আজ দ্বিতীয় দিনে করোনার টিকা নিতে আগ্রহী মানুষের ভিড়

আজ দ্বিতীয় দিনে করোনার টিকা নিতে আগ্রহী মানুষের ভিড়

গতকাল সারাদেশে একদিনে রেকর্ড ২৮ লাখ ৩৬ হাজার ৯৭০ জন টিকা দেওয়া হয়েছে। ২৭ লাখ ৮৩ হাজার ১৭২ জন নিয়েছেন প্রথম ডোজ আর দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৭৯৮ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ১৫ লাখ ১৪ হাজার ৯৩৮ এবং নারী ১২ লাখ ৬৮ হাজার ২৩৬ জন। দেশে এ পর্যন্ত এক কোটি ৩০ লাখ ৭২ হাজার ৯৬৯ জন প্রথম ডোজের টিকা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে সিনোফার্মের টিকা নিয়েছেন ৫৮ লাখ ১৭ হাজার ৩৩ জন। আর মডার্নার টিকা নিয়েছেন ১৩ লাখ ৮৫ হাজার ৬১৮ জন।

আজ দ্বিতীয় দিনে করোনার টিকা নিতে আগ্রহী মানুষের ভিড় দেখা গেছে। টিকা নেওয়ার জন্য লম্বা লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছেন লোকজন।সকাল থেকেই গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছিলো। এরমধ্যেই অনেকে ভোরে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছেন করোনার টিকা নেওয়ার জন্য। প্রতিদিন সারাদেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত এই টিকাদান কর্মসূচি চলছে। বৃষ্টি উপেক্ষা করেও আগ্রহী সব শ্রেণি-পেশার মানুষ টিকার নেওয়ার জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছেন। আগামী ১২ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে ক্যাম্পেইন চালিয়ে ৩২ লাখ মানুষকে করোনা টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হবে।গ্রাম, শহর ও দুর্গম এলাকার মানুষ ছয় দিনে পর্যায়ক্রমে টিকা পাবেন। এছাড়াও মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদেরও টিকা দেওয়া হবে। শনিবার ঢাকা মহানগরে টিকা নিয়েছেন ৮১ হাজার ২৮৭ জন, যাদের ২৩ হাজার ৬২৮ জন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বাসিন্দা।শনিবার প্রথম ডোজ হিসেবে সবচেয়ে বেশি ৭ লাখ ২১ হাজার ৯৭৩টি টিকা দেওয়া হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে। এছাড়া ময়মনসিংহ জেলায় এদিন প্রথম ডোজ টিকা পেয়েছেন এক লাখ ৯ হাজার ২২৯ জন।মহামারীতে আক্রান্ত ও মৃত্যু ঠেকাতে ১৪ কোটি নাগরিককে বিনামূল্যে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। ভারত থেকে টিকা না আসায় চীন থেকে টিকা কিনছে সরকার। পাশাপাশি টিকা সরবরাহের বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম কোভ্যাক্স থেকেও টিকা আসতে শুরু করেছে। সরকারের কেনা, উপহার পাওয়া এবং কোভ্যাক্সের মাধ্যমে পাওয়া টিকা মিলিয়ে এ পর্যন্ত দেশে এসেছে দুই কোটি ৫৬ লাখ ৪৩ হাজার ৯২০ ডোজ টিকা।নতুন করে টিকা আসতে থাকায় বড় পরিসরে ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইন করে বিরাট জনগোষ্ঠীকে নিয়ে আসতেই পরীক্ষামূলক ধাপ হিসেবে এবার টিকা প্রদান করা হচ্ছে।বাংলাদেশে ৪০ শতাংশ নাগরিককে টিকা দিতে ১৩ কোটি ১৮ লাখ ডোজ টিকা লাগবে। আর ৬০ শতাংশকে টিকা দিতে লাগবে প্রায় ২০ কোটি ডোজ টিকা।

শিশুরা করোনাভাইরাসে প্রবলভাবে আক্রান্ত হচ্ছে না- এমন ধারণা দিন দিন দুর্বল হয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। করোনাভাইরাসের অতিসংক্রামক ডেল্টা ধরনের কারণে শিশুদের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি।
প্রাপ্তবয়স্করা যখন স্কুলে মাস্ক পরার বাধ্যবাধকতা কিংবা বেশি বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়া নিয়ে বিতর্ক করছেন, তখন যারা টিকা পায়নি তারা ডেল্টায় আক্রান্ত হচ্ছে। এর মধ্যে টিকা দেওয়ার বয়স হয়নি এমন শিশুও রয়েছে।

বেশিরভাগ শিশুকেই বিভিন্ন রোগের প্রতিষেধক টিকা দেওয়ায় অন্যান্য সংক্রামক রোগের চেয়ে কোভিড-১৯ এখন বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন ‘ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড স্কুল অব মেডিসিন’ এর শিশুরোগ বিষয়ের অধ্যাপক জেমস ক্যাম্পবেল। উচ্চ মাত্রার সংক্রামক করোনাভাইরাসের ডেল্টা ধরনের কারণে কিন্ডারগার্টেন থেকে গ্রেড ১২ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক এবং দর্শনার্থীদের মাস্ক পরার পরামর্শ দিচ্ছে সিডিসি। পূর্ণ বয়স্কদের মতো শিশুদের মধ্যেও ‘দীর্ঘস্থায়ী কোভিড’ বা আক্রান্ত হওয়ার কয়েক সপ্তাহ কিংবা কয়েক মাস পর নানা ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

টিকাপ্রাপ্ত এবং টিকাহীন ব্যক্তি সংক্রমিত হলে তারা উভয়ই সমানভাবে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়াতে পারে।টিকাপ্রাপ্ত আক্রান্ত ব্যক্তি অন্যদের মাঝে সমানভাবে সংক্রমণ ছড়াতে পারেন বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র। টিকাপ্রাপ্ত লোকদের মাস্ক পড়া এবং ঘরে থাকা জরুরি তবে ভ্যাকসিনগুলো ডেল্টা ভেরিয়েন্টের ক্ষেত্রে ভালো কাজ করে, গুরুতর অসুস্থতা এবং মৃত্যু রোধ করতে পারে।

মিজোরামের পর কর্নাটকেও মিলল করোনার নতুন রূপ ‘ইটা’র সংক্রমণের তথ্য। যেহেতু ভাইরাসের রূপ জানতে ‘জিনোম সিকোয়েন্সিং’ করতে কিছুটা সময় লাগে। তাই ইটা’র উপস্থিতি জানতে কিছুটা সময় লাগে। প্রথমে মিজোরামে এই রূপের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। তবে সেই সংক্রমণ ছড়ায়নি। কিন্তু কয়েক দিনের ব্যবধানে কর্নাটকেও সংক্রমণের খোঁজ মেলায় চিন্তা বাড়ছে প্রশাসনের। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে বিশ্বে প্রথম ইটা সংক্রমণের খবর মেলে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে কোনও একটি নির্দিষ্ট দেশে এই সংক্রমণ শুরু হওয়ার কথা বলা হয়নি।

Share This Post