আগামী মাস থেকে প্রতি মাসে দুই কোটি টিকা: প্রধানমন্ত্রী

আগামী মাস থেকে প্রতি মাসে দুই কোটি টিকা: প্রধানমন্ত্রী

অকা ডেস্ক
সংসদ অধিবেশেন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সিনোফার্ম হতে দেয়া সিডিউল অনুযায়ী আগামী অক্টোবর মাস থেকে প্রতি মাসে দুই কোটি হিসেবে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় কোটি টিকা পাওয়া যাবে।’ করোনাভাইরাস প্রতিরোধে প্রতি মাসে এক কোটি টিকার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। করোনার টিকা উদ্ভাবনের আগে থেকে এই টিকার টাকা আলাদা করে রাখা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। বুধবার বিকেলে একাদশ জাতীয় সংসদের ১৪তম অধিবেশনে আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য মো. শহীদুজ্জামান সরকারের লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সংসদকে এসব তথ্য জানান। অধিবেশনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তরসহ অন্যান্য মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়েছে বলে ঘোষণা দেন স্পিকার। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে করোনা প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পরপরই সংক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা হিসেবে বিনামূল্যে টিকা দেয়ার বিষয়টি আমার সরকার অগ্রাধিকার দিয়েছে। এজন্য করোনা টিকা আবিষ্কার ও ব্যবহারের অনুমতি পাওয়ার আগেই টিকা সংগ্রহ ও টিকা দেয়ার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এ পর্যন্ত ২৪ কোটি ৫৪ লাখ ৫২ হাজার ৭০০ ডোজ টিকা সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বের সকল টিকা উৎপাদনকারী সংস্থার সঙ্গেই আমরা যোগাযোগ করেছি, এর মধ্যে কেবল ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে সাড়া পাই এবং অগ্রিম টাকা দিয়ে আমরা তিন কোটি ডোজ টিকা সংগ্রহের জন্য চুক্তি স্বাক্ষর করি। কিন্তু অন্যান্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান থেকে টিকা প্রাপ্তির কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, ‘পরবর্তীতে কেবলমাত্র চীনের সিনোফার্ম এবং রাশিয়ার স্পুটনিক ভি হতে সাড়া পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা টিকা সংগ্রহের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করি। এর মধ্যে সিনোফার্মের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের জন্য সমঝোতা চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে।’
টিকা প্রাপ্তির পরিসংখ্যান তুলে ধরে সংসদ নেতা বলেন, ‘৩০ আগস্ট পর্যন্ত ১ কোটি ৮২ লাখ ৮৯ হাজার ১৮ জনকে প্রথম ডোজ এবং ৭৮ লাখ ৪০ হাজার ৬৯ জনকে দ্বিতীয় ডোজ মিলিয়ে সর্বমোট ২ কোটি ৬১ লাখ ২৯ হাজার ১৮৭ ডোজ টিকা প্রদান করা হয়েছে। ৩০ আগস্ট পর্যন্ত ভ্যাকসিন মজুদের পরিমাণ ১ কোটি ১৮ লাখ ৯৬ হাজার ৩৪৩ ডোজ।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে টিকা সংগ্রহ ও বিনামূল্যে টিকাদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ পর্যন্ত (৩০ আগস্ট পর্যন্ত) ২৪ কোটি ৫৪ লাখ ৫২ হাজার ৭০০ ডোজ টিকা সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক উপহার হিসেবে ভারত থেকে অ্যাস্ট্রাজেনেকা (কোভিডশিল্ড) ৩২ লাখ ডোজ এবং চীনের সিনোফার্ম টিকার ২১ লাখ ডোজ টিকা এসেছে। কোভ্যাক্সের মাধ্যমে উপহার হিসেবে মর্ডানা টিকার ৫৫ লাখ, সিনোফার্মের টিকার ৩৪ লাখ ৭১ হাজার ৬০০ ডোজ এবং ফাইজারের টিকার ১ লাখ ৬২০ ডোজ পাওয়া গেছে। এছাড়া আরও ৬০ লাখ ২০ হাজার ৮২০ ডোজ ফাইজার টিকা প্রাপ্তির প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ক্রয় চুক্তির আওতায় ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের সাথে ৩ কোটি, চীনের সিনোফার্ম ইন্টারন্যাশনালের সাথে ৭ কোটি ৭০ লাখ ডোজ টিকা ক্রয়ের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। রাশিয়া থেকে ১ কোটি ডোজ স্পুটনিক ভি টিকা ক্রয়ের চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। কোভ্যাক্সের মাধ্যমে ৩ কোটি ডোজ সিনাফার্ম ও ৭ কোটি ৫০ লাখ ডোজ সিনোভ্যাক টিকা ক্রয়ের বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এশিয়ান ডেভলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে ৭০ মিলিয়ন ডোজ জনসন অ্যান্ড জনসন টিকা, ৩০ মিলিয়ন ডোজ সিনোফার্ম এবং ৭৫ মিলিয়ন ডোজ সিনোভ্যাক টিকা কোভ্যাক্স থেকে ক্রয়ের প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠানো হয়েছে। প্রতি মাসে যাতে এক কোটি ডোজের বেশি টিকা পাওয়া যায় তার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সিনোফার্ম হতে প্রদত্ত সিডিউল অনুযায়ী আগামী অক্টোবর মাস থেকে প্রতি মাসে ২ কোটি হিসেবে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ কোটি টিকা পাওয়া যাবে। চলমান টিকা কার্যক্রম জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সকল বিভাগীয় সদর, জেলা সদর ও উপজেলা সদরে অবস্থিত ৬৭৩টি টিকাকেন্দ্রের মাধ্যমে জনগণকে টিকা প্রদান করা হচ্ছে। টিকা প্রদান কেন্দ্র ইউনিয়ন পর্যায়ে বিস্তৃত করা হয়েছে। টিকা প্রদানে প্রয়োজনীয় জনবলকে ইতোমধ্যে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। গত ৭ আগস্ট টিকা ক্যাম্পেইন চলার সময় একদিনে ৩০ লাখ ৯১ হাজার ৬৩২ ডোজ টিকা প্রদান করা হয়েছে।’

Share This Post