জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের অবৈধ স্থাপনায় উচ্ছেদ অভিযান

জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের অবৈধ স্থাপনায় উচ্ছেদ অভিযান

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার পানপাড়া বাজারের সড়কের পাশে পাউবোর প্রবাহমান খাল অবৈধভাবে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. সাহজাহান তার একান্ত সহকারিকে লিজ দিয়ে ইমারত নির্মান করেন। খবর পেয়ে রামগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে নির্মান সামগ্রী জব্দ করে। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের এহেন কর্মকান্ডে লক্ষ্মীপুরে সমালোচনা ঝড় বইছে।

সুত্রে জানাযায়, লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শাহজাহান বেআইনি ভাবে উপজেলার পানপাড়া বাজারের সড়কের পাশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রবাহমান খালের উপর কোটি টাকা মূল্যের জায়গা জেলা পরিষদের উল্লেখ করে চেয়ারম্যানের  একান্ত সহকারি সায়েমকে লিজ দেয়া হয়। সায়েম সে জায়গা অবৈধ দখল করে দোকান ঘর নির্মাণ করে । খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপ্তি চাকমা এবং উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) হুমায়ুন রশিদ সোমবার বিকেলে নির্মানাধীন দোকানঘরে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে ইমারত ভেঙ্গে চুরমার করে নির্মান সামগ্রী জব্দ করে নিয়ে যান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, আলহাজ্ব মো. শাহাজান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়ার পর রামগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সরকারি জায়গা দখলকরে শত শত দোকান ও নানা স্থাপনা নির্মান করেছে। যে হারে সরকারি জায়গা দখল হচ্ছে, তাতে আগামী দু-এক বছরের মধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং জেলা পরিষদের নামে কোন জায়গার অস্তিত্ব রামগঞ্জে খুঁজে পাওয়া যাবে না। তার আত্বীয়-স্বজনরা প্রতিনিয়ত দিনেদুপুরে সরকারি জায়গা ভরাট করে দখল করে রাতারাতি বিশাল পাকা স্থাপনাও গড়ে তুলছে। এ স্থাপনাগুলো চড়ামূল্যে অন্যের কাছে বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। স্থানীয়রা আরো জানান, পানিয়ালা বাজারে সরকারি জায়গা দখল করে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তার ছেলের নামে বিশাল মার্কের করেছে। তার অনেক আত্বীয়-স্বজন সরকারি জায়গা দখলেও রেখেছে।  

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছ, পাউবোর জায়গা জেলা পরিষদ লিজ দেওয়ার এখতিয়ার রাখেনা। দখলকৃত সরকারি জায়গা উদ্ধার করতে উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। এর আগে কয়েকবার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেয়া হলেও রহস্যময় কারণে উচ্ছেদের ফাইল উধাও হয়ে যায়।

উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) হুমায়ন রশিদ জানান, পাউবোর জায়গা লিজ দেওয়ার একতিয়ার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের নেই। তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের প্রতি নির্দেশ আছে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের । তাই কে অবৈদখলদার তা আমাদের দেখার বিষয় নয়।

এর বেশ কিছুদিন আগে লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহজাহানের কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি ও টেন্ডার বাণিজ্যে সায় না দেয়ায় পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মীর শওকত হোসেনকে তদবির করে অন্যত্র বদলী করা হয়। সে সময় একাধিকবার জেলা পরিষদ কার্যালয় দুদকের অভিযান চল্লেও প্রভাবশালী চেয়ারম্যান শাহজাহানের অনিয়ম দুর্নীতি কিছুতেই থামানো যাচ্ছেনা। এতে মুজিব বর্ষেও লক্ষ্মীপুরের উন্নয়ন অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের অনিয়ম দুর্নীতিতে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসন, সাধারণ মানুষ ও আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ-বিক্ষোভ বিরাজ করছে।

Ahsan Khan

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *