অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার দ্বিতীয় চালান ঢাকায় : রবি বা সোমবার দ্বিতীয় ডোজ পাবেন অপেক্ষমানরা

অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার দ্বিতীয় চালান ঢাকায় : রবি বা সোমবার দ্বিতীয় ডোজ পাবেন অপেক্ষমানরা

টিকার বৈশ্বিক উদ্যোগ কোভ্যাক্সের এর আওতায় দ্বিতীয় চালানে বাংলাদেশকে দেওয়া জাপানের উপহারের ৭ লাখ ৮১ হাজার ৩২০ ডোজ অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা ঢাকায় পৌঁছেছে। অল নিপ্পন এয়ারওয়েজের একটি কার্গো প্লেনে এসব টিকা শনিবার বিকাল সোয়া ৩টার দিকে ঢাকায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শাহাবুদ্দিন ফ্লাইটটি ঢাকা যাত্রার সময় বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে ২৪ জুলাই প্রথম দফায় অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার দুই লাখ ৪৫ হাজার ২০০ ডোজ টিকা ঢাকায় পৌঁছায়। আগামী ৩ আগস্ট জাপান থেকে ছয় লাখ অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার আরেকটি চালান ঢাকায় আসার কথা রয়েছে।

এদিকে আজশনিবার বিকালে জাপান থেকে আসা উপহারের আট লাখ ডোজ অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা গ্রহণকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, যারা আগে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছেন কিন্তু ভ্যাকসিন সংকটে দ্বিতীয় ডোজ পাননি, রবি বা সোমবার থেকে তাদের দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া শুরু হবে।
ভারতে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় পর অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা উদ্ভাবিত কোভিশিল্ড ভ্যাকসিনের প্রতিশ্রুত তিন কোটি ডোজ ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ করে সেরাম। এতে সংকটে পড়ে বাংলাদেশ। ওই সময় যারা অ্যাস্ট্রাজেনেকার উদ্ভাদিত কোভিশিল্ড ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নিয়েছিলেন তাদের অনেকেই দ্বিতীয় ডোজ দিতে পারেননি।

টিকা বিতরণের বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম কোভেক্সের আওতায় বাংলাদেশকে ৩০ লাখ ডোজ অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন উপহারের ঘোষণায় দ্বিতীয় ডোজের অপেক্ষায় থাকা প্রায় ১৫ লাখ মানুষ টিকা পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোয় জাপানকে ধন্যবাদ জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, জাপান যে বাংলাদেশের বন্ধু তা আজও প্রমাণ করলো। আমি জাপানকে ধন্যবাদ জানাই। মন্ত্রী আরও বলেন, আমরা আগামীকাল অথবা পরশু থেকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দেওয়া শুরু করবো দ্বিতীয় ডোজ যারা পায়নায় তাদের জন্য।

অন্যদিকে গত এক দিনে মহামারি করোনাভাইরাসে দেশে ২১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া গত কয়েক দিনের তুলনায় কম নমুনা পরীক্ষা উল্লেখিত সময়ে শনাক্ত হয়েছেন কম। এ সময়ে শনাক্ত হন ৯ হাজার ৩৬৯ জন। এ নিয়ে মোট শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ ৪৯ হাজার ৪৮৪ জন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী, কোনো দেশে টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ধরা যায়। বিশেষজ্ঞরা এটাকে বাংলাদেশে করোনার ‘দ্বিতীয় ঢেউ’ বলছেন। করোনা সংক্রমণ মারাত্মক আকার ধারণ করায় ২৩ জুলাই থেকে আবার ৫ আগস্ট পর্যন্ত কঠোর লকডাউন চলছে।
করোনা মহামারির প্রকোপ রোধে চলমান কঠোর বিধিনিষেধ আগামী ৫ আগস্ট পর্যন্ত চলার পর তা শিথিল করার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। মানুষের জীবন-জীবিকার কথা চিন্তা করে এমন সিদ্ধান্তের কথা ভাবা হচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে করোনার সংক্রমণ কমানো আমাদের মূল লক্ষ্য। কী উপায়ে কাজ ঠিক রাখা যায়, আবার সংক্রমণ কমানো যায়, এমন সব বিকল্প উপায় নিয়ে চিন্তা করা হচ্ছে। ব্যবস্থা নিতে একটু সময় লাগবে। যেহেতু শিল্প কারখানা খুলে দেওয়া হয়েছে, তাহলে তো লকডাউন কঠোর থাকল না। শিল্প কারখানাও ধাপে ধাপে খুলে দেওয়া হবে। অন্যান্য অফিস পুরো খুলবে নাকি সীমিত পরিসরে খোলা রাখা যাবে, সেসব বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ৩ কিংবা ৪ আগস্ট এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। তবে সবকিছুই নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনার ওপর।’
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরামর্শ দেখে সবকিছুর সমন্বয় করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী।

Share This Post