করতে হবে। নেতিবাচক দিকের প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। সেইসাথে ইতিবাচক দিক সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনে সহায়তা প্রদান করতে হবে। সরকারি প্রচেষ্টায় দেশে ইন্টারনেট ঝুঁকি থেকে যুব সমাজকে বাঁচাতে বিভিন্ন কর্মশালার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এতে করে ইন্টারনেটের খারাপ প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে তারা। সম্প্রতি, ইন্টারনেট গেমসের প্রভাবে দিন রাত পার করছে স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা। দেশের করোনা মহামারী সংকটে ১৮ মাস ধরে বন্ধ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এই দীর্ঘ সময় বিরতিতে মোবাইল ফোনের প্রতি ঝুঁকে পড়ার আশঁটা বেড়েছে। রাত জেগে গেমস খেলা যেন নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এতে করে শারীরিক-মানসিক যন্ত্রণা, পীড়া ও সমস্যার সম্মুখীন যুব সমাজ। আসক্তির কারণে মানসিক বিকারগ্রস্থতায় পড়ছে তারা। এ সমস্যা শুধু কারো ব্যক্তিগত নয়, পরোক্ষভাবে এটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের উপর বর্তায়। এমন সমস্যার ফলে দেশ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে চিন্তাশীল বিচক্ষণ মেধাবীরা। যে বয়সে মেধা বিকাশের দিকে হাঁটতে শিখা প্রয়োজন, সে বয়সে স্মার্ট ফোনের অপব্যবহার কিংবা অতিরিক্ত মাত্রায় ব্যবহারের ফলে মেধা বিকাশ থমকে যাচ্ছে। স্নায়ু চাপের মধ্যে পড়ছে। মস্তিষ্ক দিন দিন কার্যকর ক্ষমতা হারাচ্ছে। এটা জাতিগত ভাবে চিন্তার প্রধান কারণ। এ থেকে একদিনে মুক্তি সম্ভব নয়। সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও ন্যায়গত সমাধানে দেশের যুব সমাজকে এই ধ্বংসের দাবানল থেকে বাঁচাতে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ দরকার। সমাজে এই আমূল-পরিবর্তন প্রয়াসী সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে এবং এগিয়ে আসতে হবে ঐক্যবদ্ধভাবে। ইন্টারনেটের সঠিক ও নিরাপদ ব্যবহারে যুব সমাজকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে এবং সেইসাথে ইতিবাচক দিকগুলো মিডিয়া মাধ্যমে পৌঁছে দিতে হবে। বাংলাদেশে ১০-২৫ বছর বয়সী যুব সমাজ  ইন্টারনেটের নেতিবাচক দিকের শিকার। এতে ঝুঁকির মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই তরুণ প্রজন্মের কাছে ইন্টারনেটের ইতিবাচক দিক ও সুফলসমূহ পৌঁছে দেওয়ার আগাম পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে সরকারকে। সেইসাথে, বর্তমান সমস্যা নিরসনে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার। ইন্টারনেট গেমসের অতিরিক্ত প্রভাব ঠেকাতে কিছু নির্ধারিত সময়ের জন্য সার্ভারে সংরক্ষণ রাখা যেতে পারে কিংবা তা বন্ধ করে দিতে হবে। বিনোদন হোক সার্বজনীন ও দৃশ্যমান। বিনোদন হোক পরিবেশ বান্ধব সবুজে ঘেরা কোনো স্থানে। ইন্টারনেট বিনোদন থেকে সরাসরি বিনোদন ব্যবস্থা অধিকতর জরুরি। দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ কর্ণধারদের ইন্টারনেট ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে সকলকে সচেতন হওয়া দরকার ও এসমস্যা রোধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করা প্রয়োজন। 

(মো: ফেরদৌস রহমান:  শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক)

Share This Post