অস্বাস্থ্যকর খাবার সন্তানদের না দেয়ার অঙ্গীকার অভিভাবকদের

অস্বাস্থ্যকর খাবার সন্তানদের না দেয়ার অঙ্গীকার অভিভাবকদের

বাংলাদেশ সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে সফল হলেও অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে বহুলাংশে পিছিয়ে আছে। দেশের মোট মৃত্যুর ৬৭% শতাংশের কারণ অসংক্রামক রোগ। আচরণগত পরিবর্তন, যেমন- স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা, নিয়মিত ও পর্যাপ্ত শারীরিক পরিশ্রম করা, ক্ষতিকর মাদক ও তামাকজাত পণ্য পরিহার ইত্যাদির মাধ্যমে অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য ভ‚মিকা রাখা সম্ভব। শিশু-কিশোরদের অস্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ এবং ধূমপান থেকে বিরত রাখতে হলে এ পণ্যগুলোর বিজ্ঞাপন বন্ধে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি স্বল্প দূরত্বে ও বিদ্যালয়ে হেঁটে যাতায়াতে উদ্বুদ্ধ করতে হলে হেঁটে যাতায়াতের নিরাপদ ও স্বচ্ছন্দ পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। আজ ৬ ডিসেম্বর ২০২১ সকাল ১১.০০ টায় এ্যাস্ট্রাজেনেকা, ঢাকা আইডিয়াল ক্যাডেট স্কুল এবং ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর সম্মিলিত উদ্যোগে সংস্থার কৈবর্ত সভাকক্ষে আয়োজিত ‘অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে বিদ্যালয়ে হেঁটে যাতায়াত’ শীর্ষক ঢাকা আইডিয়াল ক্যাডেট স্কুলের অভিভাবকদের সাথে মতবিনিময় সভায় বক্তারা এ কথা বলেন।
সভায় বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্যকর খাবারের যোগানের অভাব এবং অতিরিক্ত দাম, ব্যায়াম ও হাঁটার অনুক‚ল পরিবেশ না থাকা, উন্মুক্ত স্থান- খেলার মাঠের অভাব, প্যাকেটজাত খাদ্যদ্রব্য ও তামাকজাত দ্রব্যের সহজলভ্যতার কারণে অসংক্রামক রোগ বহুলাংশে বেড়ে যাচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ ও কোমল পানীয়, ফাস্টফুড, জাঙ্কফুড, প্যাকেটজাত খাবার ও তামাকজাত দ্রব্য গ্রহণ থেকে বিরত থাকা, স্বল্প দূরত্বের পথ ও বিদ্যালয়ে হেঁটে যাতায়াত করা, প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট হাঁটা অথবা শারীরিক ব্যায়াম করা, শিশুদের খেলাধূলা ও সাইকেল চালানোর সুযোগ সৃষ্টি, সর্বোপরি, ব্যক্তি পর্যায়ে আচরণগত পরিবর্তন ও সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন।
বক্তারা আরো বলেন, বর্তমানে শিশু-কিশোররা ফাস্ট ফুড-জাঙ্ক ফুড খাওয়ার দিকে ঝুঁকে পড়েছে। এর অন্যতম কারণ হলো এ ধরণের খাবারের আকর্ষণীয় মোড়ক, বিজ্ঞাপন ও সহজলভ্যতা। এ ধরণের পণ্যের বিজ্ঞাপন ও সহজলভ্যতা বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ গ্রহণ আবশ্যক। বিশেষত বিদ্যালয়ের আশেপাশে অস্¦াস্থ্যকর খাদ্য, কোমলপানীয় ও তামাকজাতজাত পণ্যের প্রাপ্যতা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা জরুরি। বিদ্যালয়ে হেঁটে যাতায়াত শিক্ষার্থীদের শারীরিক পরিশ্রমের চাহিদা পূরণের একটি সহজ মাধ্যম। এজন্য বিদ্যালয়ে হেঁটের যাতায়াতের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত ফুটপাত তৈরি ও রক্ষনাবেক্ষণ, সমতলে রাস্তা পারাপারে জেব্রা ক্রসিং, অবৈধ পার্কিং বন্ধে স্থানীয় সরকারকে সচেষ্ট হতে হবে। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও বিদ্যালয়ে হেঁটে যাতায়াত উভয়ই অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী ভ‚মিকা পালনে সক্ষম।
অভিভাবকগণ তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে হেঁটে যাতায়াত এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। পরিশেষে তারা সন্তানদের অস্বাস্থ্যকর খাবার দেয়া থেকে বিরত থেকে ঘরে তৈরি খাবার দেয়ার অঙ্গীকার করেন।
ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর পরিচালক গাউস পিয়ারীর সভাপতিত্বে এবং সিনিয়র প্রজেক্ট অফিসার জিয়াউর রহমানের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংস্থার প্রকল্প কর্মকর্তা নাঈমা আকতার এবং বক্তব্য রাখেন ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার সৈয়দা অনন্যা রহমান, ঢাকা আইডিয়াল ক্যাডেট স্কুলের প্রধান শিক্ষক এম এ মান্নান মনির। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকা আইডিয়াল ক্যাডেট স্কুলের শিক্ষক ও অভিভাবকবৃন্দ।

Share This Post